behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

মিসরের কারাগার থেকে পালিয়েছিলেন সেই বিমান 'ছিনতাইকারী'!

বিদেশ ডেস্ক১৫:৫২, মার্চ ৩০, ২০১৬

সাইফ এলদিন মুস্তফামঙ্গলবার (২৯ মার্চ)মিসরের বিমান ছিনতাই করাই ‘ছিনতাইকারী’ সাইফ এলদিন মুস্তফার প্রথম অপরাধ নয়। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ডাকাতি ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে আগে থেকেই। জায়িলাতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় একবার কারাগার থেকে পালিয়েও গিয়েছিলেন তিনি। তিনি মানসিকভাবে স্থিতিশীল নয় বলেও জানিয়েছে সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৯ মার্চ)মিসরের বিমান ছিনতাইয়ের পেছনে ‘ছিনতাইকারী’ সাইফ এলদিন মুস্তফার উদ্দেশ্য কী ছিল সে ব্যাপারটি এখনও স্পষ্ট করতে পারেনি সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ গঠনের উদ্দেশ্যে তাকে সে দেশেই ৮ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মুস্তফাকে প্রত্যার্পণ করার জন্য মিসরের তরফে কোনও অনুরোধ জানানো হয়নি বলেও উল্লেখ করেছে সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ।
ছিনতাইয়ের পর থেকেই সাইপ্রাসের তরফে দাবি করা হচ্ছে যে এ ঘটনা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত নয়। সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টও সন্ত্রাসবাদের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র সংকট ব্যবস্থাপনাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হোমার মাভরোমাটিস বলেন, ‘ছিনতাইকারীর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না। তার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যও এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। বার বার তিনি তার সিদ্ধান্ত পাল্টাচ্ছিলেন। একেকবার একেক দাবি জানাচ্ছিলেন।’
সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব আলেক্সান্দ্রোস জিননও বলেছেন, ‘ছিনতাইকারীর মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না। তার বিভিন্ন দাবির একটি ছিল বিমানে নতুন করে জ্বালানি ভরে তাকে ইস্তাম্বুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তবে তার সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।’

আদালতের পথে মুস্তফা

এদিকে মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ৫৮ বছর বয়সী মুস্তফা যে এবারই প্রথম আইন ভঙ্গ করেছেন তা নয়। আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ডাকাতি ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। জালিয়াতির জন্য মুস্তফার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। ২০১১ সালে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে যান। পরে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নতুন করে তার সাজা শুরু হয় এবং প্রায় এক বছর পর তিনি ছাড়া পান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুস্তফা আসলে মিসর থেকে বের হতে চেয়েছেন। আর সে কারণে তিনি ছিনতাইয়ের পন্থা বেছে নেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ বছর আগে মিসরের কারাগার থেকে পালিয়ে যান সাইফ এলদিন মুস্তফা। মিসর থেকে বের হওয়াটা তার জন্য সহজ কাজ ছিল না। তবে মঙ্গলবার ভিন্নভাবে সে অসাধ্য সাধনের চেষ্টা করেন মুস্তফা। গায়ে ভুয়া বিস্ফোরক বেল্ট পরে পাইলটকে ভয় দেখিয়ে বিমান ছিনতাই করে বসেন তিনি। বিমানটিকে সাইপ্রাসে অবতরণ করাতে বাধ্য করান তিনি।

মঙ্গলবার মিসরের স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ইজিপ্ট এয়ারের বিমানটি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ৬২ জন আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করে। এর কিছু সময় পরই এটি ছিনতাইয়ের শিকার হয় বলে এয়ারলাইন্সটির এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন। পরে বিমানটি সাইপ্রাসে জরুরি অবতরণে বাধ্য করা হয়। পাইলট দাবি করেছেন, ‘ছিনতাইকারী’ তার গায়ে বিস্ফোরক বেল্ট রয়েছে বলে হুমকি দিয়ে বিমানটি সাইপ্রাসে অবতরণ করাতে বাধ্য করেন। তবে সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ এখন বলছে, ওই বেল্টটি ভুয়া।

মুক্তি পাওয়ার পর বিমান থেকে আরও দুই যাত্রীসহ ইনেস দৌড়ে পালাচ্ছেন

ঘটনার পর সাইপ্রাসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ছিনতাইয়ের পেছনে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ওই ছিনতাইকারী একটি চিঠি ছুঁড়ে দিয়েছেন। সেটি আরবি ভাষায় লেখা। সেটি তিনি তার সাবেক স্ত্রীকে দিতে বলেছেন।  ওই সময় আরও বলা হয়, ছিনতাইকারীর সাবেক স্ত্রী সাইপ্রাসে থাকেন। বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় সাইপ্রাসে আশ্রয় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ছিনতাইকারী। সেই সঙ্গে তার দাবি উপস্থাপনে সুবিধার জন্য একজন অনুবাদকও চেয়েছেন তিনি। খবরটি নিশ্চিত করে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, এ ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যই কাজ করেছে। ‘প্রত্যেকটা ঘটনার পেছনে নারী রয়েছে’ উল্লেখ করে খানিক কৌতুকও করেন তিনি।

ছিনতাইকারীর পরিচয় নিয়ে দুই ধাপে দুই ধরনের তথ্য এসেছে সংবাদমাধ্যমে। মিসরের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ‘ছিনতাইকারী’কে ইবরাহিম সামাহা হিসেবে শনাক্ত করা হলেও পরে সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তার নাম সাইফ এলদিন মুস্তফা। সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়,আগে যে নামটি উল্লেখ করা হয়েছিল সেটি অন্য এক যাত্রীর নাম। সূত্র: সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি

/এফইউ/বিএ/ 

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ