behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

তিন রাজ্যে হিলারিকে হারানোর পর আশাবাদী স্যান্ডার্স

বিদেশ ডেস্ক১৯:৩০, মার্চ ২৭, ২০১৬

বার্নি স্যান্ডার্সযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থিতা বাছাইয়ের দৌড়ে হাওয়াইতেও জয় নিশ্চিত করলেন বার্নি স্যান্ডার্স। আর এর মধ্য দিয়ে শনিবার অনুষ্ঠিত ভোটে তিনটি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোতে হিলারি ক্লিনটনকে হারালেন তিনি। এর আগে আলাস্কা আর ওয়াশিংটনে স্যান্ডার্সের জয়লাভের ঘোষণা করা হলেও হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, শনিবারের ভোটে স্যান্ডার্স তিনটি অঙ্গরাজ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। তিনটি রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওয়াশিংটন। এ অঙ্গরাজ্যটিতে ডেলিগেটসদের সংখ্যা ১০১। এছাড়া আলাস্কায় ১৬ জন এবং হাওয়াইতে ২৫ জন ডেলিগেটস রয়েছেন।
একইদিনে তিনটি অঙ্গরাজ্যে বড় জয় পাওয়ার পর আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্যান্ডার্স। সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রচারণায় গতি এসেছে।’
টুইটারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্যান্ডার্স লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ আলাস্কা! একইসঙ্গে আমরা এ বার্তা দিচ্ছি যে এ সরকার আমাদের সবার..... ব্যাপক সমর্থন দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনবাসীকে ধন্যবাদ! যে কারও জন্য এটি অস্বীকার করা কঠিন যে আমাদের প্রচারণা গতিশীল।’




এর আগে উইসকনসিনে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে স্যান্ডার্স বলেন, ‘কাউকে এ কথা বলতে দেবেন না যে আমরা মনোনয়ন পাব না কিংবা নির্বাচনে জিতবো না। আমরা দুটোতেই জয় পেতে যাচ্ছি।’

হিলারি ও স্যান্ডার্স

উদারবাদী ও বামপন্থীদের সমর্থন আদায়ের জন্য গোটা সপ্তাহ পশ্চিম উপকূলেই সমাবেশ করে কাটিয়েছেন স্যান্ডার্স। এ তিনটি অঙ্গরাজ্যে হিলারিকে তেমন একটা প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এ তিনটি অঙ্গরাজ্যে পরাজয় নিশ্চিত বলে আগেই বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। তবে হিলারির নাগাল পেতে স্যান্ডার্সকে আরও অনেক দূর যেতে হবে। এরইমধ্যে হিলারিও বলেছেন, স্যান্ডার্সের চেয়ে তার ভোটের সংখ্যা ২৬ লাখ বেশি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থিতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রাইমারি ও ককাস নামের দুইটি পদ্ধতির মধ্য দিয়ে সেখানে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার প্রাথমিক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রাইমারি হচ্ছে প্রথাগত নির্বাচন,যেখানে দিনব্যাপী গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আর ককাস হচ্ছে দলের নিবন্ধিত ভোটার ও কর্মীদের সভা, যা পূর্বনির্ধারিত দিন ও ক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়।কোনও কোনও অঙ্গরাজ্যে শুধু প্রাইমারি নির্বাচন হয়, আবার কোনও রাজ্যে শুধু ককাস নির্বাচন হয়। কোনও রাজ্যে প্রাইমারি ও ককাস দুটিই হয়। এবার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি। শেষ হওয়ার কথা ১৪ জুন। প্রাইমারি বা ককাস নির্বাচন সাধারণত সরাসরি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা নির্ধারণের সুযোগ পাওয়ার পরিবর্তে তারা নির্ধারণ করেন যে, প্রতিটি দলের কনভেনশনে দলের কোন প্রার্থী কতজন ডেলিগেট সংগ্রহ করতে পারলেন। চূড়ান্ত দলীয় কনভেনশনে ওই ডেলিগেটদের ভোটেই চূড়ান্ত প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়।

দুই দলের প্রার্থিতা প্রত্যাশীরা

এপির সবশেষ তথ্য অনুযায়ী ডেলিগেট সংগ্রহের ক্ষেত্রে হিলারি এ পর্যন্ত পেয়েছেন ১,৭১২ জনের সমর্থন। আর বার্নি স্যান্ডার্স নিশ্চিত করতে পেরেছেন ১,০০৪ জনের সমর্থন। জয়ের জন্য পেতে হবে ২,৩৮৩ জন ডেলিগেটের সমর্থন। প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে গেলে হিলারিকে পেতে হবে আরও ৬৭১ জনের সমর্থন। আর স্যান্ডার্সকে পেতে হবে আরও ১,৩৭৯ জনের সমর্থন।

রিপাবলিকানদের প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ডেলিগেটদের সংখ্যা ২,৪৭২ জন। প্রার্থিতা পাওয়ার জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অন্তত ১,২৩৭ জন ডেলিগেটের সমর্থন পেতে হবে। মনোনয়নের দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ পর্যন্ত সমর্থন দিয়েছেন ৭৩৯ জন ডেলিগেট। টেড ক্রুজ পেয়েছেন ৪৬৫ জনের সমর্থন, কাসিক পেয়েছেন ১৪৩ জনের সমর্থন।
প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে হলে বাকি ডেলিগেটদের মধ্য থেকে ট্রাম্পকে অন্তত ৪৯১ জন ডেলিগেটের সমর্থন পেতে হবে। টেড ক্রুজকে পেতে হবে ৭৭২ জনের সমর্থন আর কাসিককে পেতে হবে ১,০৯৪ জন ডেলিগেটসের সমর্থন। সূত্র: বিবিসি, এপি

/এফইউ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ