শিক্ষা এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন না সু চি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:২৫, এপ্রিল ০৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৫, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

মিয়ানমারের ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির নেত্রী অং সান সু চির চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও দু’টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন না তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আগে জ্বালানি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও তা আর হচ্ছে না। তবে পররাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সু চি। তার জন্য প্রস্তাবিত ‘রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা’র পদে দায়িত্ব পালন করতেই তিনি ওই দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সু চি

দফতর বণ্টনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই মার্চে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয়, মিয়ানমারের নতুন মন্ত্রিপরিষদে পররাষ্ট্র, জ্বালানি, শিক্ষা ও প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি। পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে ১৮ জন হবু মন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়। তবে এরপর এপ্রিলের ১ তারিখ শুক্রবারে সু চি’র জন্য ‘রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাবটি দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষে পাস হয়। সাংবিধানিক বাধার কারণে প্রেসিডেন্ট না হতে পারলেও এ পদের আওতায় সু চি প্রেসিডেন্টের ঊর্ধ্বে থাকার ক্ষমতা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয় মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের তরফে। দলীয় নেতাদের কেউ কেউ এ পদটিকে  ‘প্রেসিডেন্ট’স বস’ বলে আখ্যা দেন। সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা হলে অন্যান্য পদগুলো ছেড়ে দিতে পারেন সু চি। সে কারণে দুই মন্ত্রণালয় থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের এই ঘোষণা সু চির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা হওয়ার পদক্ষেপ হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট থিন কিয়াওয়ের সঙ্গে সু চি

গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে সু চি’র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)। পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে সু চি’র ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধিনিষেধ থাকায় তার সহযোগী থিন কিয়াওকে প্রেসিডেন্ট মনোনীত করা হয়। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী কোনও বিদেশিকে বিয়ে করলে বা সন্তানদের কেউ অন্য দেশের নাগরিক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। সু চি’র স্বামী মাইকেল অ্যারিস ছিলেন একজন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ। তার দুই সন্তানও ব্রিটিশ নাগরিক। আর তাই নির্বাচনের আগেই ‘প্রেসিডেন্টের ঊর্ধ্বে’ থেকে সরকার পরিচালনার অঙ্গীকার করেন সু চি। আর থিন কিয়াওকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করাকে সু চি’র সে শপথের বাস্তবায়ন বলেই মনে করা হয়।

রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার পদটি সু চিকে সরকারের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার ক্ষমতা দেবে। তিনি নিজের খুশিমতো যে কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। বিবিসির প্রতিনিধি জানান, অন্যান্য দেশে প্রধানমন্ত্রীরা যে ধরনের দায়িত্ব পালন করেন, অনেকটা সেরকম করেই ‘রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা’ পদটি তৈরি করা হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক পার্লামেন্টের ঐতিহাসিক মুহূর্তে সু চি

১৯৬২ সাল থেকে মিয়ানমারের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এ সময়ের মধ্যে জান্তা সরকারের রোষানলে ১৫ বছর সু চি’কে গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। গত ২০ বছর ধরে মিয়ানমারে সু চি’র দলকে সরকারের প্রতিপক্ষ মনে করা হতো। এ সময়ে দলটির বহু নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ২৫ বছর পর প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সু চি’র দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও দেশটির পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর প্রভাব থাকছে। কারণ তাদের জন্য ১৬৬টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকছে সেনাবাহিনী। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি

/বিএ/

লাইভ

টপ