এল নিনোর প্রভাবে সংকটে ১০ কোটি মানুষ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৫৩, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৪, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৬

মালাবির এক কৃষকপ্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলস্রোতজনিত আবহাওয়া পরিস্থিতি বা এল নিনোর কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার প্রায় ১০ কোটি মানুষ খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট এবং বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে ভুগছে। এল নিনোর কারণে সৃষ্ট মারাত্মক খরা ও বন্যায় এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবিক সহায়তাকারী সংস্থা। এছাড়া ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফসল উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এল নিনোর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে প্রাকৃতিকভাবে উষ্ণতার কারণে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার কারণে বিশ্বজুড়ে কয়েক বছর পর পর খরা, বন্যা এবং ঘন ঘন সাইক্লোন দেখা দেয়। এল নিনো হচ্ছে সমুদ্রের উপরিভাগের জলের তাপমাত্রার একটি নিরবচ্ছিন্ন পরিবর্তন।  পূর্ব-কেন্দ্রীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় শান্ত সমুদ্রের জলের গড়পড়তা তাপমাত্রায় যখন কমপক্ষে ০.৫° সেলসিয়াস হ্রাস-বৃদ্ধি হয় তখনকার পরিস্থিতিকে এল নিনো বলে বিবেচনা করা হয়৷ ২ থেকে ৭ বছর পরপর এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, ৩৫ বছরের মধ্যে এ বছর এল নিনোর প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ এবং তা ক্রমাগত বাড়ছে। অবশ্য পরবর্তী ছয় মাসে এল নিনোর শক্তি কমবে। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এরইমধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃষি, স্বাস্থ্য এবং জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর এল নিনোর যে প্রভাব পড়েছে তা আরও দুই বছর কিংবা বেশি সময় ধরে থাকতে পারে।  
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ইউএনডব্লিউএফপি) জানায়, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাম্বিয়া, মালাবি এবং সোয়াজিল্যান্ডের খরা দুর্গত এলাকার গ্রামে বসবাসরত ৪ কোটি মানুষ এবং শহরে বসবাসরত ৯০ লাখ মানুষের জন্য আগামী বছর খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হবে।

জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কোঅর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওচা) এর হিসেব অনুযায়ী ইথিওপিয়ার ১ কোটি মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। আর গুয়াতেমালা এবং হন্ডুরাসে ২৮ লাখ মানুষের জন্য সহায়তার প্রয়োজন।

ওচার প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৫ সালের মাঝামাঝি থেকে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ তাপপ্রবাহ, দাবানল এবং পানি স্বল্পতায় ভুগছে। ২০১৬ সাল জুড়ে চাষাবাদের ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির স্বীকার হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

এল নিনোর কারণে ইথিওপিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে

এল নিনোর কারণে খাদ্যাভাব দেখা দেওয়ায় এরইমধ্যে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের ১০ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক লিলা ঘারাগোজলু। তার মতে, এল নিনোর যে প্রভাব দেখা যাচ্ছে তা গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ।   

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাউ) এবং দুর্ভিক্ষের আগাম সতর্কতাবিষয়ক নেটওয়ার্ক এর দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফসল উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এল নিনোর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।’ অঞ্চলটিতে গত ৩৫ বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষা মৌসুম চলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও এর আশঙ্কা, পেরু, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে এবং ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে এল নিনোর কারণে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। আর তাতে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। ডব্লিউএইচও বলছে, ‘জিকাবাহী এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে থাকে। আর ভারি বৃষ্টির কারণে এডিস মশা বংশবিস্তারের প্রচুর জায়গা পেয়ে যাবে এবং জিকার বিস্তার ঘটতে পারে।’  

মাপুতোতে নিয়োজিত বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এর কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে বালদে জানান, যদি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি না হয় তবে মোজাম্বিক ও আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোতে দুযোর্গ নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রেকর্ডের তালিকায় সবচেয়ে শক্তিশালী এই এল নিনোর কারণে ২০১৬ সালটিতে ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বাড়বে বলে গত ডিসেম্বরেই আশঙ্কা জানিয়েছিল বেশ কয়েকটি ত্রাণ সংস্থা। 

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়া আর ইবোলা আক্রান্ত দেশগুলো নিয়ে উদ্বেগে থাকার কারণে এল নিনোর দিকে দৃষ্টি কম দিচ্ছে। আর সেকারণে খাদ্য সহায়তার আহ্বানে যথাযথ সাড়া না পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ