জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব২০১৮ সালের আগে এল সালভাদরের নারীদের গর্ভধারণে মানা

বিদেশ ডেস্ক১৭:০৩, জানুয়ারি ২২, ২০১৬

জিকা ভাইরাসজিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিকৃত মাথার শিশু জন্ম নেওয়া ঠেকাতে এল সালভাদরের নারীদের দুই বছর সন্তান না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত এল সালভাদরে ৫,৩৯৭ জন জিকা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায় দেশটির সরকার।
বৃহস্পতিবার এল সালভাদরের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উপমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব নারী গর্ভধারণের উপযুক্ত এবং সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের পরামর্শ দেব চলতি বছর এবং পরের বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকতে।’ যেসব নারী এরইমধ্যে গর্ভধারণ করে ফেলেছেন তাদেরকে বাইরে চলাচলের সময় মশার কামড় ঠেকাতে শরীর ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এডিস প্রজাতির মশা থেকে জিকা ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়িয়ে থাকে। জ্বর, জয়েন্ট পেইনসহ ছোটখাটো কিছু শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় এ ভাইরাসের কারণে। আবার তা এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে সেরেও যায়। তবে বিপত্তি তৈরি হয় গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে। গর্ভাবস্থায় জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বিকৃত মাথা নিয়ে জন্ম নিতে পারে শিশু। এসব শিশুর বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি থাকে, শারীরিক বৃদ্ধি কম হয় এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। জিকা ভাইরাসের সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে ব্রাজিলে। দেশটিতে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার মাইক্রোফেলাসি আক্রান্ত শিশু শনাক্ত হয়েছে।

এল সালভাদরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের গর্ভবতী নারীদের ৯৬ শতাংশই জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এখন পযর্ন্ত মাইসেফালি অর্থাৎ অস্বাভাবিকরকমের ছোট মাথা নিয়ে কোনও শিশুর জন্ম হয়নি। 

ব্রাজিলের পরই সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব কলম্বিয়াতে। সেখানকার সরকারও নারীদের আপাতত সন্তানধারণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। তবে তা ছয়-আট মাসের জন্য। সূত্র: আলজাজিরা

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ