behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

পানামা পেপারস: বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালীদের প্রতিক্রিয়া

বিদেশ ডেস্ক২২:২৮, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পানামার পেপারস-এ ফাঁস করা অর্থ গোপনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এর নিন্দা জানাচ্ছেন। রবিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত কিভাবে কর ফাঁকি দিয়ে সম্পদ গোপন করেন এবং কিভাবে অর্থ পাচার করেন; তা প্রকাশিত হয় পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের এক কোটি ১৫ লাখ কর নথি ফাঁস হওয়ার পর।  এরপর বিষয়টি সারা বিশ্বে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। রাশিয়া পানাম পেপারসে ফাঁস হওয়া তথ্য প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকো এ ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

ওই ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা গেছে, সাবেক ও বর্তমান ৭২ জন রাষ্ট্রপ্রধান তাদের দেশের সম্পদ লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ফাঁস হওয়া নথিতে উঠে এসেছে ফিফার দুর্নীতির প্রসঙ্গও। জার্মান দৈনিক জিড্ডয়েটশ সাইটুঙ্গ ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস বা আইসিআইজের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেয়।

এ সংক্রান্ত আরও খবর: বিশ্বের ৭২ রাষ্ট্রপ্রধানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের তথ্য ফাঁস!

ফাঁস হওয়া গোপনীয় এই নথি-পত্রগুলো থেকে দেখা গেছে, পৃথিবীর নানান দেশের মোট ৭২ জন বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান তাদের নিজেদের দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক, লিবিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফী, বর্তমান সৌদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। এছাড়া এক ব্যাংকের মাধ্যমে অন্তত প্রায় বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচারের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীও রয়েছেন। নথিতে বিলিয়ন ডলার পাচারকারী একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে, যা পরিচালিত হয় একটি রুশ ব্যাংকের মাধ্যমে এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কয়েকজন ঘনিষ্ট সহযোগীও এতে জড়িত বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সম্মতি ব্যতিত এতো বড় কাজ তার ঘনিষ্ঠ লোক করতে পারেন না। রাশিয়া, ক্রিমিয়াকে নিজেদের অংশ করে নেওয়ার পর ব্যাংক রোশিয়া নামের ওই ব্যাংকের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর: পানামা পেপারস কী

গোপনীয়তা রক্ষাকারী হিসেবে পৃথিবীর অন্যতম প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকা, যেটি পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠান, সেখান থেকেই সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে ১১ মিলিয়ন নথিপত্র। বিশ্বের ৩৫টির বেশি দেশে প্রতিষ্ঠানটির শাখা রয়েছে। ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অর্থ পাচার করতে, কর ফাঁকি দিতে এবং বিভিন্ন রকম নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এই আইনি প্রতিষ্ঠানটি তার মক্কেলদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছে।

এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোসাক ফনসেকা। রবিবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রকাশিত তথ্য মিথ্যা এবং এর কোনও নির্ভরযোগ্যতা নেই।  দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ৪০ বছরের ইতিহাসে কখনও অপরাধ ও ভুল কিছু করার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ওঠেনি।

এ সংক্রান্ত আরও খবর: অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বললেন ঐশ্বরিয়া

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিষয়টিকে রাশিয়া ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লক্ষ্য মিডিয়ার আক্রমন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এ ধরনের আক্রমন প্রত্যাশিতই। ফাঁস হওয়া নথির অভিযোগকে তিনি ধাপ্পাবাজির অংশ বলে জানান। সোমবার মিডিয়াকে তিনি জানান, এটা পুতিনফোবিয়ার আরেকটি উদাহরণ। তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এখন অনেক সাংবাদিক রয়েছেন যাদের কাজ সাংবাদিকতা নয়।

 

ফাঁস হওয়া নথিতে ফিফার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে। অন্যতম অভিযুক্ত উরুগুয়ের ফুটবল সভাপতি ডামিয়ানি এ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনকে তিনি হাস্যকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে ফিফা জানিয়েছে, অভিযোগ ওঠার পর সংস্থার পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হচ্ছে।

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাউগসনও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক টিভি চ্যানেলে আলোচনার সময় প্রসঙ্গটি আসলে তিনি আলোচনা থেকে উঠে চলে যান। তিনি বিষয়টি অপ্রসাঙ্গিক প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে পুরো অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর কোনও প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দিচ্ছে না বলেও দাবি করা হয়।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মৌরিসিও মাকরিও কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ রাখার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইভান পাভলোস্কি এক বিবৃতিতে জানান, অভিযুক্ত কোম্পানির সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কোনও সম্পর্ক নেই। সূত্র: সিএনএন।

/এএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ