কোলনে যৌন সহিংসতার বেশিরভাগ সন্দেহভাজনই ধরাছোঁয়ার বাইরে

বিদেশ ডেস্ক১৪:৪৩, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৬

জার্মানির কোলন শহরে বর্ষবরণ উৎসবে ব্যাপক যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জড়িত বেশিরভাগ সন্দেহভাজনই ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের কখনও আটক করা সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কোলনের পুলিশ প্রধান জুয়ের্গান ম্যাথিস।

জুয়ের্গান ম্যাথিস ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, কেবল সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই যৌন নিপীড়কদের শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ এতোটা ভালো নয় যে, এর সাহায্যে যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যাবে। ফুটেজে আমরা দেখতে পাচ্ছি, কেউ কেউ চুরি করছেন, কিন্তু এটুকুই। আমরা মূলত প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিপীড়িতদের ওপর নির্ভর করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করছি।’

জুয়ের্গান ম্যাথিস

তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত ৭৫ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। এদের বেশিরভাগই উত্তর আফ্রিকার অবৈধ অভিবাসী অথবা আশ্রয়প্রত্যাশী। ওই ঘটনায় নথিভুক্ত অপরাধের সংখ্যা ৫ শতাধিক। যার মধ্যে ৪০ শতাংশই যৌন নির্যাতনমূলক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বর্ষবরণের ওই অনুষ্ঠানের ঘটনায় দুই মরোক্কান এবং এক তিউনিশীয় চুরির অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। বর্ষবরণের উৎসবে সংগঠিত অপরাধের মধ্যে এটিই প্রথম ঘটনা, যা নিয়ে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। চুরির ঘটনায় অন্তত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হলেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত কেবলমাত্র এক আলজেরীয় শরণার্থীকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

কোলনের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের শেষ প্রহরে সারা জার্মানি যখন নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আনন্দে মাতোয়ারা, তখন কোলনসহ হামবুর্গ এবং স্টুটগার্ট শহরে ব্যাপক যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতন চালানো হয় নারীদের ওপর। সবচেয়ে বড় চক্রটি সক্রিয় ছিল কোলনে। শহরের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনকে ঘিরে সেদিন সহস্রাধিক পুরুষ রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়েন নারীদের ওপর। এছাড়াও ছিনতাই এবং লুটের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় জার্মানির পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। কোলনের তৎকালীন পুলিশ প্রধান উলফগ্যাং আলবেসকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পদচ্যুত করা হয়। সূত্র: বিবিসি।

/এসএ/বিএ/

লাইভ

টপ