behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

মিসরীয় বিপ্লবের মৃত্যু‘এর চেয়ে মোবারক আমল ভালো ছিল’

মিছবাহ পাটওয়ারী১৮:১১, জানুয়ারি ২৫, ২০১৬

মিসরের পতিত স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া গণআন্দোলনের পাঁচ বছর পূর্তি আজ। ওই সময়ে ‘রুটি,স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়ের’ দাবিতে হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে রাজপথে নামেন প্রায় ২০ লাখ মিসরীয়। ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি শুরু হওয়া ওই গণঅভ্যুত্থানের পরিণতিতে একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগে বাধ্য হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। তবে ওই ১৮ দিনের আন্দোলনে নিহত হন অন্তত ৮৪৬ জন। আহতের সংখ্যা ছয় সহস্রাধিক।

মোবারকের পতনের পর কিছুদিনের জন্য একটি নির্বাচিত সরকারও এসেছিল। কিন্তু আবার আগের চেহারায় ফিরে গেছে দেশটি। আরও কঠোর স্বৈরশাসনের জাঁতাকলে পড়েছেন মিসরবাসী। স্বৈরতন্ত্র আরও আসন গেড়ে বসেছে দেশটিতে। মাত্রা বেড়েছে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন আর পুলিশি নির্মমতার।

তাহরির স্কয়ারের সমাবেশ

এদিকে মিসরীয় বিপ্লবের বার্ষিকীতে মানুষ যাতে জড়ো হওয়ার সুযোগ না পান সেজন্য বেশ কিছুদিন ধরে ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে দেশটির সেনাসমর্থিত সরকার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আর হোসনি মোবারকের পতনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক যুবককে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি`র পুনর্বহাল এবং জেনারেল সিসি`র পদত্যাগ দাবিতে ব্রাদারহুডের বিক্ষোভ

১৮ দিনের গণআন্দোলনে হোসনি মোবারকের ৩০ বছরের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। মুক্তি পায় মিসরবাসী। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বাদ না পেতেই আবার দেশটিকে জাপটে ধরে স্বৈরশাসন। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে দেশের ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান সিসি। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হন তিনি। বিরোধিতা করায় সিসি’র দল ব্রাদারহুডের বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। জেলে যান অনেকে। বাদ যায়নি বাম ও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোও।

আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষ। মুক্তমনা, ইসলামপন্থী, জাতীয়তাবাদী,পুঁজিবাদবিরোধী নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে সে বিক্ষোভ পরিণত হয়েছিল বিশাল এক গণঅভ্যুত্থানে। সেই বিপ্লবের পাঁচ বছর পর এসে আজ অনেক তরুণ মিসরীয় বলছেন, তাদের বিপ্লবের মৃত্যু ঘটেছে এবং বিপ্লবের বার্ষিকীতে তারা ঘরেই থাকবেন। দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মাত্রা বৃদ্ধির কথাও জানান তারা।

২০১১ সালের ওই বিক্ষোভের মূলে ছিল গণতন্ত্রপন্থী এপ্রিল-৬ মুভমেন্ট। ওই আন্দোলনের মুখপাত্র ছিলেন অ্যামাল শরাফ। তিনি বলেন, ‘এখন আর আমরা বিক্ষোভ করছি না। কারণ এখন আর এসব করে কোনও লাভ নেই। আরও বহু লোকজন মারা যাবেন। অনেকের ঠাঁই হবে কারাগারে।’

মিসরে এই মুহূর্তে কেউই এটা মনে করছেন না যে, গণতন্ত্রে উত্তরণটা খুব সহজ হবে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীরা বলছেন, বর্তমান অবস্থার চেয়ে মোবারক আমল ভালো ছিল। এখনকার বাস্তবতা এর চেয়েও মারাত্মক। আগের সেই বিপ্লবের স্পৃহাও এখন আর নেই।

তাহরির স্কয়ারের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

অ্যামাল শরাফ বলেন, ‘মোবারক আমলে সবচেয়ে বাজে বিষয় ছিল, গ্রেফতারের পর কিছুদিন তদন্তের নামে নির্যাতন। আর এখনও সেখানে অপহরণ কিংবা বাজে অভিযোগ আনার মতো ঘটনা ঘটছে। এখন পরিস্থিতি মোকাবেলা বা রুখে দাঁড়ানোর সময় নয়। বর্তমানে আমরা যে পরিস্থিতি দেখছি সেটা অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে খারাপ।’

তিনি জানান, এপ্রিল-৬ মুভমেন্টসহ মিসরীয় বিপ্লবের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রায় অর্ধেকই এখন কারাগারে। অন্যরাও আটক হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্যারিসভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিলেশনসের বিশ্লেষক করিম বিতার। তার ভাষায়, ‘সিসির শাসন ২০১১ সালের বিপ্লবকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটা এখন স্পষ্ট যে দেশটিতে প্রতিবিপ্লব আসন গেড়েছে। বিপ্লবের সমাধি রচিত হয়েছে।’

মুসলিম ব্রাদারহুডসহ মিসরের ইসলামপন্থী দলগুলোর উদ্যোগে তৈরি হয়েছে অ্যান্টি ক্যু অ্যালায়েন্স। তারা আবারও আন্দোলনে নামার চেষ্টা করছে। কিন্তু পুলিশি তৎপরতায় তাদের উদ্যোগ প্রায় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

মোবারকের পতনের পর পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত মিসরের দায়িত্ব নেয় দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী। ২০১২ সালে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসি। তার শাসনামলেও অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। একইসঙ্গে ছিল ইসলামি শরিয়া প্রতিষ্ঠার ভয়। মোবারকের পতনের বছরখানেকের মাথায় আবারও রাস্তায় নামে মানুষ। এবার দাবি, মুরসিকে পদত্যাগ করতে হবে। ওই আন্দোলনে প্রতিনিধিত্বের দাবি করে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে তাকে গ্রেফতার করে দেশটির সেনাবাহিনী।

মুরসি-বিরোধীরা তখন অপেক্ষায় ছিলেন এরপর কি ঘটে সেটা দেখার জন্য। কিন্তু এরপর যেটা ঘটেছে সেটা কারও প্রত্যাশিত ছিল না। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। প্রতিবাদে রাস্তায় নামে মুরসি সমর্থকরা। তাদের ওপর চলে সরকারি বাহিনীর নিপীড়ন।

২০১১ সালে হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে তাহরির স্কয়ারে জড়ো হওয়া জনস্রোতের একাংশ

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে, ওই সময়ে মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থক ৪০ হাজার মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশি অভিযানে নিহত হন ১২৫০-এর বেশি মানুষ। বিতর্কিত গণবিচারে শতাধিক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভাষায়, এটা ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

২০১৩ সালে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে  আখ্যায়িত করে মুসলিম ব্রাদারহুডকে বেআইনি ঘোষণা করে মিসরের সেনাসমর্থিত সরকার। ২০১৪ সালে নিষিদ্ধ করা হয় এপ্রিল-৬ মুভমেন্টকে।

মিসরীয় বিপ্লবে অংশ নেওয়া মানুষগুলো এখন হতাশ। তারা মনে করেন তাদের বিপ্লব ব্যর্থ হয়েছে। মাঝে প্রাণ গেছে হাজারো মানুষের। অন্ধকার কারাগারে দিন কাটাচ্ছে হাজার হাজার বিপ্লবী। তারপরও ওই দিনটি এখন মিসরীয়দের হৃদয়ে জাগরুক। এপ্রিল-৬ মুভমেন্টের মুখপাত্র অ্যামাল শরাফের ভাষায়, ২৫ জানুয়ারি সবসময়ই আমাদের ইতিহাসে একটা বিশেষ দিন হয়ে থাকবে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই, আল জাজিরা

/এমপি/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ