গৃহযুদ্ধের বলি ৪ লাখ ৭০ হাজার, গড় আয়ু কমেছে ১৫ বছর

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:৩২, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩০, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৬

সিরিয়ায় বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ভবন থেকে এক শিশুকে উদ্ধার করা হচ্ছেসিরিয়ায় গত ৫ বছর ধরে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধে সরাসরি কিংবা পরোক্ষ কারণে অন্তত ৪ লাখ ৭০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিরিয়ান সেন্টার ফর পলিসি রিসার্স। তারা জানিয়েছে, গৃহযুদ্ধে মানুষের গড় আয়ু প্রায় ১৫ বছর কমে গেছে।
দেড় বছর আগে জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে সিরিয়ায় আড়াই লাখ মানুষের প্রাণহানির তথ্য দেওয়া হয়েছিল। এদিকে রেড ক্রসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার আলেপ্পোতে সরকারি বাহিনীর অভিযান জোরালো হওয়ার পর নতুন করে ৫০ হাজার মানুষ এলাকাটি ছেড়ে পালিয়েছে।  


সেন্টার ফর পলিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির মোট জনসংখ্যার সাড়ে ১১ শতাংশ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে কিংবা তারা আহত হয়েছেন। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আহত মানুষের সংখ্যা ১৯ লাখ। ২০১৫ সালে সিরিয়ায় প্রত্যাশিত গড় আয়ু কমে ৫৫.৪  এ দাঁড়িয়েছে। ২০১০ সালে সিরিয়ার মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭০ বছর।
এছাড়া সিরিয়ায় ৫ বছরের গৃহযুদ্ধে সর্বমোট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৫ বিলিয়ন ডলারে।  
প্রতিবেদনে বলা হয়, গৃহযুদ্ধে নিহতদের মধ্যে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে সংঘাতের কারণে। আর অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও খাদ্য স্বল্পতা এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবের কারণে প্রাণ হারিয়েছে বাকি ৭০ হাজার মানুষ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, দামেস্কভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসির প্রতিবেদনটিতে সিরিয়া সরকার ও তাদের মিত্র ইরান, রাশিয়া ও হিজবুল্লাহর কোনও সমালোচনা করা হয়নি। তাছাড়া বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রে সংগঠনের নাম উল্লেখ না করে কেবল বাশার আল আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টারত সশস্ত্র গোষ্ঠী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিরিয়ার আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রুশ বিমান হামলার সহায়তায় সরকারি অভিযান জোরালো হওয়া নিয়ে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের মধ্যেই নতুন এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হল।

একটি শরণার্থী শিবিরের সামনে খাবারের অপেক্ষায় সিরীয় শরণার্থীরা

সিরিয়ার আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সরকারি বাহিনীর জোরালো অভিযানের কারণে সেখানে বসবাসরত কয়েক লাখ বেসামরিক নাগরিক খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন বলে মঙ্গলবার আশঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘ। আলেপ্পোর দিকে সরকারি বাহিনীর অগ্রসরতার কারণে তুরস্ক সীমান্তের সঙ্গে থাকা শহরটির সর্বশেষ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে এ সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা জানানো হয়।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী বিভাগের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হওয়ার ব্যাপারে আলোচনা না হলে শহরটিতে বসবাসরতদের মধ্যে অন্তত ৩ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে।’
শহরটিতে সরকারি বাহিনীর অভিযান চলতে থাকলে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ বেসামরিক নাগরিক শহরটি ছেড়ে পালাতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে জাতিসংঘ। আর এরইমধ্যে ৫০ হাজার মানুষ শহরটি ছেড়ে পালিয়েছে বলে বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রেডক্রস।

সিরিয়ার সবচেয়ে বড় শহর হিসেবে পরিচিত আলেপ্পোতে একসময় ২০ লাখ মানুষের বসবাস ছিল। রাশিয়ার বিমান হামলা এবং ইরানি ও লেবানীয় হিজবুল্লাহ বাহিনীর সহায়তায় গত সপ্তাহে আলেপ্পোতে অভিযান জোরদার করে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ