অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বললেন ঐশ্বরিয়া

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৪১, এপ্রিল ০৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪১, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

মোস্যাক ফনসেকা নামক পানামাভিত্তিক এক আইনি প্রতিষ্ঠানের ফাঁস হওয়া প্রায় ১১ মিলিয়ন নথিপত্রে পাঁচ শতাধিক ভারতীয় ব্যক্তির মধ্যে রয়েছে বলিউডের সুপার স্টার ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চনের নামও।  তবে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

ফাঁস হওয়া নথির বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, একটি অফশোর কোম্পানির পরিচালনা ও মালিকানার সঙ্গে যুক্ত থেকে, কর ফাঁকি দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঐশ্বরিয়া এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে। তবে ঐশ্বরিয়ার মিডিয়া উপদেষ্টা জানান, ভারতীয় ওই সুপার স্টার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন। অভিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। 

এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, কর ফাঁকি দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধভাবে ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রায়, আদানি গ্রুপের গৌতম আদানি ও তার বড় ভাই বিনোদ আদানিও। ওই আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভারতের সরকার এবং কর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতার কথাও উঠে আসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে।

মোস্যাক ফনসেকার প্রধান কার্যালয় পানামায় অবস্থিত, যেখানে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার হাজারো কারসাজির সুযোগ রয়েছে। ওই ফাঁস হওয়া নথিকে ‘পানামা পেপারস’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। ওই আইনী প্রতিষ্ঠানটির মক্কেল ছড়িয়ে রয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট ফি নেওয়ার মাধ্যমে মক্কেলদের বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে তারা ওই অপ্রদর্শিত আয়কে বৈধ উপায়ে ব্যবহারের সুযোগ পান। ওই আইনী প্রতিষ্ঠানই এসব বেনামী কোম্পানির দেখাশুনা করে থাকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩৪টি ভারতীয় পাসপোর্ট এবং ৩৬ হাজার নথির ওপর তারা আট মাস তদন্ত চালিয়েছে। পানামা পেপারসে কর ফাঁকি ও গসম্পদ গোপনের তালিকায় রয়েছে বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রায়, ডিএলএফ স্বত্বাধিকারী কেপি সিং ও তার পরিবারের আরও ৯ সদস্য, অ্যাপোলো টায়ারস, ইন্ডিয়ান বুলস থেকে আদানি গ্রুপের গৌতম আদানি ও তার বড় ভাই বিনোদ আদানির নাম। দুই রাজনৈতিক ব্যক্তির মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শিশির বাজোরিয়া এবং লোকসত্তা পার্টির দিল্লি ইউনিটের সাবেক প্রধান অনুরাগ কেজরিওয়ালের নাম। 

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভারতীয় ট্যাক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও মোস্যাক ফনসেকার সম্পর্ক ছিল। ব্রিটিশ আইল্যান্ড বা পানামার মতো ট্যাক্স মুক্ত কর্তৃপক্ষ ওই ভারতীয়দের তথ্যের জন্য মোস্যাক ফনসেকার ওপরই নির্ভর করতো।

‘পানামা পেপারস’ এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম বি শাহ-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তদল কালো টাকার অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন তৈরি করছে।
প্রায় এক বছর আগে জার্মানির মিউনিখের একটি পত্রিকা জিড্ডয়েটশ সাইটুঙ্গ একটি বেনামা সূত্র থেকে এই বিপুল তথ্যভাণ্ডারের সন্ধান পায়। তারা  ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস বা আইসিআইজের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানায়। তবে নথিগুলোর সংগ্রাহক ও প্রকাশকারীর নাম জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছর ‘সুইস লিকস’-এ দেখা যায়, ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি ভারতীয়ের এইচএসবিসি জেনেভায় গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আর ওই ঘটনাটি ভারত থেকে অর্থপাচারের বিষয়টিকে আবারও সামনে তুলে ধরে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি।

/বিএ/

লাইভ

টপ