behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

কলম্বিয়ার কারাগারে কেন শতাধিক অজ্ঞাত মরদেহ?

বিদেশ ডেস্ক১৭:৫৭, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৬

কলম্বিয়ায় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নতুন কিছু নয়। দীর্ঘ সময় ধরে দেশটি কার্যত গৃহযুদ্ধের মধ্যেই রয়েছে। আর এ সময়ে বেশ কয়েকটি গণহত্যাও সংঘটিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কারাগারের নর্দমায় পাওয়া শতাধিক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এমনটিই ঘটেছিল। তাদের হত্যার পর ওই নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয় বলে মনে করা হচ্ছে। কারা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন।

তদন্ত মূলত বোগোটার কুখ্যাত লা মডেলো কারাগারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে। তবে কর্মকর্তারা জানান, হত্যা করার পর মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে নর্দমায় ফেলে দেওয়ার ঘটনাগুলো ১৯৯৯, ২০০০ বা এর পরের বছরগুলোতে পোপায়ান, বুকারামাঙ্গা এবং বারাঙ্কিলা জেলেও ঘটে থাকতে পারে।

জনাখীর্ণ কলম্বিয়ান কারাগার

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ক্যাটরিনা হেইক পুয়ানা জানিয়েছেন, লা মডেলো কারাগারে কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস কয়েক মাস ধরে তদন্ত করছে। তিনি বলেছেন, ‘গত বছরের শেষের দিকে আমরা লা মডেলো কারাগার থেকে গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘খুন হওয়া ব্যক্তিরা কারাবন্দী, পরিদর্শক, অথবা এমন কোনও ব্যক্তি যাদের কারাগারের সাথে কোনও সম্পর্কই ছিল না। তাদের শরীরের খণ্ডাংশ নর্দমায় নিক্ষেপ করা হয়।’

তদন্তের অগ্রগতি

সাবেক আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মারিও জেইমস ওরফে এল পানাদেরো এবং আলেজান্দ্রো কারদেনাজ অরোজকো ওরফে জেজে-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তদন্তের কাজ।

তাদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন, অপহরণ, ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০০০ সালে খুন ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা সাংবাদিক জিনেথ বেদোয়ার অপহরণ এবং ধর্ষণের মামলাটিও। মারিও জেইমস আধা-সামরিক বাহিনীর প্রধান থাকার সময় এসব অপরাধ সংঘটিত হয় বলে জানা গেছে।

কলম্বিয়ার সেই কারাগার

তবে জেইমস এবং কারদেনাজ উভয়েই এসব অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেরা করার সময় তাদের তথ্যের মাঝে অসামঞ্জস্যতা খুঁজে পাওয়া গেছে।

বুধবারের ওই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক জিনেথ বেদোয়া’ও উপস্থিত ছিলেন। এই নারী সাংবাদিকের অভিযোগ তার ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে সেটার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে দেশটির কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার ঘাটতি ছিল। সাংবাদিক জিনেথ বেদোয়া বলেন, ‘আমি এজন্য কৃতজ্ঞ যে এখন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ ঘটনা ঘটেছিল আরও বহু বছর আগে।’

সাংবাদিক জিনেথ বেদোয়া

তিনি বলেন, ১৫ বছরেরও বেশি সময় আগে এল পানাদেরো’র সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কলম্বিয়ান অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে গৃহীত তার ওই সাক্ষ্য ছিল পুরোটাই মিথ্যা। এ মামলায় ফাঁকফোঁকর বের করা এবং দোষীদের শাস্তি থেকে রেহাই দিতেই ওই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল।

সত্যের সন্ধানে

কর্মকর্তারা বলছেন, কারাগারের নর্দমায় পাওয়া শতাধিক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহের পরিচয় হয়তো কখনও শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

জিনেথ বেদোয়া বলেন, তার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে শুধু সেটাই নয় বরং পাঁচ বছরের সংঘাতে কলম্বিয়াবাসী যে বিভীষিকার শিকার হয়েছিলেন সেটা বেদনাদায়ক। ওই সময়ে বিভিন্ন গেরিলা গ্রুপ, আধাসামরিক গ্রুপ, মাদক পাচারকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল।

কলম্বিয়ার বামপন্থী বিদ্রোহীদের সর্ববৃহৎ গ্রুপটি হচ্ছে ‘রেভ্যুলেশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়া’ (ফার্ক)। কলম্বিয়ার সরকার এই গ্রুপটির সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি স্থাপনে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল স্যান্টোস বলেছেন, আগামী মাসে সত্যিকারের একটা চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

জিনেথ বেদোয়া বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা শুধু তার ঘটনার ক্ষেত্রেই নয়, কারাগারে এবং আধাসামরিক বাহিনীগুলোর হাতে যারা ভিকটিম হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য।’ সূত্র: সিএনএন।

/এসএ/এমপি/বিএ/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ