লাইভ রিপোর্টিংয়ের সময় যৌন নিপীড়নের শিকার সাংবাদিক!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৪০, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫১, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৬

জার্মানির কোলন শহরে ঐতিহ্যবাহী কার্নিভাল উদযাপনজার্মানির কোলন শহরে বর্ষবরণের সময় নারীদের ওপর সংঘবদ্ধ যৌন নিপীড়নের ঘটনার রেশ না কাটতেই শহরটিতে আবারও ঘটলো যৌন নিপীড়নের ঘটনা।  এবার বার্ষিক কার্নিভালে(বিশেষ ধরনের উৎসব) যোগ দিয়ে টেলিভিশনে লাইভ রিপোর্টিং করার সময় যৌন নিপীড়নের শিকার হন এক নারী সাংবাদিক। কেবল তাই নয়, প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকার পরও এদিন অন্তত ২২টি যৌন নিপীড়নের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। এরইমধ্যে সন্দেহভাজনদের খুঁজতে শুরু করেছে পুলিশ।
কোলনে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে শত শত নারীর সংঘবদ্ধ যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগের পর থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে শহরটি। বৃহস্পতিবার বার্ষিক কার্নিভালে যেন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেকারণে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিন কার্নিভাল চলার সময় উৎসবমুখর রাস্তা থেকেই লাইভ রিপোর্টিং করছিলেন বেলজিয়ামের টেলিভিশন চ্যানেল আরটিবিএফের রিপোর্টার এসমেরালদা লাবিয়ি। তিনি জানান, রিপোর্ট করার সময় পেছন থেকে কয়েকজন ব্যক্তি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে থাকেন। একজন এসে তার ঘাড়ে চুমু দিয়ে দেন। এরপর একজন তার কানে ফিস ফিস করে বাজে প্রস্তাব দিতে থাকেন।
এসমেরালদা জানান, প্রচুর জনসমাগম, প্রচুর সংখ্যক পুলিশ উপস্থিতির মধ্যে পরিস্থিতি এতো ভয়াবহ হতে পারে তা তার ধারণা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি আমার রিপোর্টিং চালিয়ে যাচ্ছিলাম এবং অনেকটা শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম। তখন একজন এসে আমার শরীরে হাত দিতে লাগলেন। তখন আমার মেজাজ চরমে পৌঁছে যায় এবং আমি তাদের দিকে ঘুরে চিৎকার করে বলে উঠি যে এমনটা দ্বিতীয়বার যেন না হয়, আমাকে ছোবে না, আমাকে ছোবে না।’

এসমেরালদা জানান, তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন ব্যক্তি তখন চলে যায়।     

লাইভ চলার সময় রেকর্ড হওয়া সে ভিডিওটি পুনঃসম্প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নেয় আরটিবিএফ। তবে দুটি ছবি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি কোলন পুলিশ বরাবর অভিযোগ্ও দায়ের করা হয়।

জার্মানির কোলনের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

ওই ঘটনায় প্রকাশিত ছবিতে থাকা এক তরুণ আত্মসমর্পণ করে দাবি করেন তিনি নিপীড়ন চালাননি। তদন্তের পর তার বক্তব্যের সত্যতা মেলায় পুলিশ ওই তরুণকে ছেড়ে দেয়।  

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর রাতে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কোলন সিটি সেন্টার ও এর আশেপাশের এলাকায় প্রচুর মানুষ জড়ো হয়। ভিড়ের সুযোগে কোলন স্টেশন ও সিটি সেন্টারের মাঝামাঝি জায়গায় একদল তরুণ নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। কোলন ছাড়াও হামবুর্গ আর স্টুটগার্ট শহরেও একইধরনের ঘটনা ঘটে। সে সময় যারা নিপীড়ন চালিয়েছে তারা আরব ও উত্তর আফ্রিকান বংশোদ্ভূত বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে বর্ষবরণের ঘটনার সঙ্গে বৃহস্পতিবারের ঘটনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

এসমেরালদার দাবি, বৃহস্পতিবার তার ওপর যারা নিপীড়ন চালিয়েছেন তারা ইউরোপীয়। নিপীড়করা জার্মান ভাষায় কথা বলছিলো বলে জানান তিনি। সূত্র: সিএনএন

/এফইউ/ 

 

লাইভ

টপ