পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্রের জন্য হুমকি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:৪৫, মার্চ ১৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫২, মার্চ ১৩, ২০১৬

ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের বৈরি সম্পর্ক এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্কের মধ্যদিয়ে দেশটির আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমস্যাপূর্ণ সম্পর্ক আড়াল হয়ে যায়। বেলুচিস্তান থেকে সীমান্ত পার হয়ে জঙ্গিরা হামলা চালাচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই ইরান অভিযোগ করে আসছে। এমনকি দেশটির সব সময়ের বন্ধু চীনও জিনজিয়াং প্রদেশে ইসলামি জঙ্গি হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ বাংলাদেশের সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্ক বিপজ্জনক মাত্রায় রূপ নিয়েছে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা হওয়ার পর থেকেই উভয় দেশের সম্পর্ক ভালো ছিল না। পশ্চিম পাকিস্তানের (বর্তমানে পাকিস্তান) রাজনীতিকদের ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেওয়ায় বাঙালিরা নিজেদের পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশ হিসেবে মনে করা শুরু করে। এ সন্দেহ এখনও রয়েছে বাংলাদেশের মনে। বাংলাদেশিরা মনে করেন, ১৯৭১ সালে আত্মসমর্পণ করলেও বাংলাদেশের স্বায়ত্ত্বশাসনকে তোয়াক্কা না করে পাকিস্তান গোপন অভিযান পরিচালনা করছে।  বাংলাদেশকে ভারত-বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। শুধু এ ষড়যন্ত্র তত্ত্বই নয়,বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও রয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আফগানিস্তানের মতোই বিপজ্জনক নীতি অবলম্বন করছেন।

অকূটনৈতিক সম্পর্ক

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তা মাজহার খানকে ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই)  সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়,পাকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ইসলামি উগ্রপন্থী সংগঠনকে জালনোট সরবরাহ করছে। পাকিস্তান নীরবে মাজহার খানকে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনা প্রকাশ্য এ অভিযোগ সম্পর্কেও কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় পাকিস্তান।

এরপর ডিসেম্বরে ঢাকাস্থ পাকিস্তানের দূতাবাস থেকে ফারিনা আরশাদ নামে আরেক দূতাবাস কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে। বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলোকে আইএসআই-এর বাংলাদেশবিরোধী অপারেশনে পাকিস্তানি ওই কূটনীতিক সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। একটি ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা এ তথ্য স্বীকার করেন গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে। এর জের ধরে পাকিস্তান বাংলাদেশি কূটনীতিক মৌসুমি রহমানকে ‘পাকিস্তানবিরোধী তৎপরতা’র জন্য বহিষ্কার করে। এমনকি পাকিস্তানের গণমাধ্যমও স্বীকার করে যে,বাংলাদেশি কূটনীতিককে বহিষ্কারের কোনও গ্রহণযোগ্য কারণ দেয়নি পাকিস্তান।  ইসলামাবাদের সমালোচনা করে এ পদক্ষেপকে ‘ধৈর্য্যচ্যুত আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর বাংলাদেশ সেখানে রহমানকে নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশি দূতাবাস কর্মকর্তাদের হয়রানি করার পরিকল্পনা নিয়ে আগাতে থাকে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পুলিশ কর্তৃক দূতাবাস কর্মকর্তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া,অন্তত একজন প্রেস কর্মচারীকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের দ্বারা অপহরণের ঘটনাও ঘটে। মাথায় কাপড় ঢেকে ওই প্রেস কর্মচারীকে দুর্গম এলাকায় নিয়ে যাওয়া যায়। সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে আছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পূর্ণ কূটনীতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেন। কূটনীতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার বিষয় এই প্রথম উচ্চারিত হয়নি। ২০১৩ সালে বিক্ষোভের সময়ও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার দাবি ওঠে।

বাংলাদেশি যুদ্ধাপরাধী,পাকিস্তানি হিরো

দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অবনতির অন্যতম কারণ ১৯৭১ সালের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য ২০০৯ সালে বাংলাদেশে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। যু্ক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিচারকে সমর্থন জানিয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া উন্নত করার জন্য উৎসাহ দিয়েছে।

বিচারিক বিভিন্ন ইস্যু থাকলেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও পাকিস্তানপন্থী ইসলামি সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর গঠিত মিলিশিয়া বাহিনী বাঙালিদের ওপর যে গণহত্যা চালিয়েছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নাই। ১৯৭১ সালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্চার ব্লাডের ব্লাড টেলিগ্রামে খোদ পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারাই ধর্ষণ ও গণহত্যার মতো কাজ করেছে। ১৯৭২ সালে পাকিস্তান সরকার ‘কোন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে তা অনুসন্ধানের জন্য হামুদুর রহমান কমিশন গঠন করে। কমিশন প্রমাণ পায় যে ‘পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর অভিযানের সময় ও পরে সামরিক পদক্ষেপ বাড়াবাড়ি ছিল’। কমিশনের রিপোর্টের সব কপি নষ্ট করার নির্দেশ দেয় পাকিস্তান সরকার। সব কপি ধ্বংস করা হলেও একটি কপি থেকে যায়। ২০০০ সালে  গণমাধ্যমে একটি কপি প্রকাশিত হয়। এর দুই বছর পর তৎকালীন পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মুশাররফ ঢাকা সফরের সময় স্বীকার করেন ওই সময়কার নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জড়িত ছিল।

পাকিস্তানের বর্তমান সরকার অবশ্য এর বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে এ ধরণের ঘটনার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে দেশটি। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা যখন দায়িত্ব অস্বীকার করছেন। এমনকি সরকারি কর্মকর্তা ও হাইপ্রোফাইল মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা প্রকাশ্যে অভিযুক্ত অপরাধীদের ‘নায়ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। পাকিস্তানের স্বরাষ্টমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান আল-বদর নেতা কাদের মোল্লার প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রতি তার বিশ্বস্ততার জন্য। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত এ যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে ‘পাকিস্তানপন্থী মিলিশিয়া যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পাকিস্তানি সাংবাদিক রাসুল দারওয়ার নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিনিধি ইহসানুল্লাহ টিপু মেহসুদকে বলেন,গত মার্চ মাসে আইএসআই তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বাংলাদেশে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের জন্য একই মনোভাব যে ক’জন পাকিস্তানি পোষণ করেন তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

১৯৭১ সালের ঘটনার জন্যই আইসিটি নিয়ে পাকিস্তানের আগ্রহ সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির পর চৌধুরী নিসার ‘গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ’ প্রকাশ করেন। এ ঘটনার পর অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান লিখেন,‘বেশ কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র’ নিশ্চিত করেছে যে বিএনপির এই সাবেক সংসদ সদস্যকে আইএসআই রিক্রুট করেছিল ‘১৯৭৫ সালের কোনও একসময়’। এরপর তিনি ‘বাংলাদেশে পাকিস্তানের মূল এজেন্টে’ পরিণত হন।

বিএনপির সঙ্গে আইএসআই-এর যোগসূত্র নতুন কিছু নয়। ২০১২ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় আইএসআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক জেনারেল আসাদ দুররানী জানিয়েছিলেন বাংলাদেশে ডানপন্থী ও ইসলামি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে অর্থ দিয়েছিল। ১৯৯১ সালের বাংলাদেশের নির্বাচনে আইএসআই বিএনপিকেও অর্থ দেয়। ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে আইএসআই শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে রুখতে এ অর্থ দেয়।

বাংলাদেশে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী

বাংলাদেশে পাকিস্তান সমর্থিত জিহাদি জঙ্গি গ্রুপগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে এমন প্রমাণ রয়েছে। ২০১০ সালে বাংলাদেশি নিরাপত্তা বাহিনীগুলো অভিযান শুরু করলে তাতে দেখা যায়, পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি)- এর বেশকিছু হাইপ্রোফাইল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। এলইটি’র এ নেতারা জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাত-উল-জিহাদ-আল ইসলামি’র (হুজি) মতো স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অর্থায়ন করতেন এবং তাদের প্রশিক্ষণ দিতেন। এ সংগঠনগুলোকে বাংলাদেশে বেশকিছু সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী।

লস্কর-ই-তৈয়বা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চরমপন্থী বানিয়ে তাদেরকে ভারতে সন্ত্রাসী হামলার জন্য নিয়োগ দেওয়ার কাজও করে থাকে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে কিছু সময়ের জন্য লস্কর-ই-তৈয়বা’র কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়, তবে সেটা ছিল কিছু সময়ের জন্য। গত গ্রীষ্মে এলইটি’র প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদ আবারও বাংলাদেশ সীমান্তের শরণার্থী ক্যাম্পগুলো পরিদর্শনে আসেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চরমপন্থী বানিয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতায় নিয়োগের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তার এ সফর। গত নভেম্বরে ঢাকায় গ্রেফতারকৃত সাত জেএমবি জঙ্গির মধ্যে চারজনই ছিল পাকিস্তানি। এর এক মাস পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হয় আরও তিন পাকিস্তানি নাগরিক। গতবছর বাংলাদেশে গ্রেফতার হওয়া ইসলামিক স্টেটের চার সদস্য তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তারা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

ইসলামিক স্টেটের উত্থানের বিষয়ে উদ্বেগের মধ্যেই বাংলাদেশ সরকার জানায়, স্থানীয় জঙ্গিদের প্রতি বিদেশি সমর্থন বৃহত্তর হুমকি তৈরি করেছে। এটা উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০১০ সালে ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বিশেষভাবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে এলইটি’র তিন অর্থদাতার নাম তালিকাভুক্ত করে। এদের মধ্যে মোহাম্মদ নাওশাদ আলম খান জাল মুদ্রা পাচারের দায়ে ২০০৮ সালে ঢাকার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

২০১১ সালে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভারত ... উচ্চ মানের জাল মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধির মুখে রয়েছে, প্রাথমিকভাবে এগুলো পাকিস্তানে তৈরি হয়।’ গত গ্রীষ্মে ঢাকা বিমানবন্দরে মুদ্রা পাচারের দায়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক গ্রেফতার হন। ডিসেম্বরে ঢাকায় জাল মুদ্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গ্রুপের সঙ্গে গ্রেফতার হন একজন পাকিস্তানি নাগরিক। এ সময় তাদের সঙ্গে কয়েক মিলিয়ন জাল নোট পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছে মুদ্রা পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশে ৬০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি গ্রেফতার হয়েছেন। গত আগস্টে দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেয়েছে যে, বিদেশি সংগঠনগুলো এখানে জঙ্গিদের অর্থায়ন অব্যাহত রেখেছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের একটি ব্যাংকে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে খোলা একটি অ্যাকাউন্টে ২ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের ডিপোজিটের বিষয়টিও রয়েছে।

‘পুরনো ক্ষতের’ চেয়েও বেশি

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা নীতি নির্ধারিত হয়েছে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিকে পাকিস্তানের অনুকূলে রাখার গোপন প্রচেষ্টাকে প্রাধান্য দিয়ে। এটা শুধু পাকিস্তানকে আরও নিরাপদ করতেই ব্যর্থ হয়নি; বরং এটা অস্থিরতার প্রসার ঘটিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদকে লালন করেছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে পাকিস্তানের নীতি হচ্ছে সেখানে একটি নমনীয় সরকার এবং ভারতবিরোধী জঙ্গিদের জন্য প্রক্সি হিসেবে পূর্বাঞ্চলকে ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন। আফগানিস্তান বিষয়ক নীতিতে সেখানে তারা শুধু অবিশ্বাস আর অসন্তোষই পেয়েছে। আবারও পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং চরমপন্থাকে বিকশিত হওয়ার জায়গা করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক  ৪৫ বছরের বেশি সময় আগের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা নীতি দ্বারা দক্ষিণ এশিয়ায় বহুত্ববাদী গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে। ইসলামিক স্টেট এবং অন্য সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের পায়ের ছাপ রেখেছে। পাকিস্তানের আঞ্চলিক উচ্চাভিলাষ যুক্ত ইসলামি উগ্রবাদের স্রোতের বিরুদ্ধে বহুত্ববাদী গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় পুরো বিশ্বের প্রত্যক্ষ ও স্থায়ী স্বার্থ রয়েছে। সূত্র: ফরেন পলিসি।

/এএ/এমপি/এমএসএম

লাইভ

টপ