Vision  ad on bangla Tribune

কলকাতার সেই ফ্লাইওভারের 'বাকি অংশও ঝুঁকিপূর্ণ', গ্রেফতার ৮

বিদেশ ডেস্ক১৯:০৬, এপ্রিল ০১, ২০১৬

কলকাতায় ধসে পড়া ফ্লাইওভারভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আংশিক ধসে পড়া ফ্লাইওভারের বাকি অংশও ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে আসার পর শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের কাছে এ আশঙ্কা জানান তারা। এদিকে ধসের ঘটনায় নতুন করে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল থেকে  এ পর্যন্ত ২৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। আহত অবস্থায় ৯০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হলেও তাদের বেশ কয়েকজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান অজয় ত্যাগী। এদিকে ফ্লাইওভারটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইভিআরসিএলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ৮ কর্মকর্তা গ্রেফতারও হয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, ফ্লাইওভারেরর যে অংশ এখনও অক্ষত রয়েছে তার হাল জানতে শুক্রবার বিশেষজ্ঞ দলকে ডেকে পাঠায় রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার এ বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল দেখে এসেছেন। তারা জানান, ফ্লাইওভারের বাকি অংশ বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এরইমধ্যে ফ্লাইওভার সংলগ্ন বাড়িগুলি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে গণেশ টকিজের কাছে ভেঙে পড়ে নির্মাণাধীন বিবেকানন্দ ফ্লাইওভারের একাংশ। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন অনেকে। বৃহস্পতিবার সারা রাত ধরে চলে উদ্ধার কাজ। কলকাতা পুলিশ ও দমকল কর্মীদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সেনা সদস্যরা শুক্রবার সকালে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে বের করে আনেন আরও দুই জনের মরদেহ। এছাড়া আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় শুক্রবার।

এ পর্যন্ত ৯০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে

ভারতের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা এস এস গুলেরিয়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপিকে বলেন, ‘উদ্ধার অভিযান এখন শেষ পর্যায়ে আছে এবং আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের কোনও সম্ভাবনা নেই।’

গুলেরিয়া আরও জানান, ‘বিশেষজ্ঞ দিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। যাতে ব্রিজের বাকি অংশ ভেঙ্গে না পড়ে, তার জন্য হাইড্রোলিক জেটের প্রয়োজন।’

ধ্বংস্তূপের নিচে আর কতগুলো মৃতদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, উদ্ধার হওয়া কিছু মরদেহ এমনভাবে থেঁতলে গেছে বা পুড়ে গেছে, এমনকি পরিবারের সদস্যরাও স্বজনদের মরদেহ চিনতে পারছেন না। ফ্লাইওভারের আশেপাশের সাধারণ মানুষ শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অনেকে খালি হাতেই চালান উদ্ধার অভিযান

এদিকে, ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ার ঘটনায় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আইভিআরসিএল-এর বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, যারা সেতু তৈরিতে কাঁচামাল সরবরাহ করেছিল, তাদের বিরুদ্ধেও একই ধারায় মামলা করা হয়েছে। সেতু যাদের দেখাশোনা করার কথা ছিল, তারা তা ঠিক মতো করেছে কিনা তাও খতিয়ে    দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতেই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের বালি, হাওড়া, উত্তরপাড়া, আনন্দপুর এবং হায়দ্রাবাদের অফিসে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে।

উদ্ধারকাজে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ফোন করে এ আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় এ খবর নিশ্চিত করে। সূত্র: বিবিসি, আনন্দবাজার

/এফইউ/

লাইভ

টপ