behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

নিমরের শিরশ্ছেদসৌদি-ইরান দ্বন্দ্বে কোন পথে এগুচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য?

বিদেশ ডেস্ক১৮:০৫, জানুয়ারি ০৫, ২০১৬

নিমরের শিরশ্ছেদের পর নতুন করে সৌদি-ইরান উত্তেজনা

ইরাক-সিরিয়ায় সুন্নিপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ও সংগঠনটিকে দমনে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হামলা, ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলার খবরে এমনিতেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ছিল মধ্যপ্রাচ্য। ২ জানুয়ারি শিয়া ধর্মীয় নেতা শেখ নিমর আল নিমরের শিরশ্ছেদের পর নতুন করে আলোচনায় সৌদি-ইরান সম্পর্ক। এ ঘটনার পর গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বৈরি সম্পর্ক পার করছে দেশ দুটি। শিরশ্ছেদের ঘটনায় তেহরানে সৌদি দূতাবাসে আগুন ও রিয়াদ থেকে ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত মাত্রা পায় এ বৈরিতা। এ দ্বন্দ্বে সৌদি আরবের সঙ্গে যোগ দিয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, সুদান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি-ইরানের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মেরুকরণ। এছাড়া পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ ইসলামি রাষ্ট্রগুলোতে শিয়া-সুন্নি সংঘাতেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুন্নিপ্রধান দেশ সৌদি আরব ও শিয়া প্রধান দেশ ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ। এ দুদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্ব কেবল পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা ছড়িয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এলাকায়। আর সেকারণে সৌদি-ইরান বৈরিতা আরও ঘণীভূত হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আশির দশকের মতোই অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কার করছেন রাইস ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক রিসার্চ ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোয়েটস উলরিকসেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে এক নিবন্ধে তিনি এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন। তার সে নিবন্ধের আলোকে সৌদি-ইরান প্রশ্নে আশির দশক ও বর্তমানে চলমান দ্বন্দ্বে মধ্যপ্রাচ্যের গতিপথ কোন দিকে এগুচ্ছে তা তুলে ধরা হলো।

ইরানে ইসলামী বিপ্লবের সময়কার ছবি

দ্বন্দ্বের সে সময়কার বছরগুলো

ক্রিস্টিয়ান বলেন, ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার বর্তমান অচলাবস্থা অনেকটা আশির দশকের মতোই প্রকট।  ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত ছিল। ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব ও ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষে তৈরি হয়েছিল এ অচলাবস্থা। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরাকের সাদ্দাম হোসেনকে সমর্থন দিয়েছিল সৌদি আরব ও জিসিসিভুক্ত অন্য দেশগুলো। কেবল তাই নয়, ১৯৮৪ সালে নিজ আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে দাবি করে একটি ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে সৌদি আরব। এছাড়া শিয়াপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিস্তারের জন্য ইরানের বিপ্লব পরবর্তী সরকারদের দায়ী করে আসছে সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো। 

১৯৮৭ সালে ইরানের পৃষ্ঠপোষকতায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর আদলে হিজবুল্লাহ আল-হেজাজ গড়ে তোলা হয়। সৌদি রাজ পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে উসকানিমূলক বিবৃতি দিয়ে আসছিল আল হেজাজ। ১৯৮০ সালের শেষ দিকে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেলে বেশ কয়েকটি বড় বড় হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

ইয়েমেন ও সিরিয়ায় আলাদা পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে ইরান ও সৌদি আরব

গভীর অনাস্থা আর শান্তির মৃত্যুঘণ্টা

ক্রিস্টিয়ানের মতে, সৌদি-ইরানের মধ্যকার বর্তমান উত্তেজনা আশির দশকের উত্তেজনার মতোই বিপদজনক। তিনি তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন।

প্রথমটি হলো, বছরের পর বছর ধরে যে জাতিগত রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যকে সুন্নি-শিয়া প্রশ্নে বিভক্ত করে রেখেছে তার বৈধতার দাবি ওঠার পাশাপাশি উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কে চরম অনাস্থা তৈরি হওয়া। তার নজির অবশ্য এরইমধ্যে দেখা গেছে। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বেশ কয়েকটি দেশ। আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে ইরান হস্তক্ষেপ করছে এমন বিষয় মাথায় রেখে গত চার বছর ধরে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। উপসাগরীয় দেশগুলোর অনেকে পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে যে ইরানকে হুমকি মনে করে তা নয়; বরং ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের প্রতিই তাদের বেশি ভয়। তবে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও গত মাসে সৌদি ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষিত সন্ত্রাসবিরোধী মুসলিম জোটের ঘোষণার মধ্য দিয়েই বোঝা যায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনও ধরনের সমঝোতার ইচ্ছে সৌদি আরবের নেই। আর এটিও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

নিমরের শিরশ্ছেদের পর তেহরানে সৌদি দূতাবাসে ভাঙচুর ও আগুন দেয় শিয়ারা

তৃতীয়ত, সৌদি আরব আর ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের অচলাবস্থা ইয়েমেন ও সিরিয়া যুদ্ধ ঠেকাতে আঞ্চলিক উদ্যোগকে ভেস্তে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ইয়েমেনে শিয়া বিদ্রোহীদের সঙ্গে ১৫ ডিসেম্বর ঘোষিত অস্ত্রবিরতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায়ও আলোচনা গতি পায়নি। ১৪ জানুয়ারি জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুপক্ষের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান তাদের পরস্পরবিরোধী হস্তক্ষেপ জোরালো করলে আদৌ সে আলোচনা কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ক্রিস্টিয়ানের মতে, একই আশঙ্কা সিরিয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে। জানুয়ারির শেষ নাগাদ জেনেভায় সিরিয়া ইস্যুতে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দুটি দেশ পরস্পরবিরোধী অবস্থানে অনড় থাকলে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিবাদমান পক্ষকে আদতে কতটা ঐকমত্যে আনা যাবে তা নিয়েও থেকে যাচ্ছে প্রশ্ন।

/এফইউ/এএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ