Vision  ad on bangla Tribune

কলকাতার ফ্লাইওভার ধসউদ্ধারকাজ বন্ধের আগাম ঘোষণা দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ মমতা

বিদেশ ডেস্ক১০:৩৫, এপ্রিল ০৩, ২০১৬

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে নয়টা। ভেঙে পড়া বিবেকানন্দ রোড ফ্লাইওভারের একটু দূরে চেয়ারে বসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, ‘উদ্ধারকাজ শেষ।’ তারপর ঘটনাস্থল থেকে সোজা মেডিক্যাল কলেজে আহতদের দেখতে চলে যান তিনি। ততোক্ষণে এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী-আমলারাও।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মেনে অবশ্য উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি সেদিন। দুর্ঘটনার পর দিন, শুক্রবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাতে আটকে থাকা লরি থেকে বের করা হয় খালাসি আব্দুর রেজ্জাকের দেহ। শনিবারও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থাকা একটি মন্দির চত্বর থেকে আরও দুই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করা হয়। তবে রাত পর্যন্ত তাদের পরিচয় জানা যায়নি। লালবাজার পুলিশের হিসেবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শনিবার দুপুরেও যেখানে মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে, সেখানে বৃহস্পতিবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধারকাজ শেষ করার কথা ঘোষণা করলেন কিভাবে? এই প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে। সেনা সদস্যরা অবশ্য তখনই জানিয়েছিলেন, উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। শুক্রবার দুপুরে উদ্ধারের মূল কাজ সেরে সরে যায় সেনাবাহিনী। তারপর থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও লালবাজারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আর কেউ নেই, এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলে। এটাই নিয়ম।’ তবে মুখ্যমন্ত্রীর আগাম ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার তুষার তালুকদার। তিনি বলছেন, ‘উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে কি না, তা মুখ্যমন্ত্রী বলবেন কিভাবে? এটা তো যারা কাজটা করছেন, তাদের বলার কথা।’ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষকর্তারাও। তারাও কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ভুল শুধরে দেননি। তুষার অবশ্য এতে আশ্চর্য হচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘ওরা তো কর্তার ইচ্ছায় চলেন। মুখ্যমন্ত্রী যা বলেন, তাতেই সায় দেন।’

উদ্ধারকার্যে ব্যস্ত কর্মীরা

ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীদের যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আগেই। ভিআইপিদের উপস্থিতিতে কাজে অসুবিধা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন উদ্ধারকারীদের অনেকে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শেষের ঘোষণা কি বিপর্যয় মোকাবেলায় রাজ্যের দক্ষতা প্রমাণ করার চেষ্টা? তুষার বলছেন, ‘রাজ্য যদি বিপর্যয় মোকাবেলায় দক্ষই হবে, তা হলে সেনা না পৌঁছনো পর্যন্ত কাজে গতি এলো না কেন?’

তৃণমূলের এক নেতা অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার মধ্যে কোনও বিভ্রান্তি দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মেডিক্যালে যাওয়ার সময় বলেছিলেন, আরও কয়েকটি দেহ আছে। তাই কিছু লোক রেখে গেলাম। সেই দেহগুলিই এখন উদ্ধার করা হচ্ছে।’ যদিও অনেকেই বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী ওই দিন ধ্বংসস্তূপে আরও তিন জনের থাকার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে মোট পাঁচ জনের দেহ।

বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনীর একাংশ বলছে, লরির ভিতরে খালাসির দেহ রয়েছে, তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। কিন্তু মন্দির চত্বরেও যে দেহ রয়েছে, তা বৃহস্পতিবার রাতে বোঝা যায়নি। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে পচা গন্ধ বেরোতে শুরু করার পরেই আরও দেহ চাপা পড়ে থাকার বিষয়টি আঁচ করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু যেভাবে সেতুটা ভেঙে পড়েছিল, তাতে ভিতরে ঢোকা যাচ্ছিল না। শুক্রবার সন্ধ্যায় কংক্রিটের ব্লক এনে ঝুলতে থাকা সেতুর অংশটির তলায় লাগানো হয়। এ দিন বেলা ১২টা নাগাদ ধীরে ধীরে ওই ঝুলন্ত অংশের ভিতরে ঢোকেন উদ্ধারকারীরা। সেখান থেকেই দুই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করা হয়।

রাতভর চলে উদ্ধার কাজ

ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। ঝুলে পড়া অংশ ভেঙে পড়লে ফের প্রাণহানি হতে পারে, এটা আঁচ করেই আশপাশের ৫টি বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে, দিনতিনেক পরেই বাসিন্দাদের বাড়িতে ফিরে যেতে দেওয়া হবে। তবে এই বিপর্যয়ের পরে ফ্লাইওভার তৈরি হওয়া নিয়ে ফের ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। এই প্রকল্প বাতিলের দাবিতে এ দিন দুপুরে মিছিল করেন তারা। সন্ধ্যায় নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশে মোমবাতি মিছিলও হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে হাজির হতে শহরে এসেছিলেন দিল্লি গণ-ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার নির্ভয়ার বাবা-মা। দুর্ঘটনার খবর শুনে দুর্ঘটনাস্থল ও মেডিক্যাল কলেজেও যান তারা। নির্ভয়ার বাবা বলেন, ‘আমাদের মেয়ের মৃত্যুর পর সারা দেশ পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাই আমরাও এই ঘটনায় নিহত ও আহতদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি।’   

সৌজন্য: আনন্দবাজার পত্রিকা।

/এসএ/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ