behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

জলবায়ু পরিবর্তন: ২০৫০ থেকে বছরে ৫ লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা

বিদেশ ডেস্ক১৯:৪৭, মার্চ ০৩, ২০১৬


ভারতের একটি বাজারের দৃশ্যবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে ২০৫০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে বছরে ৫ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেডিক্যাল সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় এমন আশঙ্কা জানানো হয়েছে।
এটিই প্রথম গবেষণা যেখানে বৈশ্বিক উষ্ণতা খাদ্যের গুণাগুণের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা দেখানো হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, উষ্ণায়নের কারণে কিছু কিছু ফল ও শাক-সব্জি আরও দুস্প্রাপ্য হয়ে উঠবে। ফসল উৎপাদন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন গাণিতিক মডেলকে একত্রিত করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, বর্তমানে দারিদ্র্যের হার কমে যাওয়ার কারণে অপুষ্টিজনিত মৃত্যুহারও কমেছে। তবে, ক্রমাগত কার্বন নির্গমন চলতে থাকলে ইতিবাচক এ ধারায় পরিবর্তন আসবে। জলবায়ুর মারাত্মক পরিবর্তনের কারণে খাদ্যের প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। আর তা চলতে থাকলে ২০৫০ সালে অতিরিক্ত ৫ লাখ ২৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্বন শুষে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ২০৫০ সালে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।  
গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালে মানুষের কাছে ফল ও শাক-সবজির শাক-সবজির সহজলভ্যতা ৪ শতাংশ, ক্যালরি ৩ শতাংশ এবং লাল ও প্রক্রিয়াকরণকৃত মাংসের সহজলভ্যতা ০.৭ শতাংশ কমে যাবে। গবেষকদের মতে, ফল ও শাক-সবজির স্বল্পতার কারণে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে ধনী দেশগুলোতে। অন্যদিকে ক্যালরির স্বল্পতার কারণে ভারত ও চীনে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে। তবে লাল ও প্রক্রিয়াকরণকৃত মাংসের সহজলভ্যতা কমলে কোনও কোনও দেশে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা।

তবে যাই হোক না কেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাদ্যের গুণগত মানের পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বের সব দেশের ওপরই পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।

জলবায়ুর পরিবর্তন যে একবিংশ শতাব্দীতে স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে তার ইঙ্গিত এরইমধ্যে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। গবেষকদের দাবি, বন্যা, খরা আর সংক্রামক রোগ বেড়ে গিয়ে উন্নয়নের গতি ৫০ বছর পিছিয়ে যাবে।

গুয়াতেমালার একটি বাজারে সবজি বিক্রি করছেন নারীরা

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পিটার স্কারবোরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লাখ লাখ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়লেও অনেকে পরোক্ষ প্রভাবের শিকার হতে পারেন। তার মতে, ‘বিশ্বের সব মানুষই খায়। আর তাই খাবারের গুণাগুণের ক্ষেত্রে সামান্যতম পরিবর্তন খুব দ্রুত অনেক মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে।’

গবেষকদের দাবি, তারা যে ৩৫ বছের পরের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন, তার মানে এই নয় যে তার আগে কোনও ধরনের অনিশ্চয়তা নেই। তাদের মতে, এ সময়ের মধ্যেও প্রভাব পড়বে; তবে ২০৫০ সালের পর তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।  

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে ধান উৎপাদন না হওয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে গবেষকরা বলেন, ‘প্রতি ১শ বছরে একবার উষ্ণ জলস্রোতজনিত প্রভাব দেখা যাওয়ার প্রবণতা পরিবর্তিত হয়ে ২১শ সাল নাগাদ তা প্রতি চার বছরে একবারের ঘটনায় পরিণত হতে পারে।’ 

এদিকে গবেষকদের আভাস নিয়ে খানিক অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন স্কারবোরো। কারণ বিভিন্ন গবেষণায়, ২০৫০ সালে খাদ্যের গুণ নষ্ট হওয়ার কারণে সম্ভাব্য অতিরিক্ত মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ১৪ হাজার থেকে ৭ লাখ ৩৬ হাজার পর্যন্ত বলা হয়েছে। তবে তার দাবি, নতুন গবেষণাটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট পরিসংখ্যান। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এফইউ/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ