behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

ওবামার যত কান্না

ফাহমিদা উর্ণি২০:০৪, জানুয়ারি ০৬, ২০১৬

২০০৯ সালে পরিবর্তিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বাঁক, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বারাক ওবামা। ক্ষমতায় আসার পরপরই মিশরের কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভাষণে ইসলাম আর পাশ্চাত্যের সংঘাতের তত্ত্বকে মিথ্যে প্রমাণ করে বৈচিত্র্য আর সমন্বয়ের ইতিহাসের দিকে নজর ফেরাতে তাগিদ দেন একসময়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অধ্যয়নের এই মেধাবী শিক্ষার্থী। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে ওবামার সেই ভাষণ।  রক্ষণশীলদের পক্ষের শত শত মিথ্যে প্রচারণাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো কৃষ্ণাঙ্গ-গরীব-সংখ্যালঘু-অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হয়ে ক্ষমতায় আসেন বারাক ওবামা।
দুইবারের এই নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে কেউ কেউ বলে থাকেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসেই এক ‘অন্যরকম’ রাষ্ট্রনায়ক তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সীমাবদ্ধতার মধ্যে বিরাজ করেও  ইরাক যুদ্ধের ভুল স্বীকার, স্বাস্থ্য বীমার মতো প্রকল্প হাতে নেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের নগ্ন বাস্তবতা বিশ্বের সামনে উন্মোচন করা আর শিশু ও গরীব অভিবাসীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এই মার্কিনি। শিশু-নারী-সংখ্যালঘু-অভিবাসীদের প্রতি সংবেদনশীলতার জন্য বারবার আলোচিত হয়েছে তার নাম।

পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতাশালী বাস্তবতায়, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার অত্যন্ত কঠোর হওয়ার কথা, হারিয়ে ফেলবার কথা নিজের ভেতরে সহজাতভাবে জারি থাকা আবেগ আর অনুভূতি। কিন্তু তা হয়নি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদেই বিভিন্ন সময়ে কাঁদতে দেখা গেছে ওবামাকে।

স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা নিয়ে আবেগ আপ্লুত ওবামা

২০১২ সালের ডিসেম্বরে কানেকটিকাটের নিউটাউনে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলার পর অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চোখের জল আটকে রাখতে ব্যর্থ হন ওবামা। কানেকটিকাট এলিমেন্টারি স্কুলের ওই হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছিল। এরমধ্যে ১৮ জনই শিশু।  

 

শেষ নির্বাচনি প্রচারণায় সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় অশ্রুসিক্ত ওবামা

২০১২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে সমর্থক ও দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ওবামা। তার চোখ গড়িয়ে নেমে আসে অশ্রু। তিনি বলেন, ‘এতোদিন আপনারা কেবল আমাকে আমার সম্পর্কেই জানিয়েছেন তা নয়,আমি আপনাদেরকেও বুঝতে পেরেছে। আমি বুঝতে পেরেছি অনেক দিক দিয়েই আপনারা আমার চেয়ে সেরা।’

 

প্রেয়ার সার্ভিসে মিশেল ফাউলিনের নির্দেশনায় শিশুদের কণ্ঠে গান শুনে অশ্রুসিক্ত ওবামা

২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২২ জানুয়ারি ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল ক্যাথেড্রালে প্রেসিডেন্সিয়াল ইনঅগুরাল প্রেয়ার সার্ভিসে অংশ নেন ওবামা। ওই প্রেয়ার সার্ভিসে মিশেল ফাউলিনের নির্দেশনায় শিশুদের কণ্ঠে ‘ডিটারমাইন্ড টু গো অন’ গানটি শুনে কেঁদে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

অ্যাডাম বৃর্কেকে(বামে) সম্মাননা দেওয়ার সময়

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরাক যুদ্ধের পরাক্রমশালী যোদ্ধা অ্যাডাম বুর্কেকে প্রেসিডেন্সিয়াল সিটিজেনস মেডেল প্রদান করেন ওবামা। বিভিন্ন বয়সী যোদ্ধাদের সহায়তার জন্য ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজের ওয়েস্ট রুমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।ওইদিন স্যান্ডি হুক স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারানো ছয় শিক্ষকসহ ১৮ জন মার্কিনিকে প্রেসিডেন্সিয়াল সিটিজেনস মেডেল-২০১২ দেওয়া হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার। আমরা জানি না, শিশুদের বাঁচানো শিক্ষক আর পরাক্রমশালী যোদ্ধাকে পুরস্কার দিতে গিয়ে এই বিশ্বনেতার সেদিন ইরাক যুদ্ধে নিহত হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের কথাও মনে হয়েছিলো কিনা, তবে ওইদিনও কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি।

 

ক্যামেরনের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কাঁদছেন ওবামা

২০১৩ সালের মে মাসে হোয়াইট হাউজে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কেঁদে ফেলেন ওবামা। লিবিয়ার বেনগাজিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেশনে হামলার কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি। পাশ (বাম) থেকে আবেগ আপ্লুত ওবামাকে দেখছেন ক্যামেরন।

 

আরেথা ফ্রাংকলিনের গান শুনে কাঁদছেন ওবামা

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে কেনেডি সেন্টারস অনারে যোগ দেন ওবামা। ওই অনুষ্ঠানে অ্যা ন্যাচারাল ওমেন শিরোনামের ক্লাসিকটি পরিবেশন করেন ৭৩ বছর বয়সী আরেথা ফ্রাঙ্কলিন। গান শুনতে শুনতে একসময় চোখ মুছতে দেখা যায় ওবামাকে।

 

আগ্নেয়ান্ত্র নিয়ন্ত্রণের নির্বাহী আদেশ দেয়ার সময় কান্নারত ওবামা

সবশেষ, ৫ জানুয়ারি ২০১৫ আবারও কেঁদেছেন ওবামা। মঙ্গলবার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেসময় ওবামাকে ঘিরে ছিলেন বিভিন্ন হামলার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা এবং নিহতদের আত্মীয়-স্বজন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওবামা বলেন, ‘ড. লুথার কিং-এর বক্তব্যকে উপজীব্য করে বলতে চাই এ মুহূর্তের সবথেকে বড় প্রয়োজন কী তা আমাদের অনুভব করতে হবে, কারণ মানুষ মারা যাচ্ছে। আমাদের যে স্বাধীন ও সুখী-স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনের অধিকার রয়েছে তা ব্ল্যাকসবার্গ ও সান্টা বারবারা কলেজ এবং কলম্বিয়ান ও নিউটাউনের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সেই সব শিক্ষার্থীদের পরিবার কখনও কল্পনাও করেনি যে কোন একটি বন্দুকের বুলেট এসে তাদের প্রিয়জনের বুক শূন্য করে দেবে।’

 

নানীর কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ওঠেন ওবামা

প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগেও কেঁদেছেন ওবামা। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর নর্থ ক্যারোলিনায় প্রচারণার সময় নানীকে স্মরণ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে ওইদিনই মারা গিয়েছিলেন তার নানী মেডিলিন ডানহাম।

/এফইউ/বিএ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ