behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

ব্রাসেলসে ফের বিস্ফোরণ

বিদেশ ডেস্ক২১:২০, মার্চ ২৫, ২০১৬

ফের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে। পুলিশি অভিযান চলাকালে শুক্রবার ব্রাসেলসের সেইয়ারবিক এলাকায় দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবারের হামলার পর শুক্রবার সেইয়ারবিকের ওই বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে কয়েকজনকে আটকও করা হয়। ব্রাসেলস থেকে আল জাজিরা’র প্রতিনিধি ডমিনিক কেন বলেন, বিস্ফোরণের সময় সেখানে স্টান গ্রেনেডের আওয়াজ পাওয়া গেছে।

এদিকে ব্রাসেলসের বিমানবন্দর ও মেট্রো স্টেশনে হামলার ঘটনায় ছয় সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে বেলজিয়ামের পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তবে সন্দেহভাজনদের পরিচয় কিংবা হামলার সঙ্গে তাদের কী ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সে ব্যাপারে বিম্তারিত জানানো হয়নি। এছাড়া হামলার পরিকল্পনাকারী সন্দেহে প্যারিস থেকে একজনকে আটক করেছে ফ্রান্স। তবে তার হামলা পরিকল্পনার সঙ্গে প্যারিস কিংবা ব্রাসেলস হামলার সংযোগ রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২২ মার্চের হামলার তিনদিনের মাথায় ২৫ মার্চ ফের ব্রাসেলসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

২২ মার্চ ২০১৬ মঙ্গলবার ব্রাসেলসের ব্যস্ততম জাভেনতেম বিমানবন্দর ও একটি মেট্রো স্টেশনে (পাতালরেল) এক ঘণ্টার ব্যবধানে এ জোড়া হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ভয়াবহ ওই সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হন। আহত হন দুই শতাধিক। এ ঘটনার পর বেলজিয়ামে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। ইউরোপজুড়ে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। ব্রাসেলসের সঙ্গে বিমান ও রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় ইউরোপ। হামলার দায় স্বীকার করে অনলাইনে বিবৃতি দেয় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এর চেয়েও ভয়াবহ হামলা আসছে বলেও হুমকি দিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, বিবৃতিটি সঠিক হতে পারে।

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই হামলাকে ‘অন্ধ, হিংসাত্মক ও কাপুরুষোচিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘এটা বেদনার দিন; এটা একটি কালো দিন।’

ভয়াবহ এ সন্ত্রাসী হামলার পর বেলজিয়ামের পাশে দাঁড়ান বিশ্বনেতারা। এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানসহ বিশ্বনেতারা।

ব্রাসেলসের জাভেনতেম বিমানবন্দরে হামলার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করছেন উদ্বিগ্ন লোকজন।

বেলজিয়ামের শোকে সংহতি প্রকাশ করে নিউ ইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ভবনে এবং প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে মঙ্গলবার রাতে বেলজিয়ামের পতাকার রঙে আলোকসজ্জা করা হয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এ হামলাকে ‘অত্যন্ত জঘণ্য’ বলে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও শান্তি অক্ষুন্ন রাখতে বেলজিয়াম ও ইউরোপ তাদের অঙ্গীকার রক্ষায় সঠিক পথেই কাজ করবে।

কিউবা সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ হামলাকে ‘ভয়ানক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ওবামা বলেছেন, ‘জাতীয়তা-বর্ণ-ধর্মবিশ্বাস নির্বিশেষে আমাদের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিশ্বজুড়ে যারা মানুষের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে, আমরা তাদের পরাজিত করতে পারি; তাদের পরাজিত করবই।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, আমরা কখনোই সন্ত্রাসকে বিজয়ী হতে দেব না।

জাভেনতেম বিমানবন্দরে হামলার পর ব্রাসেলসের কেন্দ্রস্থলে সেনাদের সতর্ক প্রহরা।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, সন্ত্রাসের কোনো সীমানা নেই। সন্ত্রাসীরা বিশ্বময় মানুষের জন্য হুমকি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এদের মোকাবেলা করতে হবে।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেছেন, এ হত্যাযজ্ঞ হৃদয়বিদারক। সন্ত্রাস মোকাবেলায় আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ বলেছেন, ইউরোপ আক্রান্ত হয়েছে। সন্ত্রাস মোকাবেলায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ লিওপোল্ড-এর কাছে এ ফোন করে এ ঘটনায় দেশটির জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। তিনি বলেন, ব্রাসেলসে যারা সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে, তাদের মানবিক ও নৈতিক কোনো মূল্যবোধ নেই। সূত্র: আল জাজিরা।

/এমপি/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ