behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

মধ্যরাতে লরি থেকে উদ্ধার খালাসির দেহ

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক০৬:৫৪, এপ্রিল ০২, ২০১৬

বিবেকানন্দ উড়ালসেতুর ভেঙে পড়া অংশের নিচে আটকে ছিল লরিবন্ধুর অপেক্ষায় গণেশ টকিজের ফুটপাথে বসেছিলেন ওরা তিনজন। শুক্রবার গভীর রাতে শেষ হল প্রতীক্ষা। বিবেকানন্দ উড়ালসেতুর তলায় চাপা পড়া লরিতে আটকে থাকা আব্দুর রেজ্জাকের দেহ উদ্ধার হল। গ্যাসকাটার দিয়ে লরিটি কেটে বের করা হয়েছে রেজ্জাকের নিথর দেহ।
অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলের বাসিন্দা আব্দুর রেজ্জাক। লরিতে কাজ করার সূত্রেই বন্ধুত্ব হয়েছিল আর এক লরিচালক আসিফ এবং তার বন্ধুদের সঙ্গে। উড়ালসেতু-বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ আব্দুর রেজ্জাকের জন্য এই তিন বন্ধুই অপেক্ষায় থেকেছেন। খোঁজ করেছেন পুলিশের কাছে, ধ্বংসস্তূপে উঁকি মেরে বোঝার চেষ্টা করেছেন, দুমড়ে যাওয়া লরিটার মধ্যে আব্দুরের থাকার কোনও সম্ভাবনা আছে কি না। আব্দুরের খোঁজ না পেয়ে কী করবেন, প্রথমটায় বুঝে উঠতে পারেননি আসিফ। পুলিশকে ব্যাপারটা বলেছেন। কিন্তু শুক্রবারও দিনভর লরিটা সরানো যায়নি। পুলিশ বলেছে, ভাঙা উড়ালসেতুর একটা অংশ ওই লরিটার উপরেই ভর দিয়ে রয়েছে। গাড়িটা সরলেই ধসে পড়বে কয়েকশো টনের ওই চাঙড়গুলো। আর গাড়িটা যে ভাবে তুবড়ে গিয়েছে, গ্যাসকাটার দিয়ে কেটে ভিতরেও ঢোকা যাচ্ছিল না প্রথমটায়! তবে এ দিন রাতে শুরু হয় গ্যাসকাটার দিয়ে লরি থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ। তৈরি ছিল অ্যাম্বুল্যান্সও। লরিচালক মোর্তাজা আলি গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে। নিখোঁজ ছিলেন আব্দুর। বন্ধু আসিফ জানালেন, তারা বুঝতেই পেরেছিলেন, আব্দুরের ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব কম।
আসিফ অবশ্য একা ছিলেন না, তিরিশ বছরের ছেলের খোঁজে এখনও অপেক্ষা করে বসে আছেন পাটনার রামেশ্বর প্রসাদও। ব্যবসার জিনিস কিনতে পোস্তার ওই বাজারে প্রায়ই আসত ছেলে সন্তোষ, জানতেন বাবা। কালও এসেছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই ছটফট করছেন রামেশ্বর। সন্তোষ প্রসাদের মোবাইলে ফোন করেছেন। পাননি। শেষে চলে এসেছেন কলকাতায়। উড়ালপুলের আশপাশ তো বটেই, ছেলের খোঁজে হন্যে হয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন হাসপাতালে, মর্গেও। কয়েকটা দেহও দেখেছেন, তবে ছেলেকে খুঁজে পাননি।
ব্যবসার তাগিদেই কলকাতায় যাওয়া আসা ছিল সন্তোষের। ঠিক যেমন লরি নিয়ে যাওয়া আসার মাঝেই আসিফ-আরিফের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল আব্দুর রেজ্জাকের। গত সোমবার আদাবোঝাই লরি নিয়ে পোস্তায় আসেন আব্দুর। সে দিনই শহরে আসেন আসিফও। বৃহস্পতিবার ভোরে পোস্তা থেকে বেরিয়ে যান আসিফ।  দুপুরে তাকে ফোন করে মোর্তাজা জানান, কাজ শেষ, পোস্তা থেকে বেরোচ্ছেন তিনি ও আব্দুর। কিন্তু মিনিট দশেকের মধ্যেই ফের ফোন করেন মোর্তাজা। আসিফের কথায়, ‘বলল, ভেঙে পড়েছে উড়াল সেতু। আমি ছিটকে বাইরে বেরিয়েছি। রেজ্জাককে দেখতে পাচ্ছি না।’ আসিফের লরি ততক্ষণে মেদিনীপুরের কাছে পৌঁছেছে। ফোন পেয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে কলকাতা ফেরেন।
আব্দুর রেজ্জাকের অন্ধ্রের বাড়িতে খবর পৌঁছেছে আগেই। তার বৃদ্ধ বাবা-মা আর দাদা শনিবারই কলকাতায় পৌঁছে যাবেন। কিন্তু যাত্রাপথের বন্ধুকে এই ক’টা দিন এ ভাবে ফেলে রেখে চলে যেতে মন মানেনি বন্ধুদের। শেষ বারের জন্য হলেও, বন্ধুর অপেক্ষায় বসে ছিলেন তারা। 

 

 

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

/এমএসএম/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ