behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

উদ্ধার হওয়া অর্থ নিতে ফিলিপাইনে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা

বিদেশ ডেস্ক১২:৩২, এপ্রিল ০২, ২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্ট থেকে ফিলিপাইনের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থের একাংশ ফেরত নিতে ম্যানিলা যাচ্ছেন বাংলাদেশের তদন্তকারী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা। সেখানে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি এ ঘটনায় চলমান সিনেট তদন্তেও অংশ নেবেন। আর গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির কর্মকর্তারা ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করবেন।
ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব) জন গোমসের বরাত দিয়ে ম্যানিলাভিত্তিক সংবাদপত্র বিজনেস ওয়ার্ল্ডের অনলাইনে শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

চুরি যাওয়া অর্থের ব্যাপারে বৈঠক

জন গোমস বিজনেস ওয়ার্ল্ডকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা আগামীকাল রোববারের মধ্যে ম্যানিলা পৌঁছাবেন। সেখানে তারা চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের ব্যাপারে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপিনাস, বিএসএফের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন।

ফিলিপাইনের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকালে আইনজীবীর মাধ্যমে ফিলিপাইনের অর্থপাচার দমন কাউন্সিল (এএমএলসি) ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধির কাছে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী কিম ওং। ম্যানিলায় বিএসএফের কার্যালয় থেকে ওই আইনজীবীর কাছ থেকে ১০০ ডলারের নোট ভর্তি একটি ব্রিফকেস গ্রহণ করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি ও চ্যানন্সেরি প্রধান প্রবাশ ল্যামারোং ও এএমএলসির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া বাচায়-আবাদ। সেই টাকা কিভাবে বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হবে বৈঠকে।

উদ্ধার হওয়া সাইবার ডাকাতির অর্থ

কিমের কাছ থেকে অর্থ ফেরত পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ম্যানিলায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমস সংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা আসছেন। ফেরত পাওয়া অর্থ কীভাবে দেশে নেওয়া যায় সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা এএমএলসির জুলিয়ার সাথে সমন্বয় করবেন।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ যথাযথভাবে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানান এএমএলসির জুলিয়া। তিনি বলেন, ‘যখনই বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলেও অর্থ ফেরত পাঠানো হবে।’ মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সিনেটের শুনানিতে এই অর্থ ফেরতের দেওয়া অঙ্গীকার করেছিলেন কিম ওং। শুনানিতে কিম বলেছিলেন, ফিলিপাইনের অর্থ বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশনের মাধ্যমে সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোর জুয়াড়িদের জন্য এই অর্থ পাঠিয়েছিলেন তিনি।

সিনেট শুনানিতে অংশ নেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা

ম্যানিলাভিত্তিক সংবাদপত্র বিজনেস ওয়ার্ল্ডের অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার ডাকাতির ঘটনায় ৫ই এপ্রিলের চতুর্থ সিনেট শুনানিতে অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। শুনানিতে এ ঘটনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে।

তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করবে সিআইডি

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বরাতে বিজনেস ওয়ার্ল্ডের অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার চুরির অর্থ উদ্ধার কাজে ফিলিপাইনের কেন্দ্রিয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করতে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির কর্মকর্তারাও ম্যানিলা যাচ্ছেন। রাষ্ট্রদূত গোমস জানিয়েছেন, রিজার্ভের অর্থ কীভাবে ফিলিপাইনে প্রবেশ করল এবং কে কে এর সঙ্গে যুক্ত সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রমাণ জোগাড়ের চেষ্টা করবেন তারা (সিআইডি)।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ১০০ মিলিয়ন অর্থ চুরি করে। সেখান থেকে ২০ মিলিয়ন যায় শ্রীলঙ্কায়। আর ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। তা সেখানকার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ফিলিপিনো পেসোতে রূপান্তরের পর দুটি ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। হ্যাকাররা অর্থ স্থান্তরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে ৩৫টি ভুয়া অনুরোধ পাঠায়। এর মধ্যে ৪টি অনুরোধের অর্থ ঠিক মতো স্থানান্তর হয় ফিলিপাইনে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলারের ওই অর্থ শ্রীলঙ্কায় পৌঁছায় ডয়চে ব্যাংকের হাত ঘুরে। তাদেরই সন্দেহের কারণে শেষ পর্যন্ত শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে যাওয়া ওই অর্থ আটকে যায়। ওই অর্থ স্থানান্তরের অনুরোধে প্রাপকের জায়গায় ‘ফাউন্ডেশন’ বানান ভুল থাকায় ডয়চে ব্যাংক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। আর এর মাধ্যমেই বেরিয়ে আসে, অর্থ স্থানান্তরের অনুরোধটি ছিল ভুয়া। আর তাতে বাকি ৩০টি অনুরোধ আটকে যায়। ফাঁস হয়, বিশ্বের আলোচিত এক সাইবার ডাকাতির ঘটনা। সূত্র: বিজনেস ওয়ার্ল্ড

/বিএ/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ