ট্রাম্পের সমাবেশে আবারও উত্তেজনা, ছোড়া হলো পিপার স্প্রে

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:২৮, মার্চ ১৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৯, মার্চ ১৩, ২০১৬

কানসাস সিটিতেও ট্রাম্পের সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়বিরোধী আর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে শিকাগোতে নির্বাচনি সমাবেশ বাতিল করার একদিন পর আবারও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমাবেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এবার কানসাস সিটিতে ট্রাম্পের সমাবেশকে ঘিরে এ উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশ পিপার স্প্রে ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি সমাবেশগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়ছে। শুক্রবার শিকাগোর ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সহিংসতার ঘটনায় ট্রাম্পের নির্বাচনি সমাবেশ বাতিল হয়ে যায়। আর এর একদিন পর শনিবারও সমাবেশে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, শিকাগোর ঘটনার পর শনিবার রাতে মিসৌরির মিডল্যান্ড থিয়েটারে জড়ো হন ট্রাম্পের সমর্থকরা। ট্রাম্প বক্তৃতা শুরু করার কয়েক মিনিট যেতেই শুরু হয় বিক্ষোভ। থিয়েটারজুড়ে বিক্ষোভকারীরা ছড়িয়ে পড়েন। ট্রাম্পের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা তার সমর্থকদের আসন কেড়ে নেন।
থিয়েটারের আশপাশের সড়কে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ওপর পিপার স্প্রে ছোড়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কানসাস সিটি পুলিশ। পিপার স্প্রে ছোড়ার পক্ষে সাফাই গেয়ে কানসাস পুলিশের প্রধান ড্যারিল ফোর্তে। তার মতে, বিক্ষুব্ধ সহিংসতায় প্রাণহানি ঠেকাতে পিপার স্প্রে ছোড়া যৌক্তিক।
এদিকে রবিবার, সিনসিনাটিতে ট্রাম্পের নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ট্রাম্প ওহাইও অঙ্গরাজ্যের র‍্যালি বাতিল করতে পারেন বলে রয়টার্সে যে খবর প্রকাশ হয়েছে তা নাকচ করে দেন তার মুখপাত্র হোপ হিকস। এরপর টুইটারে ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই সমাবেশ চলবে।

নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প

এর আগে শুক্রবার, ট্রাম্পের সমাবেশ শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই সমাবেশস্থল শিকাগোর ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শত শত প্রতিবাদকারী জড়ো হন। একদিকে, ট্রাম্প সমর্থকরা ট্রাম্পের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিলেন,অপরদিকে, প্রতিবাদকারীরা ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও বর্ণবাদী মন্তব্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
এক পর্যায়ে অডিটোরিয়ামের ভেতর ট্রাম্প সমর্থকরা বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা পতাকা কেড়ে নিতে গেলে তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে বিবিসির খবরে প্রকাশিত হয়। সংঘর্ষ অডিটোরিয়ামের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে ট্রাম্প শিবিরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে সমাবেশ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।  

এই ঘটনার পর ট্রাম্প মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজকে জানান, তিনি কোনও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেননি। তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের একটা বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করি, যাদের ভেতর অনেক ক্ষোভ জমা রয়েছে। দুই পক্ষই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।’ তিনি সমাবেশ বন্ধে সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে শনিবার এক বিবৃতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থিতা প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন, ‘আমরা যে দল কিংবা যে মতাদর্শেই বিশ্বাসী হই না কেন, আমাদের রাজনীতিতে সহিংসতার কোনও জায়গা নেই।’   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ