behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

‘ভারতে থাকতে হলে ভারত মাতা কি জয় বলতে হবে’

বিদেশ ডেস্ক২৩:৫২, এপ্রিল ০১, ২০১৬

‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান নিয়ে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিবসেনার পক্ষ থেকে এবার প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে। দলটি বলছে, ভারতে থাকতে হলে এ স্লোগান দিতে হবে। এ স্লোগান দেওয়া মুসলিমদের জন্য জায়েজ নয় বলে ভারতের ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়ার প্রেক্ষিতে এ হুমকি দেয়া হলো।

শুক্রবার শিবসেনা নেতা প্রতাপ সরনাইক বলেন, “দারুল উলুম কে, যারা ভারত মাতা কি জয়ের বিরুদ্ধে ফতোয়া বের করেছে? যে মাটিতে আমরা জন্ম নিয়েছি, তাকে আমরা মা, আম্মি ইত্যাদি বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকি। ভারতে থাকতে হলে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে হবে। যদি তা না বলা হয়, আমরা শিবসেনা স্টাইলে তার জবাব দেব।”

অন্যদিকে, প্রখ্যাত সুন্নি আলেম মাওলানা খালিদ রশিদ ফিরিঙ্গী মহলি বলেছেন, “এ দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলিমরাও জীবন উৎসর্গ করেছে করেছে। মুসলিমরা যখন বলেছে, ‘সারে জাহা সে আচ্ছা, হিন্দুস্তা হামারা’ তখন এ নিয়ে কোনও বিতর্ক হওয়া উচিত নয়।”

মাওলানা খালিদ রশিদ বলেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ধ্বনি মুসলিমরা দিয়েছে। এখন ‘ভারত মাতা কী জয়’ বলাকে জোর করে ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। এ নিয়ে ফতোয়া দেওয়ারও কোনও প্রয়োজন নেই। মুসলিমরা ‘জয় হিন্দ’ এবং ‘হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে আসছে।

বিজেপি নেতা শাহনওয়াজ হুসেন অবশ্য বলেছেন, ‘ভারত মাতা কী জয় আমরা আগেও বলতাম, এখনো বলি এবং তা বলতেই থাকব।’

এদিকে, শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী এবং বিজেপি নেত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি বলেছেন, ‘আমরা যে দেশে বাস করি তার জয় বলতে সমস্যা কোথায়? ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান না দেওয়া দেশকে বিভক্ত করার প্রয়াস।’

এর আগে বৃহস্পতিবার ভারতের ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দের পক্ষ থেকে এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, মুসলিমরা এক আল্লাহতে বিশ্বাস করেন। আল্লাহ তাআলা ছাড়া তারা অন্য কাউকে উপাসনা করতে পারেন না। ওই স্লোগানের সারাংশ আপাতদৃষ্টিতে উপাসনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তা শিরক। এজন্য ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দেওয়া মুসলিমদের জন্য বৈধ নয়। দেওবন্দের ফতোয়া প্রকাশ্যে আসতেই ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও তার মিত্ররা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

এর আগে ২৬ মার্চ ২০১৬ শনিবার ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে অস্বীকার করার ‘অপরাধে’ তিন মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। হামলার শিকার ছাত্ররা দিল্লির একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

ঘটনার দিন বিকেলে মাদ্রাসার পাশের মাঠে হাঁটতে গেলে একদল লোক ওই ছাত্রদের ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে বলেন। ওই স্লোগান দিতে অস্বীকার করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে এক ছাত্রের কাঁধ ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

হামলার ঘটনায় ছাত্ররা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। ছাত্ররা জানান, তাদের লাঠি দিয়ে পেটানো হয়।

‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান অস্বীকার করাকে ভারতের সংবিধানের প্রতি অসম্মান বলে মনে করে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। চলতি মাসে দিল্লিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় কার্যনির্বাহী বৈঠকে নিজেদের এমন অবস্থানের কথা জানায় দলটি। বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, বাক স্বাধীনতার যুক্তিতে দেশবিরোধী, জাতিবিরোধী বক্তব্যকে কোনওভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।

বৈঠকের শুরুতেই নিজের বক্তব্যে বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেন, জাতীয়তাবাদের আদর্শ আমাদের বিশ্বাস ও জীবন দর্শনকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এ দেশের বিরুদ্ধে কোনও রকম আক্রমণ বিজেপি বরদাশত করবে না।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘‘দেশ বা জাতির কোনও রকম সমালোচনা বরদাশত করা হবে না।’’ অন্যদিকে ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, ভারত মাতা কি জয়- এই স্লোগান নিয়ে কোনও বিতর্ক উঠতে পারে না। তবে বিজেপি’র এমন কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করেছেন দেশটির রিরোধী রাজনীতিকরা।

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘‘জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিজেপির গলায় যেন জর্জ বুশেরই কণ্ঠস্বর! হয় তুমি আমাদের বন্ধু; না হলে তুমি জঙ্গি! এখানে হয় তুমি বিজেপি সমর্থক, না হলেই তুমি দেশবিরোধী!’’

বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন, জাতীয়তাবাদ নিয়ে এই বিতর্ক যত গড়াবে, ততই তাদের লাভ। জাতীয়তাবাদের হাওয়া সরকারের প্রতি এক ধরনের সমর্থন তৈরি করবে। সরকারের আর্থিক নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ থেকে অন্যত্র মানুষের নজর ঘোরাবে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী মতবাদ প্রচারের পক্ষেও অনুকূল আবহাওয়া তৈরি হবে।

উল্লেখ্য, ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানটি বর্তমানে ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এই স্লোগান না দেওয়ায় দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি রাজ্যসভা থেকেও বহিষ্কৃত হয়েছেন একজন মুসলিম বিধায়ক। সূত্র: পিটিআই, এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

/এমপি/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ