behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার ডাকাতিবন্ধুর কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার দাবি শ্রীলঙ্কার শালিকা ফাউন্ডেশন প্রধানের

বিদেশ ডেস্ক১৪:১৩, এপ্রিল ০১, ২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়েছিল। তা এক ‘বন্ধুর মাধ্যমে’ শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন শ্রীলঙ্কার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শালিকা ফাউন্ডেশনের প্রধান হ্যাগোডা গ্যামেজ শালিকা পেরেরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের কাছে শালিকা দাবি করেন, শ্রীলঙ্কায় একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণসহ কয়েকটি প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার কাছ থেকে ওই অর্থ তাকে এনে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তার এক ‘বন্ধু’। তবে ওই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া অর্থ ছিল কি না – সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শালিকা পেরেরা

চলতি বছরের ৪ এবং ৫ ফেব্রুয়ারি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ইতিহাসের অন্যতম বড় সাইবার ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০০ মিলিয়ন অর্থ চুরি যায়। তবে তা আলোচনায় আসে ফিলিপাইনে ওই টাকার একটি অংশ নিয়ে তদন্ত শুরুর পর।

হ্যাকাররা অর্থ স্থান্তরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে ৩৫টি ভুয়া অনুরোধ পাঠায়। এর মধ্যে ৪টি অনুরোধের অর্থ ঠিক মতো স্থানান্তর হয় ফিলিপাইনে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলারের ওই অর্থ শ্রীলঙ্কায় পৌঁছায় ডয়চে ব্যাংকের হাত ঘুরে। তাদেরই সন্দেহের কারণে শেষ পর্যন্ত শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে যাওয়া ওই অর্থ আটকে যায়। ওই অর্থ স্থানান্তরের অনুরোধে প্রাপকের জায়গায় ‘ফাউন্ডেশন’ বানান ভুল থাকায় ডয়চে ব্যাংক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। আর এর মাধ্যমেই বেরিয়ে আসে, অর্থ স্থানান্তরের অনুরোধটি ছিল ভুয়া। আর তাতে বাকি ৩০টি অনুরোধ আটকে যায়।

শ্রীলঙ্কার আদালত শালিকা ফাউন্ডেশনের ছয় পরিচালকের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে। দেশটির পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, নিম্ন আয়ের পরিবারকে সহায়তার নামে ২০১৪ সালে শালিকা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে ব্যাংকে জমা দেওয়া নথিপত্রে। কিন্তু কলম্বোর যে বাড়ির ঠিকানা সেখানে দেওয়া হয়েছে, তা বন্ধ পাওয়া গেছে। ওই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগের অন্য কোনো মাধ্যমও পাওয়া যায়নি।

রয়টার্সকে শালিকা জানান, তাকে বলা হয়েছিল, জাইকা তার প্রকল্পে ওই দুই কোটি ডলার দিচ্ছে। ওই টাকা যে অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে, তাও তিনি জানতেন। তবে জাইকার সঙ্গে তার ‘সরাসরি’ যোগাযোগ হয়নি। পুরো বিষয়টি করে দিয়েছেন তার এক ব্যবসায়ী ‘বন্ধু’, যার সঙ্গে জাপানের ‘ভালো যোগাযোগ’ আছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, পেরেরার বক্তব্য যাচাই করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। যে বন্ধুর কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, ওই বন্ধুর ফোন নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা দিলেও সেই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে জাপান সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকা জানিয়েছে, শালিকা ফাউন্ডেশন নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। জাইকার মুখপাত্র নাওইয়োকি নেমোতো রয়টার্সকে বলেছেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো লেনদেন নেই। ঋণ বা সহায়তার কোনো বিষয়ও নেই।’

৩৬ বছর বয়সী পেরেরার স্বামী রামায়ঙ্কা আর্চাইজি ডন প্রদীপ রোহিতা ধামকিন নিজেও শালিকা ফাউন্ডেশনের একজন পরিচালক। কলোম্বোতে শালিকা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলার সময় তার স্বামীও পাশে ছিলেন। শালিকা দাবি করেন, তারা খুবই সৎ মানুষ। কোনও রকম অবৈধ কাজের সাথে তারা জড়িত নন।   

রয়টার্সকে শালিকা জানান, তার সেই বন্ধু হয় নিজে হ্যাকারদের শিকার হয়েছেন, অথবা তিনি নিজেও ওই সাইবার ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত বলে তিনি মনে করছেন। শালিকা সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের একটি নোট রয়টার্সকে দেখিয়েছেন, যেখানে লেখা রয়েছে, বাংলাদেশের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড জাইকার কাছ থেকে ২০১০ সালে ঋণ হিসেবে নেওয়া ওই ২ কোটি ডলার পরিশোধ করার পর তা শ্রীলঙ্কায় শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে জমা করতে পাঠানো হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে ওই অর্থ গেছে, এমন চিন্তাই ‘হাস্যকর’। তিনি বলেন, ‘তারা হয়তো বিষয়টা বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য সরকারি নাম ব্যবহার করেছে।’

কলম্বো পুলিশ বৃহস্পতিবার মেজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তারা পেরেরার সেই বন্ধুকে এরইমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সেই ব্যক্তি আবার এক জাপানি মধ্যস্থতাকারীর কথা বলেছেন, যিনি সেই তহবিলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, পেরেরার সেই বন্ধুর মতো তার সেই জাপানি মধ্যস্থতাকারীর বক্তব্যও তারা জানতে পারেনি। সেই মধ্যস্থতাকারীকে ফোন করা হলে তিনি বলেছেন, তিনি সফরে আছেন, সুতরাং ওই মুহূর্তে কথা বলতে পারছেন না। তবে রয়টার্সকে শালিকা জানিয়েছেন, ৯ ফেব্রুয়ারি তার ব্যাংক শালিকাকে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পাঠানো অর্থ ফেরত নেওয়ার অনুরোধ করেছে।  

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ১০০ মিলিয়ন অর্থ চুরি করে। সেখান থেকে ২০ মিলিয়ন যায় শ্রীলঙ্কায়। আর ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। তা সেখানকার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ফিলিপিনো পেসোতে রূপান্তরের পর দুটি ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। সূত্র: রয়টার্স।

/এসএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ