বিমানঘাঁটির হামলায় সন্দেহভাজনদের খোঁজে বিস্তৃত অভিযান, নিরাপত্তা জোরদার

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৪২, জানুয়ারি ০২, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৫, জানুয়ারি ০২, ২০১৬

পাঞ্জাবের বিমান ঘাঁটির হামলাকারীদের খুঁজতে অভিযানভারতের পাঞ্জাবের বিমান ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সন্দেহভাজনদের খোঁজে চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকলেও তারা পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করছে সেনাবাহিনী। আর সেই ধারণা থেকে সন্দেহভাজনদের খুঁজতে অভিযান বিস্তৃত করা হয়েছে। সেনা সূত্রের বরাতে খবরটি জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। এদিকে পাঞ্জাবের বিমান ঘাঁটিতে হামলাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পাঞ্জাবজুড়েও জারি আছে সতর্কতা। এরইমধ্যে হামলার নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান।
শনিবার দিবাগত রাতে পাঠানকোট এলাকার ওই বিমান ঘাঁটিতে  সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ও হামলাকারীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিন জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং চারজন হামলাকারী। তবে ঠিক কতজন হামলায় অংশ নিয়েছিল তা নিশ্চিত না হওয়া গেলেও ধারণা করা হচ্ছে হামলাকারীর সংখ্যা কমপক্ষে ৬ জন। এখনও কেউ হামলার দায় স্বীকার না করলেও প্রাথমিকভাবে পাকিস্তানি সশস্ত্র সংগঠন জয়েশ ই মোহাম্মদকে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে হিন্দুস্থান টাইমস এর খবরে বলা হয়, হামলাকারীরা পাকিস্তান থেকে তিন দিন আগে পাঞ্জাবের ভাওয়ালপুর অঞ্চলে প্রবেশ করে। আর দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে আশংকা করা হয়েছে, হামলাকারীরা পাকিস্তান থেকে শুক্রবার (১ জানুয়ারি) ভারতে প্রবেশ করে এবং শনিবারের হামলা (২ জানুয়ারি) পরিচালনা করে। এদিকে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়,সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ভারতসহ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে পাকিস্তান অঙ্গীকারবদ্ধ।

শনিবার সকালে চার হামলাকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করার পর বন্দুকযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। তবে বেঁচে যাওয়া হামলাকারীদের খোঁজে চিরুনি অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই অভিযানের মধ্যেই ঘাঁটির ভেতর থেকে গুলির শব্দ পাওয়ার পর হামলাকারীদের কেউ এখনও ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়। তবে সেনা সূত্র জানায়, হামলাকারীরা পরে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই তাদের খুঁজতে অভিযান বিস্তৃত করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নিয়েছে হেলিকপ্টারও।  

 পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে পাঞ্জাবজুড়েও সর্বোচ্চ সতর্কতা বহাল রয়েছে।

ভারতীয় একটি বিমান ঘাঁটির সামনে সেনাদের অবস্থান

এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, দিল্লির দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের জনবহুল বাজার, বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন, বাস স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায়  নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের অপরাধ শাখা ও বিশেষ সেলের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পুলিশকে বিশেষ সতর্কতায় থাকতে বলা হয়েছে। সোয়াত এবং জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণকারী দলকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে । হামলার পরই পাঞ্জাবজুড়ে সতর্কতা জারি করে রাজ্য পুলিশ। পাঠানকোটের সেনা ইউনিট এবং জম্মুর পুলিশও পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

কর্তৃপক্ষের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, এই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের ক্ষমতাশালীদের কোন অংশের সংযোগ আছে কিনা তা জানা সম্ভব না হলেও এই ঘটনা দুই দেশের শান্তি প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছে ভারতীয় ওই সংবাদমাধ্যম। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়,এই ঘটনার পর দিল্লির জন্য ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজটি কঠিন হয়ে পড়লো।

সতর্ক অবস্থানে পাঞ্জাব পুলিশ

বিমান বাহিনীর সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দিনগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে হামলা শুরু হয়। তবে হামলাকারীরা কিভাবে ঘাঁটিতে ঢুকে পড়লো, তা নিয়ে রয়েছে দ্বিমত। একদল বলছেন, সেনা পোশাক পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি ব্যবহার করে তারা ঘাঁটিতে ঢুকে পড়ে। আবার আরেকদলের ভাষ্য, কাছাকাছি এক ভবন থেকে গুলি করতে করতে তারা ঘাঁটিতে ঢুকে পড়ে।

বিমান বাহিনী সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাঁটিতে ঢুকতে সমর্থ হলেও হামলাকারীরা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করতে সমর্থ হয়নি। বিমান ঘাঁটির মূল্যবান সামগ্রী নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হলেও ঘাঁটিতে থাকা মিগ ২৯ বিমান এবং হেলিকপ্টারগুলো নিরাপদ আছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে বিমান বিমান বাহিনীর গার্ড কমান্ডো আর স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং বিএসএফ অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

উল্লেখ্য, বিমান ঘাঁটিতে হামলা হওয়ার ঠিক ১২ ঘণ্টা আগে পাঠানপুর-জম্মু সড়ক থেকে অপহৃত হন গুরুদাসপুর পুলিশের সাবেক এসপি সালবিন্দর সিং। ঘণ্টাখানেক পর অবশ্য ছাড়া পান তিনি। হামলার সঙ্গে ওই ঘটনার সংযোগ আছে বলে দ্যা হিন্দুর কাছে আশংকা প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা সূত্র। গতকালই (শুক্রবার) জঙ্গি হামলার আঁচ পেয়ে বিমানবাহিনীর সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছিলেন জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টারা। ওই এলাকায় নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছিল। সূত্র: দ্য হিন্দু, হিন্দুস্থান টাইমস, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ