লিবিয়া ইস্যুতে ক্যামেরনকে 'বিভ্রান্ত' বললেন ওবামা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:০৯, মার্চ ১১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১৫, মার্চ ১১, ২০১৬

ওবামা ও ক্যামেরন২০১১ সালে লিবিয়ায় যুক্তরাজ্য আর ফ্রান্সের নেতৃত্বে অভিযানের পর  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাজ্য যদি ন্যাটো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জাতীয় আয়ের ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় না করে তবে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ নষ্ট হয়ে যাবে বলেও সেসময় ক্যামেরনকে সতর্ক করেছিলেন বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ওবামা।  তবে এর পর পরই হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে ক্যামেরনকে ওবামার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১১ সালে যুক্তরাজ্য আর ফ্রান্স লিবিয়ায় অভিযান চালিয়ে সেদেশের স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উৎখাত করলেও লিবিয়াকে বিধ্বস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি উল্লেখ করে উদ্বেগ জানান ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে লিবিয়ায় পুরোপুরিভাবে যদি গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে তবে তা হবে আমাদের সমস্যা।’
যেসব বিশ্বনেতা কোনও যুদ্ধ কিংবা মানবিক বিপর্যয়ের সময় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরে অঙ্গীকার অনুযায়ী সামরিক সহায়তা দেন না, তাদের প্রতি ক্ষোভ জানান ওবামা।
লিবিয়ার বিধ্বস্ত পরিস্থিতি

তিনি বলেন, ‘কিছু ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় দেশ রয়েছে যারা গাদ্দাফির বিরোধিতা করে এবং জনগণের ভোগান্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে লিবিয়ায় অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন। তবে গত কয়েক দশক ধরে যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তাহল, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা পরে এ যুদ্ধে অংশীদার হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা যুদ্ধের ব্যয় যোগাতে চান না। তাই আমি যে কথাটি বলতে চাই তাহল আমাদেরকে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হয়ে কাজ করতে হবে। এক্ষত্রে জাতিসংঘ থেকে একটি ম্যান্ডেট তৈরি করা প্রয়োজন; জোটে ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।’

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন প্রশাসনের তরফে ওবামার মন্তব্যকে নমনীয় করে উপস্থাপন করতে দেখা গেছে বলে। হোয়াইট হাউজের তরফে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন। আমরা অংশীদারত্বমূলক জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে যুক্তরাজ্যের অবদানকে আমরা মূল্যায়িত করি। লিবিয়ার প্রতি সম্মান রেখেই প্রেসিডেন্ট ওবামা বলতে চেয়েছেন যে দেশটিতে অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশেরই সেখানে অনেক কাজ করার ছিল।’

হোয়াইট হাউজের দাবি, ওবামা ও ক্যামেরন ঘনিষ্ঠ বন্ধু

এদিকে ব্রিটিশ ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতিতে ক্যামেরন আর ওবামার সম্পর্ক নিয়ে হোয়াইট হাউজের ইতিবাচক মন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য লিবিয়ার জনগণের পাশে আছে এবং দেশটিতে একটি টেকসই সরকার গঠনে জাতিসংঘের প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানায় বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

উল্লেখ্য, চার বছর আগে ন্যাটো সমর্থিত এক বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে দেশটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাত রূপ নেয় গৃহযুদ্ধে। লিবিয়া সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নানা পদক্ষেপও উল্লেখযোগ্য কোনও ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারেনি। সংঘাত রয়েই গেছে। জাতিসংঘ সমর্থিত ঐকমত্যের সরকারকে প্রত্যাখ্যান করে দেশটির পার্লামেন্ট। চলমান অস্থিরতা নিরসনে জাতিসংঘের উদ্যোগে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে গত ডিসেম্বরে নতুন ওই সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি

/এফইউ/

লাইভ

টপ