behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

গণমাধ্যমেও প্রান্তিক নারী

বিদেশ ডেস্ক১১:৫০, মার্চ ০৮, ২০১৬


গণমাধ্যম কি নারীর প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে সক্ষম? এই বিতর্ক বহুদিনের।  গত বছরের শেষে এ নিয়ে প্রকাশিত হয় এক প্রতিবেদন। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ১১৪টি দেশ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে বৈশ্বিক গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ প্রকল্প (গ্লোবাল মিডিয়া মনিটরিং প্রজেক্ট) এর করা ওই গবেষণায় যে চিত্র উঠে এসেছে তা মোটেও ইতিবাচক বা সম্ভাবনাময় নয়।

বিভিন্ন পেশার নারী
ওই প্রতিবেদনের ফলাফল থেকে জানা যায় –

  • গণমাধ্যমে যাদের দেখা, শোনা ও পড়া হয় তাদের মাত্র ২৪ শতাংশ নারী। পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১০ সালেও এই হার একই ছিল। পাঁচ বছরে এ বিষয়ে কোন ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি।
  • নারীকে অপরাধ বা সহিংসতার শিকার হিসেবে দেখানোর হার পুরুষের তুলনায় দ্বিগুণ। এই হার অপরিবর্তিত রয়েছে প্রায় এক দশক ধরে।
  • সংবাদে বেশ কয়েকটি ভূমিকায় মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়ে থাকে। এদের মধ্যে রয়েছেন বিশেষজ্ঞ, মুখপাত্র, প্রত্যক্ষদর্শী, জনমত ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। গণমাধ্যমে নারীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নেওয়া সাক্ষাৎকার পুরুষের তুলনায় শতকরা ৩৮ ভাগ মাত্র। দশ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৫ সালে তা ছিল ৩১ ভাগ। 
  • সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচারিত প্রতিবেদনের মাত্র ৩৭ ভাগ প্রতিবেদক নারী যে হার ১০ বছরে এতটুকুও বৃদ্ধি পায়নি।
  • সবচেয়ে বেশি নারী প্রতিবেদক পাওয়া যায় রেডিওতে, শতকরা ৪১ ভাগ এবং সবচেয়ে কম পাওয়া যায় সংবাদপত্রে, শতকরা ৩৫ ভাগ মাত্র।
  • অনলাইন নিউজ মিডিয়ায় নারীর উপস্থিতি পুরুষের তুলনায় মাত্র ২৬ শতাংশ

 গ্লোবাল মিডিয়া মনিটরিং প্রজেক্ট বা জিএমএমপি ১৯৯৫ সাল থেকে সংবাদমাধ্যমে লৈঙ্গিক অসমতা চিহ্নিত করতে থাকে ও প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর প্রতিবেদন প্রকাশ করতে থাকে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে এভাবে পাঁচ বছর করে করে ২০ বছরের তথ্য উপাত্ত একত্র করে ও বিশ্লেষণ করেও উল্লেখযোগ্য কোন ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়নি।

প্রায়শই পত্রিকার পাতায় পণ্য হিসেবে আসেন নারী

তবে গণমাধ্যমে নারীর অবস্থা ও উপস্থাপন এমন প্রান্তিক ও অবহেলিত হওয়ার কারণ সম্পর্কে পাওয়া গেছে নানা রকম মতামত। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধরে নিয়েও অন্যান্য নানা দিক সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন নানা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকেরা।

দ্য টাইমসের ডেপুটি এডিটর এমা টুকার বলেন, ‘নারীর অবস্থা পরিবর্তনে নারীকেই এগিয়ে আসতে হবে। আরও বেশি নারী সাংবাদিকতায় যুক্ত হলে এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, “এখানে প্রশ্ন উঠছে ‘সংবাদ কি নারীকে প্রান্তিক করে?’ আমি বরং প্রশ্ন করতে চাই নারীই কি সংবাদকে অবহেলা করছে না? অনেক স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গল্প করে দেখেছি। কন্যাশিশুদের জিজ্ঞেস করেছি, ‘তোমরা কি খবরের কাগজ পড়ো?’ তারা অনেকেই উত্তরে কিছুই বলে না। একপেশেভাবে সংবাদমাধ্যমকে দোষারোপ করা হয়তো যথার্থ নয়। নারীকেই এই পরিবর্তন আনতে হবে।”  

প্রায় একই ধরনের মতামত জানান চ্যানেল ফোর নিউজের বার্তা সম্পাদক বেন ডি পিয়ার। তিনি বলেন, ‘নারী সংবাদকর্মীরা টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে আসার জন্য চাপ দেন না, বরং কোন পুরুষ সহকর্মীকে সামনে এগিয়ে দেন।’ 

শিরোনামে নেই নারীর খেলাধুলার খবর

এদিকে অন্য অনেকের মতে গণমাধ্যমে নারীর যথেষ্ট সরব না হওয়ার কারণ গণমাধ্যমের পুরুষাধিপত্যবাদী চরিত্র। নারীবান্ধব কর্মস্থলের অভাবেই সামনে এগিয়ে আসছেন না নারীরা। নিউজরুমের পরিবেশে পুরুষপ্রাধান্য থাকায় নারীপ্রধান সংবাদগুলো প্রান্তিক হয়ে পড়ে। ফলে নারী সংবাদকর্মীরাও হতোদ্যম হয়ে যান।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের পরিচালক ফ্রান আনসোর্থ বলেন, ‘পৃথিবীতে লৈঙ্গিক বৈষম্য ব্যপক ভাবে বিরাজ করে। সংবাদ হচ্ছে বাস্তবতার প্রতিফলন। সংবাদ সেই পৃথিবীকেই তুলে ধরে যেখানে আমরা বাস করি। আমরা খুব বেশি কী করতে পারি যখন বাশার আল আসাদ বা ভ্লাদিমির পুতিন বা ডেভিড ক্যামেরন পুরুষ!’

আনসোর্থ এও বলেন, এক্ষেত্রে সম্পাদকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। কেননা তারাই সিদ্ধান্ত নেন কোন সংবাদটি কভারে যাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শৌচাগার স্থাপনের খবরটির উদাহরণ দেন।

আবার ইন্সটিটিউট অব আইডিয়াসের ক্লারা ফক্স নারী বিষয়ক খবরকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, ‘আমি সংবাদের লৈঙ্গিক চরিত্রে বিশ্বাস করি না। আমরা কি ইসলামিক স্টেটের আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের মধ্যে আরও নারী জঙ্গি দেখতে চাই? না, ধন্যবাদ। আমাদের নারী হিসেবে বিবেচনা না করে বুদ্ধিসম্পন্ন মানবিক মানুষ হিসেবে বিবেচনা করুন।’

`লড়াকু`র বদলে `শিকার` হিসেবেই আসেন নারীতিনি আরও বলেন, এর কিছুটা দায় তিনি সাম্প্রতিক নারী আন্দোলন ও নারীবাদীদের ওপরও পড়ে। তারা নারীকে ‘শিকার’ হিসেবে দেখাতে চায়।
সৌদি আরবের জাতীয় সংবাদপত্রের প্রথম নারী সম্পাদক সুমাইয়া জাবারতি প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘লৈঙ্গিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নারীকে কোন পদ দেওয়ার পক্ষপাতী আমি নই। কেননা, এটা নারী বনাম পুরুষ যুদ্ধ নয়।’
আবার মিক নিউজের এলিজাবেথ প্ল্যাঙ্ক বলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘লৈঙ্গিক পরিচয় সম্পর্কে উদাসীন তো হওয়াই যাবে না, বরং সচেতনভাবেই নারীকে সামনে ঠেলে দিতে হবে। যতদিন না পৃথিবীতে সমতা প্রতিষ্ঠিত হয় ততদিন পর্যন্ত লৈঙ্গিক পরিচয় সম্পর্কে উদাসীনতা দেখানো যথাযথ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর দিকে দেখুন। এখানে নারীরা নিজস্ব সত্তার প্রকাশ করেন। পুরুষ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করেন নিজের জন্য, নারীরা করেন পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। এখানে নারী অনেক ক্ষমতাধর হিসেবে আবির্ভূত হন, সংগঠিতও হন।’ সূত্র – নিউস্টেটসম্যান 

/ইউআর/বিএ/ 

আপ-/এফইউ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ