behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

স্যাটায়ারে মোদির আত্মস্বীকৃত ৭টি ভুল এবং একটি তালগোল!

ফাহমিদা উর্ণি১৭:১০, জানুয়ারি ০২, ২০১৬

গুজরাট দাঙ্গার রক্তের অদৃশ্য ছোপ হাতে নিয়েই ২০১৪ সালে দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি। ক্ষমতায় আসার মোটামুটি দেড় বছর কাল পার করে এরইমধ্যে তিনি জন্ম দিয়েছেন নানা আলোচনা-সমালোচনা আর হাস্যরসের। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে উন্নয়নকেই প্রচারণার উপজীব্য করেছিলেন তিনি। তবে অর্থনৈতিক খাতে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি ভারতের। ব্যক্তিগতভাবে তার অত্যন্ত প্রচারমুখী স্বভাবকেও ভালোভাবে নেয়নি ভারতের জনসাধারণ। আরও ভয়াবহ হলো, তার শাসনামলে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা মাত্রা অতিক্রম করে গেছে। এইসব মিলেই নিজের ফেসবুকে একটি ব্যঙ্গাত্মক রচনা পোস্ট করেন আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতের জন্য কনটেন্ট, কনসেপ্ট ও স্ক্রিপ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পারচেপ্ট পিকচার্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীত কে. এস বেদি। বেদির সেই রচনাটি পরে প্রকাশিত হয় মতামতভিত্তিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি ও-তে। পাঠকের জন্য বেদির সেই ব্যঙ্গাত্মক রচনাটি ভাষান্তর করে হুবহু তুলে ধরা হলো।  

নরেন্দ্র মোদি 

 

অটলজী ঠিক বলেছিলেন। তিনি বলতেন, ফুটন্ত পানিতে নিজের হাত ভেজাও; তারপর হয়তো এ কাজটি তুমি আর কখনওই করবে না। যেকোনও বোকা ব্যক্তিই তার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারেন, কিন্তু সাফল্য থেকে শিক্ষা নিতে পারেন কেবল বিজ্ঞরাই। কথাগুলো খুবই সত্যি। দুঃখজনকভাবেই, গুজরাটের অভিজ্ঞতা থেকে আমি পর্যাপ্ত কিংবা বুদ্ধিদীপ্ত, কোনও শিক্ষাই নিতে পারিনি। গোটা ভারতকেই গুজরাট ভেবে বসেছিলাম। এখনতো পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে গুজরাটও আমার কাছে দুর্বোধ্য। খোলাখুলিই বলছি। পরিস্থিতি যে এ পর্যায়ে এসে দাঁড়াবে তা কল্পনাও করতে পারিনি আমি। ভাগ্য ভালো যে হাতে এখনও তিন বছর সময় আছে। এসময়ের মধ্যে সবকিছু সামলানোর চেষ্টা করতে হবে। এখন আমি সবার কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার ৭টি ভুল এবং একটি তালগোল পাকানোর কথা স্বীকার করতে যাচ্ছি।

১. শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী

জয়ের পর জনগণের করতালি আর আমার দলীয় কর্মীদের আচরণে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে আমি একজন প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী। ভাবছিলাম আগের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং খুব দুর্বল ছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা সামনে আসতে বেশি সময় লাগেনি। টনি ব্লেয়ার একবার বলেছিলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত ক্ষমতা হল আস্থা অর্জনের ক্ষমতা। এখন আমি বুঝতে পারি যে মনমোহন সিং-এর একটা হলেও সুবিধা হয়েছে। কেউ তাকে ঘৃণা করতো না। তিনি সবার ধরাছোঁয়ার মধ্যে ছিলেন। লোকজন তার সঙ্গে কথা বলতে পারতো, পরামর্শ নিতে পারতো, সমালোচনা করতে পারতো। আর আমার সঙ্গে তো লোকজন কথাই বলতে চায় না। অর্ধেক লোক আমাকে ঘৃণা করে আর অর্ধেক লোক আমাকে ভয় পায়।

২. নীল স্যুটই কাল হলো আমার!

কখনও ভাবিনি এতো নিরঙ্কুশ জয়ের ছয় মাসের মধ্যে মানুষ আমার প্রতি এতোটা বিরূপ হয়ে পড়বে। এইযে ওবামার ভারত সফরের আগেও যখন জনগণ কোনও কিছুর সমালোচনা করতো তখন তার দায় এককভাবে আমার উপর না দিয়ে দল কিংবা সরকারকে দিত। কিন্তু ওবামার সফরে আমার সে স্যুটকে ঘিরে তৈরি হল যত সমালোচনা। এরপর থেকে কোনও কিছুর ওপর জনগণ বিরক্ত হলে সরাসরি আমাকে দোষারোপ করতে শুরু করলো। কথায় বলে, হাতি যখন গর্তে পড়ে তখন চামচিকাও লাথি মারে। আমার হলো সেই দশা। দুর্নীতিবাজ, একনায়ক, স্যুটেড-বুটেড কিংবা স্টুপিড-যার যেমন ইচ্ছে সে নামেই আমাকে ডাকা শুরু করলো।

কার্টুনে নরেন্দ্র মোদি

৩. কখন কি বলি মনে থাকে না

আমি যখন ভাষণ দিই তখন আমার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এমনকি আমি কখন কি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি তাও মনে থাকে না। আমার সহযোগীদের কেউ কেউ বলে যে লোকজন নাকি আমার বক্তৃতা শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে গেছে কারণ তারা জানে এসব প্রতিশ্রুতির কোনটাই বাস্তবায়িত হবে না।

৪. অমিত শাহ ভাই। তিনি কি আদৌ সঠিক?

সবাই ভাবে উনি আমার লোক। আর তাই যখনই কোনও গণ্ডগোল হয় তখন সবাই আমাকেই দোষ দেয়। বিহারের নির্বাচন থেকে শত্রুঘ্ন সিনহাকে সরিয়ে কিরণ বেদিকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা তারই ছিল। কীর্তি আজাদকে বোঝাতেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। একই সমস্যা পাঞ্জাবে সিধুর সঙ্গে হচ্ছে।

৫. হার সময় হারনে কা ডর (সবসময় হারার ভয়)

ঘর ওয়াপসি, অসহিষ্ণুতা এসব খবরই গত ১৮ মাস ধরে আমি পড়ছি, শুনছি। এ সময়ের মধ্যে অর্থনীতি এক ইঞ্চিও এগোয়নি বলা চলে। তাছাড়া আমার মন্ত্রীরাও একজন যে পথে চলেন বাকিরাও সে পথে হাঁটতে শুরু করেন। প্রজ্ঞা জনগণকে গালি দেওয়ার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেখলাম বাকিরাও একই কাজ করছেন। কয়জনকে ছাঁটাই করব আমি? গণহারে ছাঁটাই করলে তো ভোট হারানোরও ভয় আছে।  

৬. নিজের মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে ছবি তুলতেও লজ্জা লাগে

ভেবেছিলাম গুজরাটকে যেভাবে পরিচালনা করতাম সে একই কায়দায় গোটা ভারতকে চালাতে পারব। মেধা কিংবা প্রজ্ঞার ব্যাপারে কিছু ভাবিনি। আর তাই চোখ বন্ধ করে কিছু বেকুবকে মন্ত্রী বানিয়ে দিলাম। যদি দলের ভেতর কোন মেধা না থাকে তো আমাকে বাইরে থেকে ধার করে নিয়ে আসতে হবে। স্মৃতি, গিরিরাজ, মহেশ এবং প্রজ্ঞার মতো মন্ত্রীদের মধ্যে কার সঙ্গেই বা আমি কথা বলতে পারি, কোন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে পারি? এদের একজন একজন করে ছাটাই করতে হবে।

৭. এখন কী করার আছে?

আজ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগগুলো উপকারি ছিল। নতুন নামকরণের মধ্য দিয়ে আমরা বেশ কিছু প্রকল্প নতুন করে চালু করেছি।

মোদির কার্টুন


নির্মল অভিযানকে নাম দিয়েছি স্বচ্ছ ভারত, নেহরু আরবান রিনিউয়াল প্রোগ্রাম থেকে হল অটল মিশন, রাজিব গান্ধী ইলেক্ট্রিফিকেশন প্রোগ্রাম পরিণত হল দনি দয়াল উপাধ্যায় মিশনে। ইন্সুরেন্স স্কিমগুলোও নতুন করে চালু করা হল। এ পর্যন্ত যা ছিল ভালোই ছিল। তবে যা কিছুই হয়েছে সবই রিপ্যাকেজ। তার মানে কি আমার কাছে কোন আইডিয়াই নেই?

আমি যখন অরুণকে জিজ্ঞেস করি তিনি তখন ফিসক্যাল নিয়ে কিছু বুঝিয়ে দেন, রাজনাথকে জিজ্ঞেস করলে বলেন সংস্কৃতির কথা, গাদকারি খালি বাজেট বাজেট করেন, নাইড়ুর হিন্দি তো আমি বুঝিই না, আর রবি শঙ্করের কথা আমাকে দ্বিধান্বিত করে ফেলে। আর সুষমাজী চুপ করে থাকেন। এখন আমি বুঝি, কেন মেধার প্রয়োজন হয়।

৮. তালগোলটা কি?

আমার মন্ত্রীরা যেমনই হোন না কেন, তাদেরকে মোহন ভগবত আর তার বন্ধুদের সঙ্গে এক জায়গায় বসে থাকতে দেখা আরও বেশি লজ্জাজনক। আমরা আমাদের গোপনীয়তা রক্ষার শপথ ভঙ্গ করার পরও যে কেউ এখনও আমাদের আদালতে নিয়ে যায়নি সেটাই সৌভাগ্যের বিষয়। কেউ যদি আমাদের সুপ্রিম কোর্টের মুখোমুখি করতো তবে অনেক সমস্যাই হতে পারতো।

নরেন্দ্র মোদির কার্টুন

যখন আমরা বিরোধী দলে ছিলাম তখন আরএসএস, ভিএইচপি, বজরাং দল এমন অনেক ভিন্ন নামে নিজেদের আড়াল করার সুযোগ ছিল। কিন্তু কতদিন আর সত্য লুকিয়ে রাখা যায়? এখন সবাই জানে আমরা সবাই একই।

অটলজী ঠিক কথাই বলেছিলেন-‘সংঘের চক্করে পড়া ভালো কথা নয়।’

/এফইউ/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ