ইউরোপে প্রথম জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা নারী শনাক্ত

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৫:০৬, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩২, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৬

আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী ইউরোপে শনাক্ত করা হয়েছে। স্পেনের এক গর্ভবতী নারীর শরীরে জিকা ভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই নারীসহ মোট সাতজনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক খবরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কলম্বিয়া থেকে সম্প্রতি ওই নারী দেশে ফিরেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানেই তিনি জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হন।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাতালনিয়া অঞ্চলে ওই গর্ভবতী নারীকে পরীক্ষা করা হয়। ওই নারী ছাড়াও দেশটিতে আরও ছয়জনের শরীরে জিকা ভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেছে। কাতালনিয়া এলাকা রয়েছেন আরও দুই রোগী, ক্যাসাইল ও লিওনে দুই জন এবং মুরসিয়া ও রাজধানী মাদ্রিদে একজন করে রোগীর শরীরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের স্বাস্থ্য স্বাভাবিক আছে।
বিবৃতিতে বিদেশ থেকে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি স্পেনে নিয়ে না আসার আহ্বান করা হয়েছে।
মাইক্রোসেফালি বা অস্বাভাবিক আকৃতির মাথা নিয়ে শিশু জন্মানোর কারণ হিসেবে জিকাকে দায়ী করা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দেশে মাইক্রোসেফালিতে আক্রান্ত শিশু জন্মের হার অস্বাভাবিক রকমের বেড়েছে। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের ২৩টিরও বেশি দেশে জিকা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন।  দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকায় এ বছর ৪০ লাখের মতো মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশংকা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে জিকার সংক্রমণজনিত রোগ মাইক্রোসেফালিকে বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গবেষকরা জানিয়েছেন, জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরিতে দশ বছর সময় লাগতে পারে।  

এদিকে জিকার কারণেই মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত শিশুর জন্ম হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য ব্রাজিল যথাযথ নমুনা সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দফতর।

সাধারণত এডিস মশার মাধ্যমে জিকার ভাইরাস ছড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রে ‘যৌন সংসর্গের’ মাধ্যমে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটায় দেশটি জিকা নিয়ে গবেষণায় তৎপর হয়েছে। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে জিকা ভাইরাসে সংক্রমিত একজন রোগীর সন্ধান পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, সম্ভবত যৌন সংসর্গের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে।

/এএ/

লাইভ

টপ