behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা না থাকাআসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে জমজমাট যুক্তরাজ্যের রাজনীতি

বিদেশ ডেস্ক২১:৪২, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের থাকা না থাকাকে কেন্দ্র করে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা চলতি বছরের ২৩ জুন। এ নিয়ে জমে উঠেছে সেখানকার জাতীয় রাজনীতি। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, আসন্ন গণভোটে লন্ডনের মেয়র এবং কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতা বরিস জনসনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার পক্ষে প্রচারণা করবেন। লন্ডনের আরেক সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী জ্যাক গোল্ডস্মিথও একইভাবে ক্যামেরনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ক্যামেরনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বরিস জনসন

বরিস জনসন বলেন, ‘আমি এক নতুন ধরনের সম্পর্ক দেখতে চাই, যাতে প্রাধান্য পাবে বাণিজ্য এবং সহযোগিতা। আর তাতে উন্মুক্ত সীমান্তের বিষয়টি হবে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ। আমি এই অবস্থান থেকেই ক্যামেরন সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি মনে করি না, এর বেশি কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে যা-ই বলা হোক না কেন, আমি না-থাকার পক্ষেই প্রচারণা চালাবো। আমি জানি এর পক্ষে অনেক জনসমর্থন রয়েছে। কারণ আমি চাই এমন এক চুক্তি, যা দেশের জনগণের পক্ষে যাবে। যেখানে জনগণের অর্থের সাশ্রয় হবে এবং তার উপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। আর এটাই হলো মোদ্দা কথা।’  

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেনের থাকা – না থাকার প্রশ্নে চলতি বছরের ২৩ জুন গণভোটের ঘোষণা দেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে ক্যামেরন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসা (ব্রেক্সিট) হবে ‘অন্ধকারে ঝাঁপ দেয়ার সামিল।’ ক্যামেরন জানান, সংস্কার হওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত থাকার পক্ষেই প্রচারণা চালাবেন তিনি। উল্লেখ্য, গণভোটে বেরিয়ে আসা শিবিরকে ‘ব্রেক্সিট’ নামে ডাকা হচ্ছে।

ডেভিড ক্যামেরন

বিবিসির রাজনৈতিক বিশ্লেষক লরা কুয়েনসবার্গ মনে করেন, বরিস জনসনের সিদ্ধান্ত ‘ব্রেক্সিট’ বা ‘আউট’ শিবিরের জন্য মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আর এর বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের জন্য এটা হবে বড় একটা ধাক্কা। কারণ বরিস ইতিমধ্যেই তার বন্ধু ও প্রতিপক্ষদের মধ্যে ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে সম্মতি জানালেও অনেকেই আবার ক্যামেরনের বিপক্ষে প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার প্রশ্নে যেসকল মন্ত্রী সমর্থন জানিয়েছেন তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে।

লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন গত বছর শহরের একটি নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ইতিমধ্যে তিনিসহ ক্যামেরনের মন্ত্রীসভার আরও ছয়জন সদস্য ‘আউট’ শিবিরকে সমর্থন জানিয়েছেন।

লন্ডনের আরেক সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী জ্যাক গোল্ডস্মিথও বলেছেন, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষেই ভোট দেবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকলে যুক্তরাজ্যে প্যারিস-ধাঁচের সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্ম ও পেনশন মন্ত্রী আয়ান ডানক্যান স্মিথ। তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য থাকলে যুক্তরাজ্যে গত বছর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে হওয়া সন্ত্রাসী হামলার মতো হামলা হওয়ার দ্বার খোলা থাকবে।’

ইয়ান ডানক্যান স্মিথ

শরণার্থী সমস্যাকে চিহ্নিত করে স্মিথ বলেন, ‘প্যারিসে কী ঘটেছে, তা আমরা দেখেছি। সেখানে তারা সময় নিয়ে হামলা পরিকল্পনা করেছে। আর এখন যেভাবে সীমান্ত খোলা রাখা হচ্ছে, তাতে আমরা অনেকেই মনে করছি যে, এর মা্ধ্যমে আসলে সন্ত্রাসী তৎপরতার দ্বার খোলা রাখা হচ্ছে। আমাদের এ বিষয়টির সমাধান করা দরকার।’

তবে ক্যামেরনের পক্ষেও যে সমর্থন একেবারেই নাই, এমনটি নয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালনের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকেই দেশকে নিরাপদ আর শক্তিশালী করা সম্ভব। রেডিওতে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইইউ, ন্যাটো বা জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বমূলক সংস্থা দ্বারা যুক্তরাজ্য সবসময়ই লাভবান হয়েছে।’

লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন

তিনি নিরাপত্তা বিষয়ক শঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা মূলত ন্যাটোর ওপর নির্ভরশীল, ইইউ-র ওপর নয়। তবে ইইউ যে নিরাপত্তা বিধান করতে পারে, তা ন্যাটোর পক্ষেও সম্ভব নয়। কারণ ইইউ-র মাধ্যমে আপনি অপরাধীদের নথিপত্র, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় কাগজ আদান-প্রদান করতে পারেন, যা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে কার্যকর হবে। আমরা রাশিয়ার আগ্রাসন বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথতার শক্তিকে বুঝতে হবে। আমাদের ওই বৃহৎ অংশীদারিত্বের অংশ হতে হবে।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি।

/এসএ/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ