behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

অর্থাভাবে শখের চিড়িয়াখানা বিক্রি!

বিদেশ ডেস্ক১০:০৫, মার্চ ০৮, ২০১৬

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ওয়েইদা (২৪)। তার সমৃদ্ধ চিড়িয়াখানায় ছিল বাঘ, উটপাখি ও পেলিক্যানের মতো প্রাণীরা। কিন্তু অর্থাভাবে প্রাণীদের খাবার দিতে না পারায় বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে তার প্রাণীনিবাস। ক্ষুধার সঙ্গে লড়াইয়ে এরইমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২০০ প্রাণীর।

অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন আর বাকি প্রাণীদের অনাহারে মৃত্যুর অপেক্ষায় বসে থাকতে চান না গাজার এই চিড়িয়াখানার মালিক। তাই বাদবাকি প্রাণীগুলোকে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোহাম্মদ ওয়েইদা।

গাজা’র দক্ষিণাঞ্চলীয় খাঁন ইউনিস শহরে গড়ে উঠেছিল ওয়েইদা’র এই চিড়িয়াখানা। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে যেখানে মানুষকেই লড়তে হয় ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সেখানে প্রাণীদের যোগানোর মতো খাবার কোথায়? তিলে তিলে গড়ে তোলা শখের চিড়িয়াখানায় প্রিয় প্রাণীগুলোকে খাবার দিতে না পেরে বিষণ্ন ওয়েইদা। অনাহারে প্রাণীদের মৃত্যুর মিছিলে এখন সেখানে মোট প্রাণীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫টি। কিন্তু তাদেরও খাবার দিতে পারছেন না ওয়েইদা।

চিড়িয়াখানার খাঁচায় চারদিন ধরে অভুক্ত অবস্থায় রয়েছে একটি বাঘ। তার পাশে দাঁড়িয়ে ওয়েইদা জানান, প্রাণীগুলোকে রক্ষা করতে সেগুলোকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

মূলত মিসর থেকে সুড়ঙ্গপথে এই প্রাণীগুলোকে গাজায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে ২০১৪ সালে ফিলিস্তিনে সাত সপ্তাহের ইসরায়েলি আগ্রাসনে আর্থিকভাবে বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হন ওয়েইদা। প্রাণীগুলোর খাবার নিয়ে টানাপড়েনের শুরুটা মূলত সেখান থেকেই।

সাত সপ্তাহের ওই যুদ্ধের ক্ষত এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি ওয়েইদা। যার ফলশ্রুতিতে মৃত্যু হতে যাচ্ছে তার স্বপ্নের প্রাণীনিবাসের। আপাতত স্বপ্নের চেয়ে বড় বিষয় এখনও বেঁচে থাকা প্রাণীগুলোকে ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখতে অন্যত্র হস্তান্তর। নিজের কাছে না থাকুক; অন্তত ভালো থাকুক প্রিয় প্রাণীগুলো। কারণ এরইমধ্যে হারানো প্রাণীগুলোর তালিকায় আছে সিংহ, বাঘ ও শিম্পাঞ্জির মতো প্রাণী।

এক সময় এ চিড়িয়াখানার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ভিড় করতো শিশুরা। কিন্তু এখন একদিকে কমেছে প্রাণীর সংখ্যা, অন্যদিকে এখনও বেঁচে থাকা প্রাণীগুলোরও শীর্ণকায় অবস্থা। তাই এখন আর এদিকে পা বাড়াতে রাজি নয় শিশু বা দর্শনার্থীরা।

বর্তমানে গাজার একটি সিংহ ক্লাবের মালিকের কাছে প্রাণীগুলো বিক্রির বিষয়ে কথা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বাঘ, উটপাখি, কচ্ছপ ও পেলিক্যানের মতো প্রাণীরা রয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

/এমপি/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ