ইরানে গুরুত্বপূর্ণ দুই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:৪৮, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৪, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৬

ভোট দিচ্ছেন ইরানিরাদুই সপ্তাহের তুমুল প্রচারণা শেষ হওয়ার পর অবশেষে দেশের পার্লামেন্ট (মজলিশ) ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রতিনিধিদের বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন ইরানের জনগণ। ইরানের স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল আটটা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয় আর তা চলবে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। তবে ভোটার উপস্থিতি বেশি হলে প্রয়োজনে ভোট দেয়ার সময় বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার ব্যাপারে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে চুক্তির পর প্রথমবারের মতো ইরানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, ৮ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইরানের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি ভোটার এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। পার্লামেন্টের ২৯০টি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৬ হাজার ২২৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৫৮৬ জন। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে চার বছরের জন্য মজলিশ বা পার্লামেন্ট সদস্যদের বেছে নেবেন ইরানিরা। মজলিশের সদস্যদের আইন প্রণয়ণের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে অনাস্থা প্রকাশের ক্ষমতা রয়েছে। আর বিশেষজ্ঞ পরিষদের জন্য ৮৮ জন ধর্মীয় নেতাকে ৮ বছরের জন্য বেছে নেওয়া হবে। এ বিশেষজ্ঞ পরিষদই ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে বাছাই করে থাকেন। পরিষদ চাইলে সর্বোচ্চ নেতাকে উৎখাত করতে পারে।
ইরানের আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ২৪ ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় নির্বাচনি প্রচারাভিযান শেষ হয়। রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন ইরানিরা

এদিকে ইরানের মজলিশ ও বিশেষজ্ঞ পরিষদে এক দশকের রক্ষণশীল আধিপত্যের অবসানে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সংস্কারপন্থী নেতারা। জয়ের জন্য চেষ্টায় বিন্দুমাত্র কমতি রাখতে চান না তারা। আর সেকারণে দলের অনেকে প্রার্থিতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত না হওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির মিত্র বলে বিবেচিত মধ্যপন্থীদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন সংস্কারপন্থীরা। 

মধ্যপন্থী ও সংস্কারপন্থী জোটের প্রার্থীদের ‘দ্য লিস্ট অব হোপ’ নামে ডাকা হচ্ছে। আর এ ‘দ্য লিস্ট অব হোপ’ নামের তালিকায় থাকা প্রার্থীদের জন্য জোটের কর্মীরা গত সপ্তাহে প্রচারণা চালিয়ে গেছেন। তালিকায় শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মোহাম্মদ রেজা আরেফের নাম রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ‘প্রিন্সিপলিস্টস’ বা রক্ষণশীলরাও গোলাম আলী হাদদাদ আদেলের নেতৃত্বে একটি জোট গঠন করেছে। গোলাম আলীর পরবর্তী পার্লামেন্টারি স্পিকার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সংস্কারবাদীরা ইংল্যান্ড ও বিবিসির পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করে আসছেন রক্ষণশীলরা। ‘বিবিসি সমর্থিত প্রার্থীকে না’ বা ‘নো টু বিবিসি ফেবারড ক্যান্ডিডেটস’ নামে প্রচারণা চালিয়েছে তারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইরানের এবারের মজলিশ ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচনে অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ইরানের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের পর পশ্চিমা বিনিয়োগকারীরা দেশটিতে ফেরত যেতে শুরু করায় জীবন মান উন্নয়নে আশাবাদ বেড়েছে। সংস্কারবাদী এবং মধ্যপন্থীরা বিদেশি বিনিয়োগকে প্রাধান্য দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। আর তাদের ও প্রচারণা ইরানের তরুণদের আকর্ষণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ইরানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি তরুণ হলেও দেশটিতে তরুণদের বেকারত্বের হার ২৫ শতাংশ।

তবে রক্ষণশীলদের দাবি, দেশের ভেতরকার উৎপাদনের মাধ্যমেই শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবদ্ধি আসতে পারে। সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা 

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ