ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:০২, মার্চ ০৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫১, মার্চ ০৪, ২০১৬

এবার ক্যানসার নিয়ে গবেষণায় যুগান্তকারী সাফল্যের দাবি করলেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা। মানবদেহে টিউমারের ভেতরে আক্রান্ত কোষ ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধ্বংসকারী কোষকে আলাদা করে চিহ্ণিত করে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব বলে দাবি করেছেন তারা। আর এর মধ্য দিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে নির্দিষ্ট ক্যান্সার সেল ধ্বংস করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, এ পদ্ধতির মধ্য দিয়ে সব ব্যক্তির শরীরে একইরকম চিকিৎসা না দিয়ে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন চিকিৎসার দুয়ার খুলবে বলেও আশা করছেন গবেষকরা।

ক্যান্সার আক্রান্ত একজনকে কেমোথেরাপি দেওয়া হচ্ছে

ক্যান্সার রিসার্স ইউকে’র তহবিলের আওতায় লন্ডনের এক ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের গবেষকরা যুগান্তকারী এ আবিষ্কারের দাবি করেন। তবে এখনও কোনও মানুষের শরীরে এ প্রক্রিয়া চালানো না হলেও আগামী দুই বছরের মধ্যে এটি কার্যকরী হবে বলে আশা করছেন তারা।

গবেষকদের মতে, মানবদেহভেদে ক্যানসারের কোষগুলো সব একইরকম হয় না। এগুলো পরিবর্তিত হয়। একই টিউমারের কোষগুলোও পরস্পর থেকে ভিন্ন আচরণ করতে পারে। 

মানুষের শরীরে বাসা বাঁধা টিউমার বা ক্যান্সারের চিকিৎসায় যে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি ব্যবহার করা হয় তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি থাকে। এক্ষেত্রে রোগীর শরীরের জন্য উপকারি বা রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোও নষ্ট হয়ে যায় এবং রোগী বেশিমাত্রায় দুর্বল হয়ে পড়েন। তবে নতুন পদ্ধতির আওতায় আক্রান্তের টিউমারের ক্যান্সার সেল শনাক্ত করে সেখানে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রোটিনযুক্ত ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করতে পারবেন চিকিৎসকরা। আর তাতে রোগীর শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যেভাবে ক্যান্সারের নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিটি কাজ করতে পারে

ইউসিএল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট এর অধ্যাপক চার্লস সোয়ানটন বলন, ‘এটা দারুণ হবে যদি টিউমারের কোষগুলো প্রত্যেকটাকে ধরে পরিবর্তন করা সম্ভব হয়। প্রত্যেক রোগীর জন্যই আলাদা আলাদা চিকিৎসা সম্ভব হবে।’

গবেষকদের দাবি, এ চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করা হলে তা সারাজীবন বহাল থাকতে পারে এবং রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।

এদিকে নতুন এ আবিষ্কারকে স্বাগত জানালেও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা বাস্তবে বিষয়টি এতোটা সহজ নাও হতে পারে। চিকিৎসাটি ব্যয়বহুলও হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বিজ্ঞানীদের দাবি, রোগীর শরীরের টিউমারের প্রত্যেকটি ক্যান্সার সেল ধ্বংস করা সম্ভব

এর আগেও টিউমার ধ্বংসের মাধ্যমে ক্যানসারের প্রতিষেধক আবিষ্কারের দাবি করা হয়েছে। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছে।  এক্ষেত্রে যে ব্যাখ্যাটি দেওয়া হয়ে থাকে তাহল-রোগীর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল লক্ষ্যে পরিচালিত হওয়া। সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল, স্কাই নিউজ

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ