behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বৈচিত্র্যই যখন সৌন্দর্যশ্বেতী রোগীর সাড়া জাগানো মডেল হওয়ার গল্প

বিদেশ ডেস্ক১৯:৪৪, জানুয়ারি ০৮, ২০১৬

তারুণ্যে জনপ্রিয় মডেল হিসেবে পরিচিতি পেলেও অন্য আট-দশটা শিশুর মতো মোটেও স্বাভাবিক ছিল না তার শৈশব। গোটা শরীরে সাদা ছোপ ছোপ দাগের কারণে স্কুলে অনেকেই তাকে ডাকতো গরু কিংবা জেব্রা বলে। বিড়ম্বনার মাত্রাটা এতো তীব্র পর্যায়ে এসে পৌঁছালো যে একটা সময় স্কুল ছেড়ে বাড়িতেই পড়াশোনা শুরু করতে হয় তাকে। বলছিলাম, সাড়া জাগানো কানাডীয় মডেল উইনি হারলোর কথা।

কানাডীয় মডেল উইনি হারলো

 

উইনির বয়স যখন চার বছর, তখনই তার শরীরে ধরা পড়ে ভিটিলিগো বা শ্বেতীরোগ। এটি এমন একটি চর্মরোগ, যার ফলে ত্বকের রং পরিবর্তিত হয়ে হালকা হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে সাদা রং ধারণ করে। আর এ রোগটিই যখন উইনির শরীরে বাসা বাঁধে তখন তার সমস্ত শরীরে সাদা সাদা ছোপ পড়ে যায়। সেকারণে শৈশবে নানা বিব্রতকর পরিস্থিতি পার করতে হয়েছে উইনিকে।

উইনির বয়স যখন চার বছর, তখনই তার শরীরে ধরা পড়ে শ্বেতীরোগ

মাঝে পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। সেই উইনি এখন জনপ্রিয় মডেল। ইন্সটাগ্রামে উইনির ফলোয়ারের সংখ্যা এখন ১০ লাখেরও বেশি। স্প্যানিশ ফ্যাশন লেবেল ডেসিগুয়ালের পরিচিত মুখ তিনি। তার ছবি তুলেছেন বিখ্যাত ফ্যাশন ফটোগ্রাফার এবং শো স্টুডিওর পরিচালক নিক নাইট। সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএনকে শৈশবের কষ্ট, সংগ্রাম, বিড়ম্বনা আর তা জয়ের গল্প বলেছেন উইনি। বলেছেন অনেকের কাছে কুৎসিত বলে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকে বিশ্বের ফ্যাশনের আলোচনায় আসা পর্যন্ত অসমতল পথ পাড়ি দেওয়ার গল্প।

স্বকীয়তায় শৈশবের বিড়ম্বনা উত্তোরণ

উইনির মতে, স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়াটাই তার জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক হয়েছে। তিনি জানান এর মধ্য দিয়ে তিনি স্বকীয়তা খুজে পেয়েছেন। উইনি সিএনএনকে বলেন, ‘আমি কে তা অন্য কারও মুখ থেকে শোনার চেয়ে আমি নিজেই উপলব্ধি করতে পারলাম যে আমি আসলে কে? আর এটি সত্যিকার অর্থে আমাকে জীবনের সব বাধা দূর করার সাহস যুগিয়েছে।’

শৈশবে নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে উইনিকে

বুডরামের কাছে পাওয়া প্রেরণা

উইনি জানান, তিনি নিজেও কখনও ভাবেননি একজন মডেল হবেন। চেয়েছিলেন একজন পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিক হতে। আর সে ভাবনা চিন্তার মধ্যেই হঠাৎ করে একদিন দেখা হয় টরন্টোভিত্তিক ফটোগ্রাফার শ্যানন বুডরামের সঙ্গে। সেসময় শ্যানন উইনিকে মডেলিংয়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। আর তখন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করেন উইনি। যখন ‘আমেরিকা’স নেক্সট টপ মডেল’ (এএনটিএম) পরবর্তী শো-এর জন্য প্রতিযোগী আহ্বান করলো তখন টায়রা ব্যাংকসকে ছবি ট্যাগ করার জন্য ভক্তদের অনলাইনে অনুরোধ জানান উইনি। উদ্দেশ্য ছিল টায়রা যেন তার ছবিগুলো দেখতে পান। উইনি জানান, সে অনুরোধে সাড়া দিয়েছিল তার ভক্তরা। এরপর তার বোনও ফেসবুকে একটি পেজ চালু করে। আর তা দেখে আগ্রহী হয়ে ওঠেন ওই শো-এর এক প্রযোজক। আর সেসময়কার অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে উইনি বলেন, ‘শুরুতে আমার বিশ্বাসই হচ্ছিলো না, তবে শেষ পর্যন্ত সিজন ২১-এর শোতে অংশ নিই আমি। মূলত টায়রার কাছ থেকে সুযোগ পাওয়ার পরই আমার নতুন পথচলা শুরু।’

পথের প্রথম প্রেরণা যে ফটোগ্রাফার

বিখ্যাত ফটোগ্রাফার নিক নাইটের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে উইনি বলেন, ‘সত্যিকারের মডেল হওয়ার ক্ষেত্রে তিনিই আমার প্রথম প্রেরণা। এএনটিএমে অংশ নেওয়ার আগে কিংবা সেসময়ে নিজেকে মডেল বলে মনে হতো না। কারণ তখন পর্যন্ত এটিকে শখ হিসেবেই নিয়েছিলাম। এরপর একদিন নিকের কাছ থেকে সরাসরি একটি ইমেইল পেলাম। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম লন্ডনে একসঙ্গে কাজ করব। আর সেইসব ফটোশুটই আমাকে উৎসাহ যোগালো মডেলিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার জন্য।’

তারুণ্যে জনপ্রিয় মডেল হিসেবে পরিচিতি পেলেও অন্য আট-দশটা শিশুর মতো মোটেও স্বাভাবিক ছিল না উইনির শৈশব

বৈচিত্র্যই যখন সৌন্দর্য

উইনির মতে ফ্যাশন জগতে আরও বিচিত্র ধরনের সৌন্দর্যকে হাজির করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘ম্যাগাজিনের কাভার, ম্যুভির তারকা চরিত্র, বিলবোর্ডে আমি বিচিত্র সৌন্দর্যের উপস্থিতি দেখতে চাই। সবার জন্য ফ্যাশন বাজারকে উন্মুক্ত করার এবং জীবনের সবক্ষেত্রের মানুষকে এখানে স্বাগত জানানোর এখনই সময়।’

ফ্যাশন জগতের ভাবনায় স্বাধীনতার সীমা আরও প্রসারিত করার সুযোগ আছে কি না, সিএনএন এর এমন প্রশ্নের জবাবে উইনি নিজেকেই উদাহরণ হিসেবে হাজির করেন। বলেন, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বুঝতে হবে, বৈচিত্র্যময় পরিসর থেকে সৌন্দর্য আসতে পারে। তিনি মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে এই বৈচিত্র্য দৃশ্যায়নের এক দুর্দান্ত মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য ধরা দিতে পারে।

/ইফইউ/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ