behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ফুটলো না সম্পর্কের ফুল, ঐতিহাসিক ক্ষণেও রাজনৈতিক পার্থক্যতে জোর কিউবার

বিদেশ ডেস্ক১২:২৮, মার্চ ২২, ২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বৈতনীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে কিউবা। তবে, দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পর্কের ফুল ফোটাতে গেলে কিউবার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে, এমনটাই মত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার। বিপরীতে কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রোর মত, পার্থক্য রয়েছে দুই দেশের রাজনৈতিক ভাবনায়। কিউবার কাছে মানবাধিকারের মানে আলাদা, তার সুরক্ষা দেওয়া হয়। তাই, ৮৮ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামা কিউবা সফরে গেলেও সম্পর্কের ফুল ফোটেনি। বৈঠকের পর এক ঐতিহাসিক সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি ইস্যু নিয়ে দুই নেতার কণ্ঠেই ছিল মতানৈক্যের সুর।

বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ওবামা ও ক্যাস্ত্রো

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রো অবশ্য বিরল নজির দেখিয়েছেন। সাধারণত সংবাদ সম্মেলনে কোন প্রশ্নের জবাব দেন না তিনি। কিন্তু এই সংবাদ সম্মেলনে তাকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা গেছে। তিনি বলেছেন, কিউবার উপরে যুক্তরাষ্ট্র যে বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে তা পুরোপুরি তুলে নিতে হবে। কিউবায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত বন্দিশালা গুয়ানতানামো বে বন্ধ করে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে বারাক ওবামা সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কিউবাকে তাদের দেশে রাজনৈতিক সংস্কার এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। ওবামা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনও দেশ কিউবার ভাগ্য নির্ধারণ করবে না। কিউবার ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র কিউবানদেরই আছে, অন্য কারও নয়। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা মনে করি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা আমেরিকান মূল্যবোধ নয়, বৈশ্বিক মূল্যাবোধের প্রশ্ন’।

তবে কিউবার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ যুক্তিযুক্ত নয় বলে মনে করেন ক্যাস্ত্রো। তিনি মনে করেন বিশ্বের কোনও দেশই মানবাধিকারের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। কিউবায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর জন্য সমতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। ক্যাস্ত্রো বলেন, ‘আমরা মানবাধিকারের সুরক্ষা দিই। আমাদের দৃষ্টিতে নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সংস্কৃতিগত অধিকার অবিভাজ্য, পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এবং সার্বজনীন।

হাভানায় রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে এক রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেন ওবামা ও মিশেল

এদিকে ঠিক কবে নাগাদ কিউবা থেকে বাণিজ্যিক অবরোধ তুলে নেওয়া হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত না করলেও অবরোধ প্রত্যাহার জরুরি বলে স্বীকার করেছেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘অবরোধ প্রত্যাহার জরুরি, কারণ ৫০ বছর ধরে আমরা যা করেছি তাতে আমাদের কিংবা কিউবানদের কারও স্বার্থই প্রতিফলিত হয়নি।

কিউবা থেকে বাণিজ্যিক অবরোধ তুলে নেওয়ার ব্যাপারে তার প্রশাসন যা কিছু করা সম্ভব করেছে দাবি করে ওবামা বলেন, ‘বাকি কাজ কংগ্রেসের তবে এটি নির্বাচনি বছরে অতটা ফলপ্রসূ থাকে না।

যুক্তরাষ্ট্র আর কিউবার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিরোধটি চলছে রাজনৈতিক বন্দি ইস্যুতে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, হোয়াইট হাউজের তরফে কিউবাকে ভিন্নমতাবলম্বীদের তালিকা হস্তান্তর করার পরও বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়নি। কারাবন্দিদের কিউবা ভিন্নমতালম্বী বলে মনে করে না বলেও অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্যাস্ত্রোও দাবি করেছেন, তার দেশে কোনও রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীকে বন্দি করে রাখা হয়নি। সাধারণ অপরাধীদের রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কিউবান নেতা।

বারাক ওবামা ও রাউল কাস্ত্রো

কিউবায় বিপ্লবের পর ওবামাই প্রথম আমেরিকান প্রেসিডেন্ট, যিনি দেশটিতে সফর করলেন। ১৯৫৯ সালে কমিউনিস্ট ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে সংঘটিতে বিপ্লবে কিউবার যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকারের পতন হলে দুদেশের মধ্যে শত্রুতার সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে প্রতিবেশী দেশ দুটি। এরপর কিউবার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র যা ৫৪ বছর ধরে বলবৎ ছিল।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ওবামা ও কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রো বিরোধ অবসানের বিষয়ে একমত হলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে।  দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং টেলিযোগাযোগ ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে চুক্তি সই হয়। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ