behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

নতুন সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে হামাস!

আরশাদ আলী১৭:৫১, এপ্রিল ০৩, ২০১৬

গাজার সঙ্গে ইসরায়েলি সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসরত কিছু মানুষ জানিয়েছেন, প্রতিদিন শেষ রাতের দিকে তারা সুড়ঙ্গ খোঁড়ার শব্দ শুনতে পান। কেউ কেউ অবশ্য এটাকে আতঙ্ক থেকে কাল্পনিক শব্দ হিসেবে উল্লেখ করছেন, তাদের মতে যে শব্দ পাওয়া যাচ্ছে তা হতে পারে কোনও পোকামাকড় কিংবা পানির পাইপে কিছু ঢুকে পড়ার পর উৎপন্ন হওয়া শব্দ। তবে এ বিষয়ে সন্দেহ নাই যে, সর্বশেষ গাজা ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ হওয়ার ১৯ মাস পর বিরাটাকারের সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু করেছে হামাস। ওই যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েল বাহিনী হামাসের সুড়ঙ্গ খুঁজে পেয়েছিল। গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, নতুন করে খোড়া সুড়ঙ্গগুলো দিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা ও প্রতিরোধ তৈরী করতে চাইছে হামাস। এটা তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতির অংশ।

গাজায় হামাসের সুড়ঙ্গ-৫

হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহও নতুন করে সুঁড়ঙ্গ খোড়ার কথা জানিয়েছেন। এ বছর তিনি গাজার মানুষদের বলেছেন, হামাস যোদ্ধারা ভিয়েতনামের চেয়েও বেশি সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে। একই কথা বলছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। গার্ডিয়ানকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা দেখছি হামাস সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে। আমাদের কাছ থেকে তারা এটা লুকানোরও চেষ্টা করছে না।’

গাজা সীমান্তে যেসব শব্দ স্থানীয়রা শুনছেন তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সেনা কর্মকর্তা জানান, প্রত্যেক নাগরিক ও সেনা সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘তবে এখন পর্যন্ত আমরা জানি না, সীমান্ত পার হয়ে কোনও সুড়ঙ্গ ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে কি না।’

গাজায় হামাসের সুড়ঙ্গ-৪

জাতিসংঘের তথ্য মতে, ওই যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ১ লাখ বাড়িঘর ধ্বংস করেছিল। আর ইসরায়েলের তথ্য মতে, ওই সময় প্রায় সাড়ে তিন টন নির্মাণ সামগ্রী ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত কেরেম শালম সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ করেছিল। ইসরায়েল দাবি করেছিল, কালো বাজারের সহযোগিতায় হামাস এসব নির্মাণ সামগ্রী সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজে ব্যবহার করেছে।

২০১৪ সালে ৫০ দিনব্যাপি চলা যুদ্ধের সময় হামাসের ভূ-গর্ভস্ত নেটওয়ার্ক দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব। যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছিল, সীমান্তের নিচ আসা ৩২টি সুড়ঙ্গ তারা ধ্বংস করে দিয়েছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। ওই সময় আইডিএফের প্রকৌশল বিভাগের সাবেক প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনালে শাইমন ড্যানিয়েল বলেছিলেন, ‘অবশ্যই হামাস আবারও সুড়ঙ্গ তৈরির চেষ্টা করবে। আমরা যখনই গাজা ছেড়ে চলে যাব তখনই তারা সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু করবে।’ সে কথা বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে।

গাজায় হামাসের সুড়ঙ্গ-৩

গত ডিসেম্বরে হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেড একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার জন্য। এ কাজে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গত ১০ বছর ধরে সংঘাতের পরও তারা নতুন করে আরেকটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত গাজার ৫টি সুড়ঙ্গ ভেঙে পড়েছে। এতে কাসাম ব্রিগেডের অন্তত ১২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। একটি ধসে গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলে সাতজন নিহত হন। গাজার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুস্তাফা ইব্রাহিমের মতে, কাসাম ব্রিগেড এসব সুড়ঙ্গকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তারা এটাকে আরও উন্নত করতে চায়। তিনি জানান, ২০১৪ সালের যুদ্ধে ভূ-গর্ভস্ত সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষতি করতে পেরেছে বলে হামাস মনে করে।

প্যালেস্টাইনের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত সশস্ত্র এই সংগঠন গত এক দশক ধরেই সুড়ঙ্গ খোড়ার কাজে ব্যস্ত। এবার চার ধরনের সুড়ঙ্গ খোঁড়া হচ্ছে। কিছু সুড়ঙ্গ খোঁড়া হচ্ছে সীমান্তের নিচ দিয়ে। যার মধ্য দিয়ে সেনা ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালানো যাবে। কিছু সুড়ঙ্গ এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে করে গাজা থেকে ইসরায়েলের রকেট লঞ্চার নিক্ষেপ করা যায়। আবার কিছু সুড়ঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে যাতে হামাসের নেতা ও সিনিয়র যোদ্ধারা সংঘর্ষের সময় আশ্রয় নিতে পারেন। আর কিছু সুড়ঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে কালো বাজার থেকে চোরাইপথে মিসর থেকে বিভিন্ন সামগ্রী গাজায় নিয়ে আসার জন্য।

গাজায় হামাসের সুড়ঙ্গ-২

গার্ডিয়ানের পক্ষ কাসাম ব্রিগেডের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে গত মাসে আবু হামজা নামে এক সামরিক নেতা হামাস সংশ্লিষ্ট আল-খালিজ অনলাইনকে জানান, আগামী দিনে যে কোনও হামলায় ইসরায়েলের বাহিনীকে এসব সুড়ঙ্গে কার্যকারিতায় অবাক হতে হবে। ইসরায়েলের বিমান ও ট্যাংকের হামলাতেও এসব সুড়ঙ্গের কোনও ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, ‘এসব সুড়ঙ্গ থেকে বেশ আধুনিক রকেট ও মর্টার শেল ছোড়া যাবে গাজার নিকটবর্তী ইসরায়েলি শহরে। এতে যোদ্ধারা ইসরায়েলের রাডারের আওতামুক্ত থাকবে এবং ইসরায়েলি হামলা থেকে পালিয়ে যেতে পারবে দ্রুত। এছাড়া যখন ইসরায়েলি সেনাদের অপহরণ করা হবে তখন তারা দ্রুত লুকিয়ে যেতে পারবে।’

আইডিএফ এর সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকট জানান, এ বছর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় রয়েছে এসব সুড়ঙ্গ।

গাজায় হামাসের সুড়ঙ্গ-১

চলতি বছরে সুড়ঙ্গ ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ৪০ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য হুমকি স্বরূপ এসব সুড়ঙ্গ চিহ্নিত করা, নকশা তৈরি ও ধ্বংস করার জন্য এ তহবিল দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরেন পলিসি। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র ক্রিস্টোফার শেরউডকে উদ্বৃত করা হয়েছে। ফলে ভূ-গর্ভস্ত অ্যান্টি-রকেট প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ সামনে আসছে।

হামাস দাবি করেছে, ধসে যাওয়া সুড়ঙ্গে তারা সেন্সর ও ক্যামেরা পেয়েছে। গাজায় গুজব রটেছে, হামাসের প্রকৌশল ত্রুটি নয় বরং ইসরায়েলই এসব সুড়ঙ্গ ধ্বংস করেছে। তবে আইডিএফ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: গার্ডিয়ান, ফরেন পলিসি

/এএ/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ