৭০ বছর পর ভিন্নভাবে বাজারে আসছে হিটলারের ‘মেইন ক্যাম্প’

বিদেশ ডেস্ক১৮:৪১, জানুয়ারি ০১, ২০১৬

হিটলারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ মেইন ক্যাম্প৭০ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর আগামী সপ্তাহে ভিন্ন আঙ্গিকে আবারও বাজারে আসছে কুখ্যাত জার্মান একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের আত্মজীবনীমূলক রাজনৈতিক ইশতেহার ‘মেইন ক্যাম্প’। তবে  যে বই লাখ লাখ মানুষকে নাৎসি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করেছিল, সেই বইটি যেন নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে না পারে সেজন্য যুক্ত করা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ মন্তব্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বইটি এমন করে বাজারে আনা হচ্ছে যেন মানুষ নাৎসিবাদের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
হিটলার আর তার নাৎসি ভাবাদর্শের পরিণতি গোটা বিশ্বের ইতিহাসে তুলনাহীন৷ যুদ্ধ-সংঘর্ষ ছাড়াই ঠাণ্ডা মাথায় কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে সুপরিকল্পিতভাবে ৬০ লক্ষ মানুষের নিধনযজ্ঞের ঘটনা এর আগে অথবা পরে ঘটেনি৷ ইহুদি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হিটলার ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প' তৈরি করিয়েছিলেন, যেখানে ‘দক্ষতার সঙ্গে' গ্যাস চেম্বারে মানুষ মারার ব্যবস্থা ছিল৷
উল্লেখ্য, মেইন ক্যাম্প প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে। এর আট বছর পরই হিটলার ক্ষমতায় আসেন। ১৯৪৫ সালে বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর স্টেট অব ব্যাভারিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে বইটির স্বত্ব দিয়ে দেয় মিত্র বাহিনী। উস্কানি বন্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এন্টি সেমিটিক বইয়ের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করে ব্যাভারিয়া’র আঞ্চলিক সরকার। এতে কপিরাইটের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে ৩১ ডিসেম্বর ‘মেইন ক্যাম্পে’র কপিরাইটের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
বর্তমানে আর কোনও আইনি বিধিনিষেধ না থাকায় বইটির বিভিন্ন সংস্করণ যেন বাজারে ছড়িয়ে যেতে না পারে, জার্মানির সব রাজ্যের বিচারমন্ত্রীরা ২০১৪ সালের শুরুতেই তার প্রস্তুতি নিয়েছেন৷ জার্মানির ফেডারেল বিচারমন্ত্রীও এর প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন৷ এই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে বইটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঐতিহাসিকদের এক প্রতিষ্ঠান মিউনিখের দ্য ইন্সটিটিউট অব কনটেম্পোরারি হিস্ট্রি।

নতুন সংস্করণে মূল বইয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কয়েক হাজার একাডেমিক নোট। এসব নোটের মাধ্যমে এটা দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে,বইটি অসংলগ্ন ও বাজে। আগামী ৮ জানুয়ারি ‘মেইন ক্যাম্প'-এর প্রায় ২,০০০ পৃষ্ঠার এক ‘ক্রিটিকাল এডিশন' প্রকাশিত হবে৷ অর্থাৎ হিটলারের নিজস্ব লেখার পাশাপাশি থাকবে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য৷ উদ্দেশ্য, বইটিকে ঘিরে যে ‘মিথ' বা এক ধরনের সম্ভ্রম রয়েছে, তা দূর করে সঠিক প্রেক্ষাপটে হিটলারের বিকৃত মানসিকতা তুলে ধরা৷ আজকের জার্মানিতেও যারা নব্য নাৎসি ভাবধারার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে,তাদেরও এর মাধ্যমে সতর্ক করে দিতে চান মিউনিখের ঐতিহাসিকরা৷

ঐতিহাসিকরা বলছেন,বইটির নতুন সংস্করণ নাজি আমলকে বুঝতে একাডেমিকদের সাহায্য করবে। অনেক ইহুদি গ্রুপও এই প্রকাশনাকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, এটা হলোকাস্ট বা হিটলারের ইহুদি নিধনযজ্ঞকে বুঝতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এর বিপরীত বাস্তবতাও রয়েছে। কিছু কিছু ইহুদি সংগঠন আশংকা করছে, এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে৷ মানবতা ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি এই বই পড়ে বরং বাড়তি উৎসাহ পেতে পারে৷  সূত্র: বিবিসি, ডয়চে ভেলে।

/এমপি/বিএ/

লাইভ

টপ