নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এবার বিজ্ঞানীদের সংহতি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:৫৩, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৭, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬

ভারতের জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে এবার সংহতি জানালেন ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা। প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য জগদীশ কুমারের কাছে লেখা ৩৭৮ জন বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তারা বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এ বছর জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল শিক্ষার্থীর আফজাল গুরুর ফাঁসি কার্যকরের বর্ষপূর্তি পালনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে ভারত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীদের আফজাল গুরুকে ফাঁসিতে ঝোলানোর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া এবং রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ভারতীয় দ্ণ্ডবিধির ১২৪ এ (দেশদ্রোহিতা) ও ১২০ বি (ফৌজদারি চক্রান্ত) মামলা দায়ের করেন বিজেপি নেতা মহেশ গিরি ও বিজেপির ছাত্র শাখা এবিভিপি। এনডিএ সরকারের মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্মৃতি ইরানি কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এরইমধ্যে ছাত্র নেতা কল্যাণ কানহাইয়াকে ১৪ দিনের জন্য বিচারিক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমহগুলো খবর দিয়েছে, ‘রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেওয়া’ শিক্ষার্থীদের হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। তবে ভারতের বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। কেবল ভারত নয়, ইতিমধ্যে নোম চমস্কি, হোমি কে ভাবা, ডুডিথ বাটলার-সহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে চারশ শিক্ষাবিদ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন। এবার বিজ্ঞানীরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানালেন।

বিজ্ঞানীদের চিঠিতে ছাত্রনেতা কল্যাণ কানহাইয়ার গ্রেফতারকে অনৈতিক এবং অবৈধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উপাচার্যের কাছে লেখা ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বদলে বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমননীতির বৈধতা দিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আফজাল গুরুর ফাঁসি নিয়ে বিতর্ক করার অধিকার শিক্ষার্থীদের রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত চিন্তার ক্ষেত্র এবং বিতর্ককে অ্যাকাডেমিক নৈতিকতার ভিত্তি উল্লেখ করে ওই চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের ভূমিকাকে রাষ্ট্রবিরোধী বলার মধ্য দিয়ে নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকারের রোষ থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। চিঠিতে শিক্ষার্থীদের পুলিশি দমন প্রক্রিয়ার হাত থেকে মুক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।  সূত্র: স্ক্রল.ইন

/বিএ/

লাইভ

টপ