ক্ষুধার যন্ত্রণায় দুই বোনের ইট খাওয়ার চেষ্টা!

ক্ষুধার যন্ত্রণায় দুই বোনের ইট খাওয়ার চেষ্টা!

Send
বিদেশ ডেস্ক২২:১৩, জানুয়ারি ১৯, ২০১৬

পুলিশ ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পায়দুই বোন। বয়স এক জনের ৩২, আরেকজনের ৩৪। দুজনেই মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। কিভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয় তাও জানেন না। এই দুই বোনকে শেকল দিয়ে বেঁধে তালা লাগিয়ে প্রায় বছর খানেক ধরে বাসার বেজমেন্টে বন্দি করে রেখেছেন তাদেরই মা। কয়েকদিন আগে মা চলে যান ছুটিতে। দেখাশোনার দায়িত্বে রেখে যান ৯০ বছরের বৃদ্ধ দাদুকে। ছুটিতে যাওয়ার আগে দাদুকে কঠোর নির্দেশ দিয়ে যান, যেনও কোনও অবস্থাতেই তালাবদ্ধ ঘরের দরজা খোলা না হয়।
কয়েকদিন পর দুই বোন ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাঁতরাতে থাকেন। বাধ্য হয়ে ইট ও কাঠের টুকরো খাওয়া শুরু করেন। যেখানে শেকল বাঁধা সেখানেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হতো। নিজেদের মলমূত্র খেয়েও ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা করতেন।
দুই বোনের গোঙানি ও কান্নার শব্দ শুনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন এক প্রতিবেশী পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ এসে রুমটি তালা দেওয়া দেখতে পায়।  দরজা খুলে পুলিশ কর্মকর্তারা দেখতে পান, দুই বোন নোংরা মেঝেতে শুয়ে আছেন। তারা জানে না কিভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়।  ছবিতে দেখা যায়, সমাজ কর্মীরা দুই বোনকে শেকল মুক্ত করে ও তালা খোলে বের করে।
সম্প্রতি কলম্বিয়ার কালদাস ডিপার্টমেন্টের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর পাকোরার একটি বাসার বেজমেন্ট থেকে দুই বোনকে পুলিশ উদ্ধার করে। সোমবার বৃটিশ সংবাদমাধ্যম মেইল অনলাইনে প্রকাশিত এক খবরে এসব তথ্য জানা গেছে।


কালদাস ডিপার্টমেন্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি জাজমিন গোমেজ জানান, ঘরটি বসবাসের উপযোগী ছিল না এবং প্রায় ভেঙে পড়া অবস্থা। যে ঘরে ওই দুই বোনকে রাখা হয়েছে সেখানেই তাদের প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হতো পশুর মতো। সবচেয়ে ভয়ংকর অবস্থা ছিল যখন আমরা রুমে প্রবেশ করি তখন এক নারীর মুখে ইট পুরে চাবানোর চেষ্টা করছিলেন।  দুই বোন প্রায় ইট ও কাঠের টুকরা খেতেন এবং নিজেদের মলমূত্র খেতেন।
পুলিশ জানায়, দুই বোনকে সব সময় বেঁধে রাখা হতো। তাদের বিছানার পাশে খাবারের প্লেট পাওয়া গেছে। অনেক সময়  প্রতিবেশী তাদের খাবার দিতেন।
দুই বোনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ডাক্তার ও প্রসিকিউটররা পরীক্ষা করে দেখবেন তাদের মায়ের কারণে এ অবস্থা হয়েছে কিনা। যদি হয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টায় মামলা হতে পারে। সূত্র:  মেইল অনলাইন।
/এএ/

লাইভ

টপ