বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার ডাকাতিফিলিপাইন যেন অবৈধ অর্থের এক স্বর্গরাজ্য!

বিদেশ ডেস্ক১৫:২১, মার্চ ২০, ২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার পাচার হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে ফিলিপাইনের অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রসঙ্গ। সেখানকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কঠোর সিক্রেসি আইন, আইনের ফাঁকফোঁকর, ক্যাসিনো ব্যবসা এবং সেই ব্যবসা অ্যান্টি মানি লন্ডারিং আইনের আওতামুক্ত থাকার কারণে এভাবে অবৈধ অর্থের প্রবাহ সম্ভব হয়ে ওঠে। ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম ইনকোয়ারারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এইসব তথ্য। এতে বলা হয়েছে, ঠিক কিভাবে ফিলিপাইন অবৈধ অর্থের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

ফিলিপাইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণ এবং গোপনীয়তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক সিক্র্যাসি আইন। অথচ দেশটিতে যে মানি লন্ডারিং আইন রয়েছে, তা ক্যাসিনোগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সিনেটের ‘ব্লু রিবন’ তদন্ত দলের প্রধান সিনেটর সার্জিও ওসমেনা বলেন, অবৈধ অর্থের জন্য ফিলিপাইন খুবই আকর্ষণীয়। কারণ আমাদের আইনের মধ্যে অনেক বেশি ফাঁক-ফোঁকর রয়েছে। এখানে অর্থপাচার করাটা খুবই সহজ।

অর্থপাচারের করতে গেলে দ্রুততার সাথে ব্যাংক থেকে তা তুলে নিয়ে পাঠাতে হবে ক্যাসিনোতে। ফিলিপাইনের আইন অনুযায়ী, ক্যাসিনোতে জুয়ায় জেতা অর্থ থেকে নির্ধারিত ট্যাক্স দিলে তা বৈধ আয় বিবেচিত হয়। দেশটিতে ক্যাসিনো (জুয়ার আসর) মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় না পড়ায় পাচার করা অর্থও ক্যাসিনোতে প্রবেশের মধ্য দিয়ে বৈধতা পেতে পারে।

সিনেটর সার্জ ওসমেনা

সে কারণেই ফিলিপাইনে অর্থপাচারের দিকে নির্দেশ করে সিনেটর ওসমেনা বলেন, এটি হিমবাহের সামনে এক খণ্ড বরফের সমান। আমরা ওই তথ্য বের করলাম, কারণ আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। অথচ মিয়ানমার বা চীনের কোনও মাদক ব্যবসায়ী যখন বিশাল অংকের অর্থ আদান-প্রদান করে, তখন কেউ অভিযোগও করে না, কেউ তার অনুসন্ধানও করে না।’ এ যেন এক অবৈধ অর্থের স্বর্গরাজ্য!  সূত্র: ইনকোয়ারার।

/এসএ/বিএ/

লাইভ

টপ