হলিউড তারকাকে যা বলেছিলেন মাদকসম্রাট

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:৪২, জানুয়ারি ১০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৭, জানুয়ারি ১০, ২০১৬

সিন পেন ও গুজম্যানছয় মাস আগে তৃতীয় দফায় জেল থেকে পালানোর পর পরই  গোপন একটি জায়গায় মেক্সিকান মাদকসম্রাট এল চ্যাপো গুজম্যানের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন হলিউড অভিনেতা শন পেন। অক্টোবরের দিকে মেক্সিকোর একটি জঙ্গলে নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারটি সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ম্যাগাজিন রোলিং স্টোনের শনিবারের সংস্করণে প্রকাশ করা হয়।
রোলিং স্টোন জানায়, সাক্ষাতে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন পেন ও গুজম্যান। পেনকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে গুজম্যান জানান, ৬ বছর বয়স থেকে কমলা আর সফট ড্রিংকস বিক্রির মধ্য দিয়ে তার ব্যবসায় শুরু হয়। আর ১৫ বছর বয়স হওয়ার পর থেকে মারিজুয়ানা আর পপি চাষ শুরু করেন তিনি।
তার দাবি, পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে তার হাতে আর অন্য কোনও উপায় ছিল না।  তবে এখন তিনি পৃথিবীর অন্য যে কারও চেয়ে অনেক বেশি হেরোইন, কোকেইন ও মারিজুয়ানা সরবরাহ করতে সক্ষম বলে স্বীকার করেন। গুজম্যান জানান, তার কাছে এখন সাবমেরিন, উড়োজাহাজ, ট্রাক আর নৌকার বহর আছে।

গুজম্যানের মতে, ভোগ না থাকলে বিক্রিও থাকবে না। নিজেকে মোটেও সহিংসতাকারী হিসেবে ভাবেন না এ মাদকসম্রাট। তার দাবি, যা কিছু করেছেন নিজেকে রক্ষার জন্য করেছেন।

'আমি কি কারও সমস্যা তৈরি করেছি?' প্রশ্ন করেন গুজম্যান।

শেষবার ব্যাপক সুরক্ষিত কারাগার থেকে টানেল দিয়ে পালানোর অভিজ্ঞতার কথাও জানান গুজম্যান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জার্মানি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের ওই টানেলটি তৈরি করতে এক বছর সময় লেগেছে।  সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্র ব্যবসার প্রতিও নিজের আগ্রহের কথা জানান গুজম্যান।

রোলিং স্টোনের ওই নিবন্ধ অনুযায়ী, গ্রেফতার এড়াতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে যখন বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন ঠিক সেসময়কার কোনও একটি দিনে ৭ ঘণ্টা ধরে সিন পেনকে ওই সাক্ষাৎকার দেন গুজম্যান।  এর পরে ফোনেও নানান সময় শন পেনের প্রশ্নের জবাব দেন মাদকসম্রাট।

শুক্রবার সিনালোয়া শহরের কাছের একটি উপকূলে ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধের পর ফের আটক হন চ্যাপো গুজম্যান। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ৫ জন। শুক্রবার বিকেলে মেক্সিকান সরকারের তরফে জানানো হয়, গত ১ মাস ধরেই লস মোচিসের একটি বাড়িতে নজর রাখা হচ্ছিলো। এরপর বৃহস্পতিবার গুজম্যানের গতিবিধি শনাক্ত করতে সক্ষম হন তারা।
১৯৯৩ সালে মেক্সিকোর সিনালোয়া প্রদেশের বাসিন্দা গুজম্যানকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে প্রথম গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় একটি ময়লা কাপড়ের ঝুড়িতে লুকিয়ে থেকে জেল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
১৩ বছর পালিয়ে থাকার পর ২০১৪ সালে আবারও গ্রেফতার করা হয় তাকে। গত বছরের জুলাই মাসে আবারও পালিয়ে যাওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে দেশটির সরকার। 

এদিকে গ্রেফতার মাদক সম্রাট  গুজম্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের ইঙ্গিত দিয়েছে মেক্সিকো। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের তরফে জানানো হয়, গুজম্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ২০১৪ সালে গুজম্যানকে হস্তান্তরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ বিবেচনায় রেখেই এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়। সূত্র: বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস

/এফইউ/

লাইভ

টপ