behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বিশ্বের ৭২ রাষ্ট্রপ্রধানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের তথ্য ফাঁস!

বিদেশ ডেস্ক১১:৩৩, এপ্রিল ০৪, ২০১৬


বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত কিভাবে কর ফাঁকি দিয়ে সম্পদ গোপন করেন এবং কিভাবে অর্থ পাচার করেন; তা উন্মোচিত হয়েছে পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের এক কোটি ১৫ লাখ কর নথি ফাঁস হওয়ার পর। ওই ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা গেছে, সাবেক ও বর্তমান ৭২ জন রাষ্ট্রপ্রধান তাদের দেশের সম্পদ লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ফাঁস হওয়া নথিতে উঠে এসেছে ফিফার দুর্নীতির প্রসঙ্গও।
জার্মান দৈনিক জিড্ডয়েটশ সাইটুঙ্গ একটি বেনামা সূত্র থেকে এই বিপুল তথ্যভাণ্ডারের সন্ধান পায়। তারা  ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস বা আইসিআইজের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেয়। তবে নথিগুলোর সংগ্রাহক ও প্রকাশকারীর নাম এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
গোপনীয়তা রক্ষাকারী হিসেবে পৃথিবীর অন্যতম প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকা, যেটি পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠান, সেখান থেকেই সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে ১১ মিলিয়ন নথিপত্র। বিশ্বের ৩৫টির বেশি দেশে প্রতিষ্ঠানটির শাখা রয়েছে। ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অর্থ পাচার করতে, কর ফাঁকি দিতে এবং বিভিন্ন রকম নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এই আইনি প্রতিষ্ঠানটি তার মক্কেলদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তারা গত ৪০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছে।
ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস বা আইসিআইজে-এর ডিরেক্টর, জেরার্ড রাইল বলেছেন, গত ৪০ বছর ধরে মোস্যাক ফনসেকা তার দৈনন্দিন যে সকল কাজকর্ম করেছে সেগুলোর নথি রয়েছে এই ফাঁস হওয়া ডকুমেন্টগুলোয়।

ফাঁস হওয়া গোপনীয় এই নথি-পত্রগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর নানান দেশের মোট ৭২ জন বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান তাদের নিজেদের দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক, লিবিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফী, বর্তমান সৌদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। এছাড়া এক ব্যাংকের মাধ্যমে অন্তত প্রায় বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচারের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীও রয়েছেন। নথিতে বিলিয়ন ডলার পাচারকারী একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে, যা পরিচালিত হয় একটি রুশ ব্যাংকের মাধ্যমে এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কয়েকজন ঘনিষ্ট সহযোগীও এতে জড়িত বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সম্মতি ব্যতিত এতো বড় কাজ তার ঘনিষ্ঠ লোক করতে পারেন না। রাশিয়া, ক্রিমিয়াকে নিজেদের অংশ করে নেওয়ার পর ব্যাংক রোশিয়া নামের ওই ব্যাংকের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্যাংকটি কিভাবে অর্থ পাচার করে আসছিল তা ফাঁস হওয়া নথির মাধ্যমেই প্রথম জানা যাচ্ছে। 

স্কাই নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া নথিগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেনকো, ইরাকের সাবেক অন্তবর্তীকালিন প্রধানমন্ত্রী আয়াদ আলাওয়ি, মিশরের ক্ষমতাচ্যূত স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের ছেলে আলা মুরাবক এবং আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমান্ডার গানলাউগসন রয়েছেন। আর চীনের ক্ষমতাসীন দলের সাবেক-বর্তমান অন্তত ৮ জনের অবৈধ অথবা গোপন সম্পদ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে ফাঁস হওয়া নথির মাধ্যমে। নথিতে রয়েছে ব্রিটিশ রক্ষণশীল এমপি, রাজনীতিবিদের গোপন সম্পদের কথাও।

ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, ফিফার নৈতিকতা বিষয়ক কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দূর্নীতি ও ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আইনি পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। 

সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান, হাফিংটন পোস্ট, স্কাই নিউজ

/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ