behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

জিকা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী সতর্কতা

বিদেশ ডেস্ক২৩:৫৯, জানুয়ারি ২৭, ২০১৬

আগে শনাক্ত হয়নি এমন এলাকাগুলোতেও খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে মশা থেকে উদ্ভূত জিকা ভাইরাস। আর সেকারণে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর পাশাপাশি উদ্বেগে রয়েছে বিভিন্ন দেশ। একের পর এক ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হচ্ছে।

এডিস প্রজাতির মশা থেকে জিকা ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়িয়ে থাকে। জ্বর, জয়েন্ট পেইনসহ ছোটখাটো কিছু শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় এ ভাইরাসের কারণে। আবার তা এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে সেরেও যায়। তবে বিপত্তি তৈরি হয় গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে। গর্ভাবস্থায় জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাইক্রোফেলাসি তথা বিকৃত ও ছোট মাথা নিয়ে জন্ম নিতে পারে শিশু। এসব শিশুর বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি থাকে, শারীরিক বৃদ্ধি কম হয় এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

জিকা ভাইরাসের সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। দেশটিতে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার মাইক্রোফেলাসি আক্রান্ত শিশু শনাক্ত হয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলোতেও জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। এসব দেশে নারীদের আপাতত গর্ভধারণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত ল্যাটিন আমেরিকায় সীমাবদ্ধ থাকছে না জিকা ভাইরাস। ভাইরাসটি নতুন করে শনাক্ত হচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

যুক্তরাষ্ট্র

ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো ভ্রমণ করে আসা নাগরিকদের মধ্যে চারজনের শরীরে জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে স্থানীয়ভাবে ভাইরাসটি কারও কাছে সংক্রমিত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এল সালভেদর থেকে ফেরার পর টেক্সাসের এক নারীর শরীরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এছাড়া ফ্লোরিডা, ইলিনয় আর হাওয়াইতেও জিকা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এড়াতে গর্ভবতী নারীদের ল্যাটিন আমেরিকার ১৪টি দেশে ভ্রমণ স্থগিত করার পরামর্শ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। ডিসেম্বরে পুয়ের্তো রিকোতে প্রথম জিকা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়। পুয়ের্তো রিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে সে সংখ্যা বেড়ে এখন ১৮ হয়েছে।

কানাডা

আমেরিকান দেশগুলোর মধ্যে দুটি দেশ জিকার প্রাদুর্ভাবমুক্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরমধ্যে একটি কানাডা আর আরেকটি চিলি। কানাডা সরকারের দাবি, জিকা ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার অস্তিত্ব সেদেশে নেই। তবে কানাডার মানুষরা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করার কারণে জিকার ঝুঁকি বাড়ছে। সেকারণে অন্যান্য দেশের মতো গর্ভবতী নারীদের অন্য দেশ ভ্রমণের আগে খোঁজখবর নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কানাডার জনস্বাস্থ্য সংস্থা।

যুক্তরাজ্য

গত সপ্তাহে ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগের তরফে জানানো হয়, তিনজন ব্রিটিশের দেহে জিকা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সেখানেও জিকার প্রাদুর্ভাবের এলাকাগুলোতে ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তাছাড়া অন্যদেরও ভ্রমণের আগে খোঁজখবর নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। এছাড়া অন্য দেশ থেকে ভ্রমণকারীদের সঙ্গে ভাইরাস ছড়ানোর ঘটনাও বিরল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত সপ্তাহে জিকা ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পরামর্শ দিয়েছিল ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ কেন্দ্র। ভ্রমণের আগে গর্ভবতী নারীদের তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়নি। তবে অস্ট্রেলীয় রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞদের দাবি, জিকার প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর মতো প্রস্তুতি দেশটির রয়েছে। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র দফতরের তরফে গর্ভবতী নারীদের ভ্রমণের সময় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এফইউ/এএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ