'অবৈধ গর্ভপাতকারী' নারীদের শাস্তি চেয়ে মুহূর্তেই ট্রাম্পের অস্বীকার

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:১৪, মার্চ ৩১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮, মার্চ ৩১, ২০১৬

গর্ভপাতকে অবৈধ করা হলে গর্ভপাতকারী নারীদের শাস্তির বিধান রাখার পক্ষে মত দিয়ে সমালোচনার মুখে মুহূর্তেই নিজের অবস্থান থেকে খানিক সরে আসতে বাধ্য হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার টাউন হলে অনুষ্ঠান চলার সময় গর্ভপাত সংক্রান্ত নিজের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে সুপ্রিম কোর্টে রুল জারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত বৈধ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প




বুধবার টাউন হলে অনুষ্ঠান চলার সময় মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এমএসএনবিসি’র সংবাদকর্মী ক্রিস ম্যাথিউস ট্রাম্পকে গর্ভপাতের ব্যাপারে তার অবস্থান নিয়ে জিজ্ঞেস করলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, যেসব নারী অবৈধভাবে গর্ভপাত করান তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। সঙ্গে সঙ্গেই সমালোচনার মুখে পড়লে আগের বক্তব্য থেকে খানিক সরে এসে ট্রাম্প বলেন, তিনি নারীদের শাস্তির কথা বলেননি, যারা নারীর গর্ভপাতে ভূমিকা পালন করবেন সেইসব ডাক্তার ও সংশ্লিষ্টদের কথা বলেছেন। 
১৯৯৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন তিনি ক্ষমতায় গেলে কখনও গর্ভপাত নিষিদ্ধ করবেন না। তিনি সবার পছন্দকে সম্মান দেওয়ার পক্ষপাতী বলেও সে সময় দাবি করেন ট্রাম্প। তবে আগে যে অবস্থানই থাকুক না কেন এখন ব্যতিক্রমী কোনও ঘটনা ছাড়া সাধারণত গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পক্ষপাতী ট্রাম্প।
বুধবারের অনুষ্ঠানে ম্যাথিউস ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি গর্ভপাতের জন্য সাজাপ্রদানে বিশ্বাস করেন? হ্যাঁ অথবা না- কোন নীতিতে বিশ্বাসী?’
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এক্ষেত্রে কিছু সাজার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।’

ম্যাথিউস আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘নারীদের জন্য?’

ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ কয়েক ধরনের সাজার ব্যবস্থা থাকতে পারে।’

‘কেমন ধরনের সাজা? দশ সেন্ট জরিমানা নাকি দশ বছরের কারাদণ্ড, কেমন ধরন সেটি?’ জানতে চান ম্যাথিউস।

উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সেটা জানি না।’

বক্তব্য রাখছেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের এমন উত্তরের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ডেমোক্র্যাটদের হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন একে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন।

তবে পরে এক বিবৃতিতে নিজের বক্তব্য থেকে খানিক সরে আসেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘যদি গর্ভপাতকে অবৈধ উল্লেখ করে কংগ্রেস আইন পাস করে এবং প্রাদেশিক আদালতে সে আইন বহাল থাকে; কিংবা যদি অঙ্গরাজ্যগুলোকে গর্ভপাত নিষিদ্ধ ঘোষণা করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে চিকিৎসক কিংবা সংশ্লিষ্ট যারা নারীর গর্ভপাত করাবেন তাদের দায়ী করা হবে। এক্ষেত্রে নারীদের দায়ী করা হবে না। কারণ নারী এক্ষেত্রে ঘটনার শিকার। রোনাল্ড রিগ্যানের মতো আমি আমার অবস্থান পরিবর্তন করব না। একেবারে ব্যতিক্রম বাদ দিলে এসব ঘটনায় আমি মূলত জীবনপন্থী।’ সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ