মুসলমানদের নিয়ে সু চির বিতর্কিত মন্তব্য ফাঁস

Send
বিদেশ ডেস্ক২০:৩৩, মার্চ ২৬, ২০১৬

মুসলমানদের নিয়ে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী এবং সম্ভাব্য মন্ত্রী অং সান সু চির করা এক মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিবিসি টুডের ২০১৩ সালের এক সাক্ষাৎকারকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই সাক্ষাৎকারের অফলাইন সময় চলাকালে মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন সু চি। সম্প্রতি প্রকাশিত পিটার পোপহামের ‘দ্য লেডি অ্যান্ড দ্য জেনারেল: অং সান সু চি এবং মিয়ানমারের গণতন্ত্রের লড়াই’ শীর্ষক বইয়ে ওই সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ এসেছে। সেখানেই বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের বরাতে লেখক দাবি করেছেন, সু চি ওই সাক্ষাৎকারে ‘কোনও মুসলমান আমার সাক্ষাৎকার নেবে সেটা আগে আমাকে বলা হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।   

বিবিসির সঙ্গে সু চির সেই সাক্ষাৎকার

ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়, মিয়ানমারে মুসলমানদের উপর অনবরত হামলা-নির্যাতনের বিষয়ে ২০১৩ সালে বিবিসির সাংবাদিক মিশেল হুসেইনের উপর্যুপুরি প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে এক পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন সু চি। উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন, কোনও মুসলমান আমার সাক্ষাৎকার নেবে, এটা আমাকে বলা হয়নি। বিবিসি টুডে’র উপস্থাপক মিশাল হুসেইন পুরো সাক্ষাৎকার জুড়েই সু চিকে মিয়ানমারে মুসলমানদের বিষয়ে তার অবস্থান, তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের বিষয়ে তার নিশ্চুপ থাকা নিয়ে প্রশ্ন করেন। অন এয়ারে কোনওমতে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও অফ এয়ারে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারান সু চি। বলেন, ‘কোনও মুসলমান তার এ সাক্ষাৎকার নেবে, এমনটি তাকে আগে বলা হয়নি।’ 

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের অধিবেশনের পর বের হয়ে যাচ্ছেন সু চি, ছবি এএফপি

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় ও সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে বরাবরই নিশ্চুপ থেকেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এ নেত্রী। সু চির এমন আশ্চর্যজনক নিরবতা তার অনেক কট্টর সমর্থকের মনেও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ২০১৫ সালের ৮ই নভেম্বর মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পদার্পণের ঐতিহাসিক নির্বাচনে সু চির দল কোনও মুসলিম ব্যক্তিকে প্রার্থী না করার পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আল জাজিরা তুলে আনে মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন নিয়ে সু চির ধারাবাহিক নিরবতার প্রশ্ন। দলের বিভিন্ন শীর্ষ নেতাকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিম প্রার্থীদের নিজ দল থেকে সরিয়ে দিয়েছেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী এবং এনএলডি’র প্রধান অং সান সুচি।

নির্বাচনী প্রচারণায় সু চি

২০১৩ সালের ওই সাক্ষাৎকারে মিশাল হুসেইন মিয়ানমারে মুসলিম বিদ্বেষ ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সু চিকে দুঃখ প্রকাশের আহবান জানালেও সু চি বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেন। বরং জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বহু বৌদ্ধও বিভিন্ন কারণে মিয়ানমার ছেড়ে গেছেন। স্বৈরশাসনের কারণেই এমনটা হয়েছে।’ মিয়ানমারের বৌদ্ধরা সংখ্যালঘু মুসলিমদের পছন্দ করে না। তাই মনে করা হয় নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতেই সু চি বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন না।  

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের জনসংখ্যার মাত্র চার শতাংশ মুসলিম। এসব মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ আছে। এমনকি মিয়ানমার মুসলমানদেরকে দেশটির নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকার দিতেও অস্বীকার করছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর ধারাবাহিক নির্যাতনের বিষয়ে সু চির নিশ্চুপ থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামাও। সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট, বিবিসি 

/বিএ/

লাইভ

টপ