behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

পাকিস্তানের মদদে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদ আড়াল করতে চায় চীন!

বিদেশ ডেস্ক১৪:২০, এপ্রিল ০২, ২০১৬

ভারত অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানের মদদে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদকে আড়াল করতে চায় চীন। জয়েশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান আজহার মাসুদের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতিসংঘের কাছে ভারতের দেওয়া প্রস্তাবটিতে চীনের ভেটো দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এক বিবৃতিতে দেশটি নিজেদের অবস্থান জানায়। ভারতের মতে কেবলমাত্র টেকনিক্যাল সুবিধার স্বার্থে চীনের এমন ভূমিকা অচিন্তনীয়।

আজহার মাসুদ

জয়েশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান আজহার মাসুদের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতিসংঘের কাছে দেওয়া প্রস্তাবে পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে চালানো সন্ত্রাসী হামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে ভারত আজহার মাসুদের কথা উল্লেখ করেছিল। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারত জাতিসংঘের কাছে ১১ ব্যক্তি এবং একটি সংগঠন ‘ভারতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সঙ্গে জড়িত’ বলে উল্লেখ করে। এসব ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে আইএস এবং আল-কায়েদার  নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক কমিটির অধীনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রস্তাব পেশ করে ভারত। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব কার্যকরের সময়সীমা পার হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে চীন তা আটকে দেয়।

এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপী পারমাণবিক নিরাপত্তা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দিল্লী থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভারত দাবি করে, জয়েশ-ই- মোহাম্মদের নেতা মাসুদ আজহারকে রক্ষা করতে যৌথভাবে কাজ করছে পাকিস্তান ও চীন।

হামলার পর পাঠানকোট

জাতিসংঘ কমিটি থেকে বলা হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কোনও পক্ষের আপত্তি না থাকলে তা গৃহীত হবে। কিন্তু সময়সীমা অতিক্রমের মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে চীন জাতিসংঘ কমিটির কাছে ওই প্রস্তাব স্থগিত রাখার আবেদন করে। চীন জাতিসংঘের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ শক্তির একটি। ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য দেশগুলো হলো – যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া এবং ফ্রান্স। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, চীন পাকিস্তানের সঙ্গে ‘সমঝোতা’র ভিত্তিতে প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে, অথচ পাকিস্তান ওই কমিটির অংশ নয়।

ভারতের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী রাষ্ট্রগুলো সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করে থাকে। ভারতের অভিযোগ, ‘সর্বসম্মতি ও নাম প্রকাশ না করার যে কৌশল জাতিসংঘ অবলম্বন করে তাতে সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিই অবলম্বন করা হয়। এতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বিশ্বনেতাদের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয় না।’

পাঠানকোট হামলার রুট

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তানভিত্তিক জয়েশ-ই-মোহাম্মদকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল কমিটিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ২০০১ সালে। আল কায়েদার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এ কথাও সবাই জানে। অথচ তা সত্ত্বেও এই দলের নেতাকে কৌশলে আড়াল করা হচ্ছে। পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে ২ জানুয়ারির হামলায় এ-ও প্রমাণিত হয়েছে যে মাসুদ আজহারকে তালিকাভুক্ত না করার পরিণতি ভারতের জন্য শুভ হয়নি। এই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের প্রভাব পুরো বিশ্বের ওপরই পড়বে।’

এর আগে নৈশভোজের টেবিলে চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিংপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে উদ্দেশ্য করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদকে অপরের সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা।’ ভারতের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের হাত মেলানোর পেছনে কারণটি সম্পূর্ণভাবে বাণিজ্যিক। পাকিস্তানে ব্যবসার সম্ভাবনা দেখেই চীন পাকিস্তানের ওই সন্ত্রাসী নেতাকে বাঁচাতে চাইছে।

প্রসঙ্গত, জয়েশ-ই-মোহাম্মদ নেতা মওলানা মাসুদ আজহার জন্মগ্রহণ করেন ভাওয়ালপুরে। কাশ্মিরে গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি আফগানিস্তান ও সোমালিয়ায় যুদ্ধে অংশ নেন। তাকে ওই সংগঠনের অত্যন্ত মূল্যবান সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পাঠানকোট হামলার টাইমলাইন

২০০১ সালে জাতিসংঘ জয়েশ-ই-মোহাম্মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু ভারতের আবেদন সত্ত্বেও সংগঠনটির প্রধান আজহার মাসুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। তখনও চীন আজহারের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ভেটো দিয়েছিল।

সম্প্রতি পাকিস্তানের যৌথ তদন্তদল পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে অনুসন্ধান করে হামলার সঙ্গে মাসুদ আজহারের কোনও রকম সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে। তবে ভারতের দাবি, মাসুদ আজহার ও তার ভাই আব্দুল আসগর রউফ পাঠানকোট হামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। আজহারকে ১৯৯৯ সালে ভারতের একটি কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় ও পাকিস্তানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ছিনতাইকৃত বিমান আইসি ৮১৪ এর জিম্মি করা যাত্রীদের বিনিময়েই তাকে মুক্তি দেয় ভারত সরকার।

চলতি বছরের ২ জানুয়ারি দিবাগত রাতে পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। ওই ঘটনায় ৬ হামলাকারী আর নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ সদস্য নিহত হন। ঘটনার পর থেকেই হামলার পেছনে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদকেই দায়ী করে আসছে ভারত।  সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি  

/ইউআর/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ