behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

অস্ত্রোপচার-কেমোথেরাপি ছাড়াই মুক্তি মিলবে স্তন ক্যান্সার থেকে!

বিদেশ ডেস্ক১৮:১৪, মার্চ ১১, ২০১৬

দুটো ওষুধের মিশ্রণ প্রয়োগের মধ্য দিয়ে স্তনের টিউমার বিলীন হয়ে যেতে পারেস্তন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচারের আগে দুই শক্তিশালী ওষুধ হারসেপটিন ও লাপাটিনিব মিশিয়ে প্রয়োগ করা হলে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বিস্ময়করভাবে তা টিউমারকে সংকুচিত কিংবা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে কেমোথেরাপির প্রয়োজন নাও পড়তে পারে। আর টিউমার পুরোপুরি ধ্বংস হলে স্তন ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে আর অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন পড়বে না। স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় এমন যুগান্তকারী সাফল্যের দাবি করেছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান ব্রেস্ট ক্যান্সার কনফারেন্সে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্যান্সার গবেষণা কেন্দ্রের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণাটির আওতায় বেশ কয়েকজন এইচইআর-টু পজিটিভ (স্তন ক্যান্সারের একটা ধরন) স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকে ১১ দিন ধরে হারসেপটিন ও লাপাটিনিব মিশিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে দেখা যায়, তাদের কারও কারও টিউমার আগের চেয়ে ছোট হয়ে পড়েছে আবার কারও টিউমার একেবারে মিলিয়ে গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, নতুন এ পদ্ধতি অনুযায়ী স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হলে তার আর কেমোথেরাপিরও প্রয়োজন না পড়তে পারে।
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করতে গিয়ে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিগেল বুনড্রেড বলেন, ‘এটি একটি অভাবনীয় সম্ভাবনা। কারণ এর মধ্য দিয়ে আমরা ১১ দিনে এমন ক’জন রোগীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি যাদের শরীরে এইচইআর-টু বিরোধী থেরাপি দিয়ে টিউমার বিলীন করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের আর কেমোথেরাপির প্রয়োজন পড়বে না। আর এর মধ্য দিয়ে প্রত্যেক রোগীর জন্য আলাদা চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় অভাবনীয় সাফল্য

ব্রেস্ট ক্যান্সার কেয়ারের প্রধান নির্বাহী সামিয়া আল কাধি বলেন, ‘এইচইআর-টু পজিটিভ স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর জন্য দুটো ওষুধের মিশ্রণে দেওয়া চিকিৎসা পদ্ধতি খুবই বিস্ময়কর আবিষ্কার। এর মধ্য দিয়ে যদি কেমোথেরাপি বাদ দেওয়া যায়, তবে রোগী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি পাবেন। আর এ পদ্ধতির মাধ্যমে যদি কারও কারও শরীরের টিউমারের পরিবর্তন নাও করা যায়, তবুও চিকিৎসকরা দ্রুত তাদের চিকিৎসার জন্য অন্য পদ্ধতি বের করতে পারবেন। চিকিৎসকরা ওই রোগীর ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

আরোগ্য লাভের পরও এইচইআর-টু পজিটিভ আক্রান্ত রোগীর দ্বিতীয় দফায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্য ধরনের স্তন ক্যান্সার আক্রান্তদের চেয়ে বেশি। সাধারণত অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, এনডোক্রিন থেরাপি এবং এইচইআর-টু প্রতিরোধী ওষুধের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, ১০ বছর আগে রোগীদের চাপে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সসিলেন্স (নাইস) হারসেপটিনকে অনুমোদন দিলেও লাপাটিনিবকে অনুমোদন দেয়নি। আর সেকারণে ওষুধটি ব্যয়বহুল হওয়ায় এর প্রাপ্যতাও কম। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এফইউ/বিএ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ