যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাতেও ব্রাসেলসের আত্মঘাতীর নাম ছিল

বিদেশ ডেস্ক২০:৩৯, মার্চ ২৫, ২০১৬

ব্রাসেলসের বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলায় জড়িত দুই সহোদরের একজন তুরস্কে আটক হয়েছিলেন। তুর্কি কর্তৃপক্ষের তরফে এমন দাবির পর এবার জানা গেলো ওই হামলায় অংশ নেওয়া দুই ভাই সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রও অবগত ছিল। দেশটির সন্ত্রাসবাদের তালিকায় তাদের নাম ছিল। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক এনবিসি টেলিভিশন।

এনবিসি’র প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করেছে। এতে বলা হয়েছে, ব্রাসেলসে আত্মঘাতী হামলায় অংশ নেওয়া ইব্রাহিম আল বকরাউয়ি ও তার ভাই খালিদ আল বকরাউয়ি ‘সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হুমকি’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের ঠিক কোন তালিকায় ওই দুই ভাইয়ের নাম ছিল, তা সুনির্দিষ্ট করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা।

ব্রাসেলসের জাভেনতেম বিমানবন্দরে হামলার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করছেন উদ্বিগ্ন লোকজন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তারা কোনও জবাব দেয়নি।

ব্রাসেলসে হামলার আগে থেকেই ইব্রাহিম ও খালিদের নাম পুলিশের খাতায় ছিল। তাদের খুঁজছিল বেলজিয়ামের পুলিশ। হামলায় অংশ নেওয়া আরেকজন নাজিম লাশরাউয়ি সম্পর্কেও অবগত ছিল বেলজিয়ামের কর্তৃপক্ষ। এত কিছু সত্ত্বেও তারা নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হন।

এর আগে বুধবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেন, ব্রাসেলসে আত্মঘাতী হামলায় নিজেকে উড়িয়ে দেওয়া একজনকে তারা গতবছর গ্রেফতার করেন। পরে তাকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী যোদ্ধা’ হিসেবে বহিষ্কার করে নেদারল্যান্ডসে পাঠানো হয়।

এরদোয়ানের ওই বক্তব্যের পর তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, বিতাড়িত ওই ব্যক্তিই ইব্রাহিম। আরেক আত্মঘাতী খালিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে আন্তর্জাতিক পরোয়ানা জারি ছিল। তৃতীয় আত্মঘাতী নাজিমের বিরুদ্ধে ব্রাসেলস হামলার আগের দিনই নোটিশ জারি হয়েছিল।

জাভেনতেম বিমানবন্দরে হামলায় অংশ নেন ইব্রাহিম ও নাজিম। মেট্রো স্টেশনে হামলায় অংশ নেন খালিদ। ইব্রাহিম, খালিদ ও নাজিমের সঙ্গে প্যারিস হামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সালাহ আবদেসালামের সম্পর্ক ছিল। গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্যারিসে আইএসের ওই হামলায় নিহত হন ১৩০ জন।

ব্রাসেলস হামলায় নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করছেন এক ব্যক্তি

আবদেসালামকে গত শুক্রবার ব্রাসেলসের একটি গোপন আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের চার দিনের মাথায় ২২ মার্চ ২০১৬ মঙ্গলবার ব্রাসেলসের ব্যস্ততম জাভেনতেম বিমানবন্দর ও একটি মেট্রো স্টেশনে (পাতালরেল) এক ঘণ্টার ব্যবধানে এ জোড়া হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার পর বেলজিয়ামে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। ইউরোপজুড়ে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা।

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ব্রাসেলস হামলাকে ‘অন্ধ, হিংসাত্মক ও কাপুরুষোচিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘এটা বেদনার দিন; এটা একটি কালো দিন।’

ভয়াবহ এ সন্ত্রাসী হামলার পর বেলজিয়ামের পাশে দাঁড়ান বিশ্বনেতারা। এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানসহ বিশ্বনেতারা।

বেলজিয়ামের শোকে সংহতি প্রকাশ করে নিউ ইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ভবনে এবং প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে মঙ্গলবার রাতে বেলজিয়ামের পতাকার রঙে আলোকসজ্জা করা হয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এ হামলাকে ‘অত্যন্ত জঘণ্য’ বলে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও শান্তি অক্ষুন্ন রাখতে বেলজিয়াম ও ইউরোপ তাদের অঙ্গীকার রক্ষায় সঠিক পথেই কাজ করবে।

কিউবা সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ হামলাকে ‘ভয়ানক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ওবামা বলেছেন, ‘জাতীয়তা-বর্ণ-ধর্মবিশ্বাস নির্বিশেষে আমাদের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিশ্বজুড়ে যারা মানুষের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে, আমরা তাদের পরাজিত করতে পারি; তাদের পরাজিত করবই।’

জাভেনতেম বিমানবন্দরে হামলার পর ব্রাসেলসের কেন্দ্রস্থলে সেনাদের সতর্ক প্রহরা।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, আমরা কখনোই সন্ত্রাসকে বিজয়ী হতে দেব না।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, সন্ত্রাসের কোনো সীমানা নেই। সন্ত্রাসীরা বিশ্বময় মানুষের জন্য হুমকি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এদের মোকাবেলা করতে হবে।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেছেন, এ হত্যাযজ্ঞ হৃদয়বিদারক। সন্ত্রাস মোকাবেলায় আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ বলেছেন, ইউরোপ আক্রান্ত হয়েছে। সন্ত্রাস মোকাবেলায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ লিওপোল্ড-এর কাছে এ ফোন করে এ ঘটনায় দেশটির জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। তিনি বলেন, ব্রাসেলসে যারা সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে, তাদের মানবিক ও নৈতিক কোনো মূল্যবোধ নেই। সূত্র: এনবিসি নিউজ।

/এমপি/ 

লাইভ

টপ