behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবগর্ভপাতে সুপ্রিমকোর্টের অনুমোদন চাইবেন ব্রাজিলের মানবাধিকারকর্মীরা

বিদেশ ডেস্ক০৮:৪৮, জানুয়ারি ২৯, ২০১৬

ব্রাজিলের গর্ভবতী নারীজিকা ভাইরাস আক্রান্ত গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাতের অনুমতি দিতে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাতে যাচ্ছেন দেশটির আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও বিজ্ঞানীদের একটি দল। দুই মাসের জন্য অনুমতি চেয়ে নতুন এ পিটিশনটি দায়ের করা হবে বলে খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সম্ভাব্য পিটিশনে জিকার প্রাদুর্ভাবের জন্য এডিস মশা নির্মূল করতে ব্রাজিল সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হয়েছে। আর এর জন্য ব্রাজিলের নারীদের শাস্তি দেওয়া ঠিক নয় বলে উল্লেখ রয়েছে পিটিশনে। উল্লেখ্য ২০১২ সাল থেকে ব্রাজিলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কিংবা ধর্ষণের ঘটনা বাদে গর্ভপাত অবৈধ।
ব্রাসিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক দেবোরা দিনিজ বিবিসিকে বলেন, ‘জিকার কারণে আমাদের দেশের অনেক নারীই এখন গর্ভবতী হওয়ার আতঙ্কে আছেন এবং গর্ভধারণ করার পর কী হবে তা নিয়ে একরকম অনিশ্চয়তায় আছেন তারা।’

গর্ভের সন্তান মাইক্রোসেফালি বা বিকৃত আকৃতির মাথা নিয়ে জন্মানোর সম্ভাবনা আছে কিনা তা স্ক্রিনিং পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন দিনিজ। তার মতে এটি কেবল গর্ভপাতের প্রশ্ন নয়, এটি নারী অধিকারের প্রশ্ন।

এদিকে ল্যাটিন আমেরিকান দেশগুলোতে জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ লাখ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। আগামী সোমবার জিকা ভাইরাসকে হুমকি বিবেচনা করে বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি করা হবে কিনা এ বিষয়ে বৈঠক করবে সংস্থাটি। সংস্থার মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চ্যান জানান, জিকা ভাইরাস হালকা হুমকি থেকে বিপজ্জনক অবস্থায় চলে গেছে। জিকা প্রতিরোধের জন্য দ্রুত সমাধান খোঁজারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে জিকা ভাইরাসের কোনও প্রতিষেধক বাজারে নেই। এছাড়া এই ভাইরাস ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষাও কঠিন।যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল ব্রাঞ্চ বর্তমানে এই ভাইরাসের টিকা নিয়ে কাজ করছে। এই ব্রাঞ্চের বিজ্ঞানীরা এরইমধ্যে উপদ্রুত এলাকায় সফর করে ভাইরাসে আক্রান্তদের রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তবে তারা বলছেন, এই ভাইরাসের উপযুক্ত টিকার পরীক্ষা চালাতে তাদের দুই বছরের বেশি সময় লাগতে পারে। আর তা পারা গেলেও মানুষের কাছে প্রতিষেধকটি সহজলভ্য করতে এক দশকের বেশি সময় লেগে যেতে পারে।    

এরইমধ্যে জিকা ভাইরাসের ব্যাপারে ব্রাজিলসহ বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে নেওয়া হয়েছে চরম সতর্কতামূলতা ব্যবস্থা। কারণ ২০টিরও বেশি দেশে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ল্যাটিন আমেরিকার হাজার হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ব্রাজিলের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, এই ভাইরাসের কারণে দেশটির সরকার নারীদের আগামী দুই বছর গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।   

এডিস মশা থেকে সাধারণত জিকা ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়িয়ে থাকে। এই ভাইরাস মানুষের শরীরে একবার প্রবেশ করলে প্রাথমিক অবস্থায় জ্বর, হাতে পায়ের জয়েন্টে ব্যাথাসহ নানা ছোটখাটো কিছু শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। কিন্তু তা কম সময়ের মধ্যে সেরেও যায়। তবে বিপত্তি তৈরি হয় গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে। গর্ভাবস্থায় জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাইক্রোফেলাসি তথা বিকৃত ও ছোট মাথা নিয়ে জন্ম নিতে পারে শিশু। এসব শিশুর বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি থাকে, শারীরিক বৃদ্ধি কম হয় এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সূত্র: বিবিসি

/এফইউ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ