behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

পাখির দ্বীপে সামরিক হানা

ফাহমিদা উর্ণি১৮:৫২, জানুয়ারি ১৪, ২০১৬

যুদ্ধবাজ মনুষ্য প্রজাতির কাছে একটুও নিরাপদ নয় আমাদের বিশ্বজুড়ে থাকা অসংখ্য প্রাণ, আমাদের প্রকৃতি আর আমাদের প্রতিবেশ। যুদ্ধবাজ সামরিকতার প্রাবল্যের এই যুগে ক্রমেই বিপন্ন হয়ে পড়ছে আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি-প্রতিবেশ। বিপন্ন গোটা পৃথিবী। এই বিপন্নতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এক দ্বীপে বাস করা পাখিদের বিপন্নতার খবর দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্ট। 

টেকপার্ট.কম নামের এক ওয়েবসাইটের কাছ থেকে নেয়া এক প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছে, সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপনের প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে পাখিহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে টিনিয়ান দ্বীপের। বিলুপ্ত হওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে টিনিয়ান মোনার্ক নামের এক প্রজাতির পাখির। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে দ্বীপটিতে শুরু হবে তাজা বোমার প্রশিক্ষণ। পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত দ্বীপটি হয়ে যাবে যুদ্ধ প্রশিক্ষণের এক ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষেত্রভূমি। আর এতে বিপন্ন হয়ে পড়বে টিনিয়ান মোনার্ক পাখির জীবন।

 টিনিয়ান মোনার্ক, বিলুপ্তির পথে এই প্রজাতির পাখি

৩৯ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত দ্বীপ টিনিয়ান। মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের এ এলাকাটি পাখির দ্বীপ হিসেবেই বেশি পরিচিত। আর একমাত্র এ দ্বীপেই বসবাস টিনিয়ান মোনার্ক পাখির। তবে এ পাখির প্রাকৃতিক আবাসস্থল হলো প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বা ক্রান্তীয় আদ্র নিম্নভূমির বন কিংবা প্রায় ক্রান্তীয় বা ক্রান্তীয় আদ্র গুল্মভূমি।
২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বন ধ্বংস, উন্নয়ন এবং দেশজ নয় এমন গাছ রোপণের কারণে পাখিরা তাদের বেশিরভাগ আবাসস্থল হারাচ্ছে। সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির বিজ্ঞানী টারা ইস্টার বলেন, দ্বীপটিতে সেনা প্রশিক্ষণ শুরু হলে পাখিরা এতো ব্যাপকহারে তাদের আবাসস্থল হারাবে যে তা আর পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
টিনিয়ান মোনার্ক প্রজাতির পাখিকে বিলুপ্ত প্রজাতি সুরক্ষা আইনের আওতায় সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাছ ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক বিভাগ বরাবর পিটিশন দায়ের করেছিল সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি। পিটিশনে বলা হয়, দ্বীপটি ছোট হওয়ার কারণে যেসব পাখির আবাস্থল নষ্ট হয়, তারা নতুন করে আর আবাস গড়ার জায়গা পায় না।

 টিনিয়ান মোনার্ক

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডাইভারসিটি সেন্টারের ওই আবেদনে একমত প্রকাশ করে বন্যপ্রাণী বিভাগ। বলা হয়, টিনিয়ান প্রজাতির পাখিগুলোকে আবারও সুরক্ষার আওতায় আনা যেতে পারে। তবে নভেম্বরে এর বিরোধিতা করেন টিনিয়ানের রাজনীতিবিদ জুড হফস্কেনেডার। তার দাবি, প্রজাতিটির সুরক্ষায় ৪৯টি পাখিকে পাশ্ববর্তী দ্বীপে স্থানান্তর করেছে কমনওয়েলথ অব দ্য মারিয়ানা আইল্যান্ডস। আর আরও ৫০টি পাখি শিগগিরই স্থানান্তর করা হতে পারে। টিনিয়ান পাখি বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ পাখির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ২০১৩ সালে ডিপার্টমেন্ট অব নেভির এক জরিপের উল্লেখ করে হফস্কেনেডার বলেন, এ পাখির সংখ্যা এখন ৯০ হাজারেরও বেশি। তবে বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা ২০-৩০ হাজারের মধ্যে।

 বিপন্ন টিনিয়ান মোনার্ক

তবে টারা ইস্টারের মতে, এ ধরনের স্থানান্তর প্রক্রিয়া যে টিনিয়ান মোনার্কের সুরক্ষা দেবে তার নিশ্চয়তা নেই। তার মতে, টিনিয়ান মোনার্ককে বন্দিদশায় সামলানো ও তাদের স্থানান্তর করা কঠিন কারণ এ প্রজাতির পাখি খুব নির্জন এবং পরিচিত স্থানে থাকতে অভ্যস্ত। আবাসস্থল হারানোর পাশাপাশি টিনিয়ান মোনার্ক বিলুপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ইস্টার। তার আশঙ্কা, সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে গেছো সাপসহ বিভিন্ন আক্রমণকারী প্রজাতি দ্বীপে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এরইমধ্যে পাশ্ববর্তী গুয়াম দ্বীপের পাখিদের ধ্বংস করে দিয়েছে গেছো সাপ।
ইস্টার বলেন, ‘টিনিয়ানে এরইমধ্যে গেছো সাপের উপস্থিতি দেখা গেছে এবং এ ধরনের সাপ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এর প্রভাব কী হতে পারে তা তো বোঝাই যায়। তারা গুয়ামে গেছো সাপের কবল থেকে পাখিদের বাঁচাতে পারেনি, এখানেও পারবে না।’
টিনিয়ান মোনার্ককে বাঁচাতে তাই বিপন্ন প্রজাতির সুরক্ষা আইনের আওতায় মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছেন ইস্টার। তিনি বলেন, আমি মনে করি যদি এখনই টিনিয়ান মোনার্ককে সুরক্ষা না দেওয়া হয়, তবে সেনাবাহিনী গিয়ে শিগগিরই ওই দ্বীপে তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করে দেবে।
এদিকে টিনিয়ান দ্বীপে সেনা ঘাঁটির জন্য এখনও তহবিল বরাদ্দ না করা হলেও গত মাসে সেনা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা দেরি করতে চায় না। সূত্র:হাফিংটন পোস্ট, টেক পার্ট.কম

/এফইউ/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ